{{ news.section.title }}
পশু-পাখির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কি ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে? অনুসন্ধান যা জানায়!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা প্রায় কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই আঘাত হানে। কয়েক সেকেন্ডের কম্পনেই বদলে যেতে পারে মানুষের জীবন, শহরের চেহারা,এমনকি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ। তাই মানুষের চিরন্তন কৌতূহল ভূমিকম্প নিয়ে। আমাদের প্রায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কখন ভূমিকম্প হতে পারে তা কি কেউই আগে থেকে বোঝতে পারে না? এই প্রশ্নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে আরেকটি রহস্যময় ধারণা। কিছু প্রাণী নাকি ভূমিকম্পের কয়েক দিন আগেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। এমনকি অনেকের দাবি কিছু প্রাণী ৭ দিন আগেই বিপদের আভাস পায়। কিন্তু এই ধারণা কতটা সত্য? বিজ্ঞান কী বলছে? চলুন জেনে নেয়া যাক।
মানুষের আগেই প্রাণীরা টের পায় এই বিশ্বাসের উৎস কোথা থেকে!
ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা নিয়ে প্রাণীদের ভূমিকা কোনো আধুনিক ধারণা নয়। প্রাচীন সভ্যতার নথিতেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, বড় ভূমিকম্পের আগে মানুষ লক্ষ্য করেছে, কুকুর অস্বাভাবিকভাবে ঘেউঘেউ করছে, পাখি দল বেঁধে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ইঁদুর বা সাপ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো বারবার ঘটায় মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রাণীরা কি এমন কিছু অনুভব করতে পারে, যা মানুষের ইন্দ্রিয়ের বাইরে?
৭ দিন আগে টের পাওয়ার দাবির বাস্তবতা:
অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে বা লোকমুখে শোনা যায়,অমুক বা তমুক প্রাণী ভূমিকম্পের ৭ দিন আগেই বুঝে ফেলে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি এত সরল নয়। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি যে কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী নির্ভুলভাবে ৭ দিন আগে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এটাও অস্বীকার করেন না যে ভূমিকম্পের আগে কিছু প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
প্রাণীরা কী অনুভব করতে পারে, যা মানুষ পারে না?
ভূমিকম্প হওয়ার আগে পৃথিবীতে নানা ধরনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে। এগুলো মানুষের ইন্দ্রিয় দিয়ে বোঝা কঠিন হলেও কিছু প্রাণীর জন্য তা অনুভবযোগ্য হতে পারে।
প্রথমত, ভূমিকম্পের আগে মাটির ভেতরে খুব দুর্বল কম্পন বা নিম্নমাত্রার শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয়। মানুষ এগুলো সাধারণত অনুভব করতে পারে না। কিন্তু অনেক প্রাণীর শ্রবণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়।
দ্বিতীয়ত, ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের চাপে বিদ্যুৎচৌম্বকীয় পরিবর্তন বা গ্যাস নিঃসরণ ঘটতে পারে। কিছু প্রাণী এই পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল বলে ধারণা করা হয়।
তৃতীয়ত, ভূমিকম্পের আগে পানির গুণগত মান বা তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা জলজ প্রাণীরা দ্রুত টের পায়।
কোন কোন প্রাণীর আচরণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়?
☞ কুকুর ও বিড়াল: কুকুরকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আনা হয়। ভূমিকম্পের আগে অনেক কুকুরকে অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার করা, লুকানোর চেষ্টা করা বা দৌড়াতে দেখা গেছে বলে মানুষের অভিজ্ঞতা আছে। বিড়ালের ক্ষেত্রেও হঠাৎ উত্তেজিত বা আতঙ্কিত আচরণ লক্ষ্য করা গেছে অনেকসময়।
☞ পাখি: ভূমিকম্পের আগে অনেক এলাকায় পাখিদের দল বেঁধে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পাখিরা দিকনির্ণয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে বলে ধারণা করা হয়, তাই পরিবেশের পরিবর্তন তাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
☞ সাপ ও ইঁদুর: মাটির নিচে বসবাসকারী প্রাণীদের আচরণ বিশেষভাবে নজরে আসে। ভূমিকম্পের আগে সাপ বা ইঁদুরের গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসার ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্য করা হয়েছে।
☞ মাছ ও জলজ প্রাণী: পুকুর, নদী বা অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ ভূমিকম্পের আগে অস্বাভাবিকভাবে সাঁতার কাটতে পারে বলেও শোনা যায়। পানির ভেতরের চাপ বা কম্পনের পরিবর্তন তারা দ্রুত অনুভব করতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে প্রাণীদের আচরণ ও ভূমিকম্পের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা আছে। প্রাণীদের আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, শব্দ, শিকারির উপস্থিতি বা পরিবেশগত চাপ। ফলে কোনো একটি আচরণকে সরাসরি ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত করা কঠিন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করেছে, কিন্তু ভূমিকম্প হয়নি। আবার ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু আগে কোনো স্পষ্ট আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিজ্ঞানীরা এখনো বলতে পারেন না প্রাণীরা নির্দিষ্ট সময় আগে, যেমন, ৭ দিন আগে, নিশ্চিতভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে।
পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আগ্রহের একেবারে বাহিরে নয়। কারণ প্রাণীরা যদি সত্যিই কোনো প্রাকৃতিক সংকেত আগেভাগে অনুভব করতে পারে, তবে তা ভবিষ্যতের দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বর্তমানে কিছু দেশে গবেষকরা প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ভূকম্পন, ভূগর্ভস্থ গ্যাস ও বৈদ্যুতিক পরিবর্তনের তথ্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য একটাই এই আচরণগুলো কাকতালীয়, না কি প্রকৃত কোনো ইঙ্গিত!
এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এখনো মূলত যন্ত্রনির্ভর। সিসমোগ্রাফ, ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থাই মানুষের প্রধান ভরসা। প্রাণীদের আচরণ লক্ষ্য করা কৌতূহলোদ্দীপক এবং গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধুমাত্র সেটির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।
কোনো একটি প্রাণী ৭ দিন আগেই নিশ্চিতভাবে ভূমিকম্প টের পায়, এমন দাবির পক্ষে এখনো শক্ত প্রমাণ নেই। তবে এটাও সত্য, ভূমিকম্পের আগে প্রকৃতিতে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা কিছু প্রাণীর আচরণে প্রতিফলিত হতে পারে। এই বিষয়টি বিজ্ঞান ও কৌতূহলের মাঝামাঝি একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো ভবিষ্যতের গবেষণা আমাদের আরও স্পষ্ট উত্তর দেবে। ততদিন পর্যন্ত বলা যায়, প্রাণীরা প্রকৃতির অনেক সংকেত মানুষের আগেই অনুভব করতে পারে, কিন্তু সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস হিসেবে ধরা এখনো নিরাপদ নয়। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে তাই মানুষের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হবে সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা।
ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা নিয়ে প্রাণীদের ভূমিকা কোনো আধুনিক ধারণা নয়। প্রাচীন সভ্যতার নথিতেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, বড় ভূমিকম্পের আগে মানুষ লক্ষ্য করেছে, কুকুর অস্বাভাবিকভাবে ঘেউঘেউ করছে, পাখি দল বেঁধে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ইঁদুর বা সাপ গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো বারবার ঘটায় মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, প্রাণীরা কি এমন কিছু অনুভব করতে পারে, যা মানুষের ইন্দ্রিয়ের বাইরে?
৭ দিন আগে টের পাওয়ার দাবির বাস্তবতা:
অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে বা লোকমুখে শোনা যায়,অমুক বা তমুক প্রাণী ভূমিকম্পের ৭ দিন আগেই বুঝে ফেলে। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি এত সরল নয়। এখন পর্যন্ত কোনো গবেষণাই নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি যে কোনো নির্দিষ্ট প্রাণী নির্ভুলভাবে ৭ দিন আগে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এটাও অস্বীকার করেন না যে ভূমিকম্পের আগে কিছু প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
প্রাণীরা কী অনুভব করতে পারে, যা মানুষ পারে না?
ভূমিকম্প হওয়ার আগে পৃথিবীতে নানা ধরনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে। এগুলো মানুষের ইন্দ্রিয় দিয়ে বোঝা কঠিন হলেও কিছু প্রাণীর জন্য তা অনুভবযোগ্য হতে পারে।
প্রথমত, ভূমিকম্পের আগে মাটির ভেতরে খুব দুর্বল কম্পন বা নিম্নমাত্রার শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয়। মানুষ এগুলো সাধারণত অনুভব করতে পারে না। কিন্তু অনেক প্রাণীর শ্রবণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়।
দ্বিতীয়ত, ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের চাপে বিদ্যুৎচৌম্বকীয় পরিবর্তন বা গ্যাস নিঃসরণ ঘটতে পারে। কিছু প্রাণী এই পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল বলে ধারণা করা হয়।
তৃতীয়ত, ভূমিকম্পের আগে পানির গুণগত মান বা তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, যা জলজ প্রাণীরা দ্রুত টের পায়।
কোন কোন প্রাণীর আচরণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়?
☞ কুকুর ও বিড়াল: কুকুরকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আনা হয়। ভূমিকম্পের আগে অনেক কুকুরকে অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার করা, লুকানোর চেষ্টা করা বা দৌড়াতে দেখা গেছে বলে মানুষের অভিজ্ঞতা আছে। বিড়ালের ক্ষেত্রেও হঠাৎ উত্তেজিত বা আতঙ্কিত আচরণ লক্ষ্য করা গেছে অনেকসময়।
☞ পাখি: ভূমিকম্পের আগে অনেক এলাকায় পাখিদের দল বেঁধে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পাখিরা দিকনির্ণয়ে চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে বলে ধারণা করা হয়, তাই পরিবেশের পরিবর্তন তাদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
☞ সাপ ও ইঁদুর: মাটির নিচে বসবাসকারী প্রাণীদের আচরণ বিশেষভাবে নজরে আসে। ভূমিকম্পের আগে সাপ বা ইঁদুরের গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে আসার ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্য করা হয়েছে।
☞ মাছ ও জলজ প্রাণী: পুকুর, নদী বা অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ ভূমিকম্পের আগে অস্বাভাবিকভাবে সাঁতার কাটতে পারে বলেও শোনা যায়। পানির ভেতরের চাপ বা কম্পনের পরিবর্তন তারা দ্রুত অনুভব করতে পারে।
গবেষণা কী বলছে?
বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে প্রাণীদের আচরণ ও ভূমিকম্পের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা আছে। প্রাণীদের আচরণ অস্বাভাবিক হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, শব্দ, শিকারির উপস্থিতি বা পরিবেশগত চাপ। ফলে কোনো একটি আচরণকে সরাসরি ভূমিকম্পের সঙ্গে যুক্ত করা কঠিন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রাণী অস্বাভাবিক আচরণ করেছে, কিন্তু ভূমিকম্প হয়নি। আবার ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু আগে কোনো স্পষ্ট আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এই অনিশ্চয়তার কারণেই বিজ্ঞানীরা এখনো বলতে পারেন না প্রাণীরা নির্দিষ্ট সময় আগে, যেমন, ৭ দিন আগে, নিশ্চিতভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে।
পুরোপুরি নিশ্চিত প্রমাণ না থাকলেও বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আগ্রহের একেবারে বাহিরে নয়। কারণ প্রাণীরা যদি সত্যিই কোনো প্রাকৃতিক সংকেত আগেভাগে অনুভব করতে পারে, তবে তা ভবিষ্যতের দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
বর্তমানে কিছু দেশে গবেষকরা প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে ভূকম্পন, ভূগর্ভস্থ গ্যাস ও বৈদ্যুতিক পরিবর্তনের তথ্য মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। লক্ষ্য একটাই এই আচরণগুলো কাকতালীয়, না কি প্রকৃত কোনো ইঙ্গিত!
এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস এখনো মূলত যন্ত্রনির্ভর। সিসমোগ্রাফ, ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ এবং আধুনিক সতর্কতা ব্যবস্থাই মানুষের প্রধান ভরসা। প্রাণীদের আচরণ লক্ষ্য করা কৌতূহলোদ্দীপক এবং গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধুমাত্র সেটির ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।
কোনো একটি প্রাণী ৭ দিন আগেই নিশ্চিতভাবে ভূমিকম্প টের পায়, এমন দাবির পক্ষে এখনো শক্ত প্রমাণ নেই। তবে এটাও সত্য, ভূমিকম্পের আগে প্রকৃতিতে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা কিছু প্রাণীর আচরণে প্রতিফলিত হতে পারে। এই বিষয়টি বিজ্ঞান ও কৌতূহলের মাঝামাঝি একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো ভবিষ্যতের গবেষণা আমাদের আরও স্পষ্ট উত্তর দেবে। ততদিন পর্যন্ত বলা যায়, প্রাণীরা প্রকৃতির অনেক সংকেত মানুষের আগেই অনুভব করতে পারে, কিন্তু সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বাভাস হিসেবে ধরা এখনো নিরাপদ নয়। ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে তাই মানুষের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হবে সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা।