{{ news.section.title }}
মা হওয়ার খবর জানেন না মা নিজেই! ক্রিপ্টিক প্রেগনেন্সির কারণ ও লক্ষণ জানুন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত একজন নারী কোনোভাবেই বুঝতে পারলেন না যে তিনি গর্ভবতী, শুনতে কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য বা অলৌকিক ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি বাস্তব সত্য, যার নাম ‘ক্রিপ্টিক প্রেগন্যান্সি’ (Cryptic Pregnancy)।এই ঘটনা এতটাই রহস্যময় যে অনেক সময় আত্মীয়স্বজন, পরিবার কিংবা চিকিৎসকও আগে থেকে নিশ্চিত হতে পারেন না। জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘আই ডিডন্ট নো আই ওয়াজ প্রেগন্যান্ট’-এ এমন অনেক নারীর গল্প উঠে এসেছে, যারা প্রসববেদনা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বিন্দুমাত্র টের পাননি যে তাদের ভেতরে একটি প্রাণ বড় হচ্ছে।
সাধারণত, মহিলারা গর্ভাবস্থার প্রথম ৪–১২ সপ্তাহের মধ্যে নিজেই বুঝতে পারেন। কারণ এই সময়ে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। শারীরিক পরিবর্তন যেমন স্থুলতা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, খাদ্য অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি দেখা দেয়। তবে ক্রিপ্টিক প্রেগনেন্সিতে এগুলো প্রকাশ পায় না। কারো কারো ক্ষেত্রে মাসিকও বন্ধ না হওয়ায় গর্ভাবস্থা সন্দেহ হয় না। কেউ pseudo-menstrual bleeding বা ‘মিথ্যা মাসিক’ অনুভব করতে পারেন, যা গর্ভাবস্থার সময় হওয়া অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ। এই অবস্থায় নারী নিজেই বিভ্রান্ত থাকেন, এবং প্রায়শই তাকে মনে হয় সবকিছু স্বাভাবিক।
কেন অলক্ষ্যে থেকে যায় এই গর্ভাবস্থা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো অলৌকিক কিছু না বরং শরীর ও মনের কিছু বিশেষ অবস্থার সমন্বয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো-
☞ ভুল ঋতুস্রাব: অনেক নারী গর্ভাবস্থায় হালকা রক্তপাতকে নিয়মিত পিরিয়ড ভেবে ভুল করেন। ফলে গর্ভধারণের প্রাথমিক লক্ষণটি তাদের নজরে আসে না।
☞ লক্ষণহীন শারীরিক পরিবর্তন: গর্ভাবস্থার চিরাচরিত উপসর্গ, যেমন- সকালবেলায় বমি ভাব (Morning Sickness), স্তন সংবেদনশীলতা কিংবা পেটের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে না।
☞ শিশুর নড়াচড়া আড়াল হওয়া: প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল যদি জরায়ুর সামনের দিকে থাকে (Anterior Placenta), তবে শিশুর নড়াচড়া টের পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
☞ হরমোনের জটিলতা: যাদের PCOS বা পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার পূর্ব ইতিহাস আছে, তারা মাসিক বন্ধ হওয়াকে গর্ভাবস্থা হিসেবে গুরুত্ব দেন না।
পরিসংখ্যানের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
২০২৩ সালের এক গবেষণায় এই ঘটনার প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে অবাক করা তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি ৪৭৫ জন গর্ভবতীর মধ্যে ১ জন ২০ সপ্তাহের আগে নিজের অবস্থা জানতে পারেন না। প্রতি ৭,২২৫ জন মায়ের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা প্রসবের মুহূর্ত পর্যন্ত অজানাই থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গর্ভাবস্থা মানেই যে সবসময় বড় পেট বা বমি ভাব হবে, এরকম ধারণা থেকে বেরিয়ে আসাটা জরুরি। শরীরের গঠন ও হরমোনের তারতম্য যেকোনো গর্ভাবস্থাকে আড়াল করতে পারে। তাই পিরিয়ডে অনিয়ম বা শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনে ঘরে পরীক্ষা করার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ক্রিপ্টিক প্রেগনেন্সি শুধুই বিরল নয়, এটি দেখায় যে মানব দেহ কতটা জটিল এবং কখনও কখনও স্বাভাবিক লক্ষণও রহস্যময় হতে পারে।