রোজকার ডাল-ভাতে পাহাড়ি স্বাদ পেতে চান? জানুন নেপালিয়ান থাকালির গোপন রেসিপি!

রোজকার ডাল-ভাতে পাহাড়ি স্বাদ পেতে চান? জানুন নেপালিয়ান থাকালির গোপন রেসিপি!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন অথচ 'থাকালি সেট' খাননি? তাহলে আপনার হিমালয় জয়ের স্বাদ অপূর্ণই রয়ে গেল! ঝরঝরে ভাত, হাতে বাটা মসলায় রান্না করা খাসির মাংস, আর পাহাড়ি ঘিয়ে ভাজা ডাল সব মিলিয়ে এক রাজকীয় আয়োজন। এটি কেবল একটি থালি নয়, বরং নেপালি ঐতিহ্যের এক পরম তৃপ্তির নাম। নেপালের মোস্তফা অঞ্চলের থালি সম্প্রদায় থেকে আসা এই থাকালি সেট এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উপকারিতা:
থাকালি সেটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর পুষ্টি ভারসাম্য। এক প্লেটে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং আয়রন মিলিতভাবে পাওয়া যায়। ভাত বা রুটির মাধ্যমে শরীর পায় পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট, যা শক্তি জোগায়। ডাল বা মাংস দিয়ে পাওয়া প্রোটিন পেশী গঠনে সাহায্য করে। শাকসবজি ও আচারে থাকে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এবং মিনারেল, যা রক্তশূন্যতা কমায় এবং ইমিউনিটি বাড়ায়।

রেসিপি:

১. নেপালি সাদা ভাত (সাজের ভাত) আধা সিদ্ধ করে রেখে দিন।

২. মাস বা মসুর ডাল ধুয়ে হালকা ফোঁড়ন দিয়ে ২০–২৫ মিনিট সিদ্ধ করুন। স্বাদ অনুযায়ী লবণ ও হলুদ দিন।

৩. পালং বা লাল শাক হালকা তেলে ভেজে লবণ ও রসুন দিয়ে মাখানো হয়।

৪. আচারের জন্য মূলত লাল মরিচ, হলুদ, রসুন, আদা ও লেবুর রস দিয়ে তাজা আচার তৈরি করা হয়।

৫. থালা অনুযায়ী মুরগির টুকরো, মাছ বা সোয়াবিনের সংমিশ্রণ থাকে। মাংস হলে লবণ, মরিচ, আদা-রসুন পেস্টে ম্যারিনেট করে ভাজা বা সেদ্ধ করা হয়।

থাকালি সেটের বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধুই খাওয়ার জন্য নয়, বরং খাবারের সৌন্দর্য এবং স্বাদও বজায় রাখে। সব উপাদান একসাথে পরিবেশন করলে খাবারটি দেখতেও ভালো লাগে, আর খেতেও আনন্দদায়ক লাগে।

খাওয়ার টিপস:

ছোট ছোট ভাগে খাবার নিন, একবারে সব খাবার না খেয়ে ধীরে ধীরে ভিন্ন ভিন্ন পদ স্বাদ করুন।ডালের সঙ্গে ভাত মেশালে প্রোটিন ও কার্বের ভারসাম্য আরও ভালো হয়। আচারের সঙ্গে একটু ভাজা মাংস বা শাক খেলে হজমও সহজ হয়।

নেপালের পাহাড়ের জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী এই থাকালি সেট অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ। এটি তাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারার সুষম সমন্বয়ও তুলে ধরে। যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি সহজ এবং শক্তি-বর্ধক খাবার।


সম্পর্কিত নিউজ