অপ্রয়োজনীয় জিনিস বর্জনই কি সুখের চাবিকাঠি? শিখুন মিনিমালিজমের কৌশল!

অপ্রয়োজনীয় জিনিস বর্জনই কি সুখের চাবিকাঠি? শিখুন মিনিমালিজমের কৌশল!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আমাদের চারপাশে যত বেশি অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড়, আমাদের মনের ভেতরেও তত বেশি অস্থিরতা। এই তত্ত্বে বিশ্বাসী হয়ে বিশ্বজুড়ে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে এক নতুন জীবনধারা, ‘মিনিমালিজম’ (Minimalism)। এর মূল কথা হলো, ‘Less is More’ বা কমেই আসল সমৃদ্ধি।

মিনিমালিজম কি?

মিনিমালিজম (Minimalism) হলো এমন জীবনধারা যেখানে আমরা শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিস এবং অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিই। আশেপাশের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং তথ্যের বন্যা আমাদের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে, যা মনোযোগ কমায় এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। মিনিমালিজম এই স্থানকে পরিষ্কার করে, ফোকাস বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। কিন্তু আলমারি ভর্তি জামাকাপড় আর ঘরের কোণে জমে থাকা শৌখিন জিনিস কমিয়ে ফেললেই কি জীবন সত্যিই সুন্দর হয়?

​মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মিনিমালিজম কেবল ঘর গোছানোর পদ্ধতি নয়, বরং এটি একটি মানসিক ডিসিপ্লিন। যখন আমরা আমাদের চারপাশ থেকে অপ্রয়োজনীয় আসবাব, পোশাক বা ডিজিটাল আবর্জনা যেমন- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বা নোটিফিকেশন সরিয়ে ফেলি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত জিনিস মানুষের মনে ‘কর্টিসোল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ।

​মিনিমালিজম আমাদের শেখায় কেবল সেই জিনিসগুলোকেই নিজের কাছে রাখতে, যা আমাদের আনন্দ দেয় বা সত্যিই কাজে লাগে। এর ফলে যেমন অর্থের অপচয় কমে, তেমনি বাঁচে সময়,যা আপনি ব্যয় করতে পারেন নিজের প্রিয়জন কিংবা নিজের শখের পেছনে। জমানোর ইঁদুর দৌড় থেকে মুক্তি পেয়ে জীবনকে নতুন করে উপভোগ করার নামই মূলত মিনিমালিজম।

কিভাবে মিনিমালিজম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকর?

১. মানসিক চাপ কমায়: একটি বিশৃঙ্খল পরিবেশে থাকার ফলে আমাদের মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে সবকিছু মনেই রাখে। যখন আমরা জিনিসপত্র এবং বাধ্যতামূলক কাজগুলো কমাই, তখন মস্তিষ্কের অবচেতন চাপও কমে। গবেষণায় দেখা গেছে,  পরিষ্কার পরিবেশে মানসিক চাপ কমে যায় এবং মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

. ফোকাস বৃদ্ধি করে: যখন আমাদের চারপাশে কম অপ্রয়োজনীয় জিনিস থাকে, মনোযোগ সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে কেন্দ্রীভূত হয়। কাজের সময় একাগ্রতা বাড়ে এবং সৃজনশীলতা বাড়ে। মিনিমালিজম আমাদের মস্তিষ্ককে “ডেটা ওভারলোড” থেকে রক্ষা করে।

৩. আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে: মিনিমালিজম মানে কেবল জিনিস কমানো নয়, এটি মানসিক সচেতনতা তৈরি করে। আমরা কেন কিছু চাই, কেন কিছু রাখি বা ফেলি এই প্রশ্নগুলো আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক সচেতনতা বাড়ায়।

. মানসিক প্রশান্তি ও সুখ: একটি পরিচ্ছন্ন ও সরল জীবনধারা মস্তিষ্কের অব্যবস্থাকে কমায়। অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া, এবং বাজে তথ্যের চাপ কমালে আমরা কম উদ্বিগ্ন থাকি।  কিন্তু মিনিমালিস্ট জীবনধারায় এই প্রবণতা অনেকাংশে কমে।

কিভাবে শুরু করবেন মিনিমালিজম?

প্রথমে নিজের চারপাশের অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর তালিকা তৈরি করুন। ব্যবহার হয় না এমন জিনিসগুলো দান বা বিক্রি করুন। দৈনন্দিন জীবন ও কাজের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল নোটিফিকেশন কমান। কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় এবং প্রিয় জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করুন। নিজের সময় ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দিন, জিনিসপত্রকে নয়।

অপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং চিন্তা দূর করলে মস্তিষ্কের ক্লিয়ারিটি বাড়ে, মানসিক চাপ কমে এবং জীবন সহজ ও আনন্দময় হয়ে ওঠে। তাই আজই একটি জিনিস ফেলে দিন, অপ্রয়োজনীয় অডিওবা ভিডিও বা ইমেল বন্ধ করুন, এবং দেখুন কীভাবে শান্তি, ফোকাস এবং আনন্দ আপনার জীবনে ফিরে আসে।
 


সম্পর্কিত নিউজ