{{ news.section.title }}
হঠাৎ কেন বদলায় নারীর মেজাজ? মুড সুইংয়ের পেছনের কারণ ও সঠিক সমাধান!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
নারীর মেজাজ বা মুড হুটহাট পরিবর্তন হওয়া নিয়ে সমাজে অনেক প্রচলিত কথা বা রসিকতা থাকলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে এর পেছনে রয়েছে গভীর শারীরিক ও মানসিক কারণ। গবেষকদের মতে, এটি কোনো নিছক খামখেয়ালি নয়, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক পরিবর্তনের এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
মেজাজ পরিবর্তনের মূল কারণসমূহ:
১. হরমোনাল পরিবর্তন: মহিলাদের মাসিক চক্রে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন-এর ওঠা-নামা ঘটে। ফলে দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ, রাগ বা বিরক্তি, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা বা মন খারাপ দেখা দিতে পারে।
২. স্ট্রেস ও কাজের চাপ: অনেকসময় পরিবার, কাজ, দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নারীর শরীরের কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বেড়ে যায়।ফলে মুড হঠাৎ পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. ঘুমের ঘাটতি: কম ঘুম হলে মস্তিষ্কের হরমোন ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ফলে বিরক্তিভাব, আবেগের ওঠানামা বেশি হয়।
৪. পুষ্টির ঘাটতি: আয়রন, ভিটামিন D, B12 কম থাকলে শরীর ক্লান্ত থাকে। ফলে মুড সুইং বেড়ে যায়।
৫. মানসিক চাপ ও আবেগ: নারীর আবেগপ্রবণ হওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক শক্তি। ছোট ছোট ঘটনা সহজেই মনকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রতিকার ও করণীয়:
১. কথা বলুন। নিজের অনুভূতি চেপে না রেখে ভাগ করুন। চাপ কমে এবং মন শান্ত হয়।
২. সেলফ-কেয়ারকে অগ্রাধিকার দিন। গরম পানি দিয়ে গোসল, হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম
পছন্দের বই পড়া ইত্যাদি ব্রেইনকে স্ট্যাবল করতে সাহায্য করে।
৩. পর্যাপ্ত অর্থাৎ ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। কম ঘুম মানে মুডের ওঠানামা বেশি।
৪. পুষ্টিকর খাবার, যেমন- আয়রন, B12, ম্যাগনেসিয়াম ও ফলমূল মুড স্ট্যাবলাইজ করতে সহায়ক।
৫. নিজের সময় নিন। দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন। এতে মন শান্ত হয় এবং ব্রেইন রিসেট হয়।
৬. পরিবারের বোঝাপড়া বাড়ান। নারীর মুড পরিবর্তন অযৌক্তিক কিছু নয়, এটি বায়োলজিকাল। সহযোগিতা ও সহমর্মিতা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নারীর মুডের ওঠানামা কোনো ভুল বা দুর্বলতা নয়। এটি শরীর ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বোঝাপড়া, যত্ন এবং সঠিক জীবনধারার মাধ্যমে নারীর মনকে স্থির রাখা যায় এবং সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও শক্তিশালী করা সম্ভব।