{{ news.section.title }}
মহাকাশে হইচই! সোলার অর্বিটার শনাক্ত করল সূর্যের চৌম্বক ক্ষেত্র
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই সূর্য পৃথিবীর আলোকবর্তিকা। কিন্তু এই নক্ষত্রের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রচণ্ড শক্তিশালী চৌম্বকীয় তাণ্ডব বরাবরই বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। সূর্যের এই বিশাল চুম্বকীয় ক্ষেত্র বা ম্যাগনেটিক ফিল্ড কেবল সৌরজগৎকে ধরে রাখছে না, বরং শক্তিশালী সৌর ঝড় এবং বৈদ্যুতিক বিকিরণের মাধ্যমে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করছে আমাদের পৃথিবীর প্রযুক্তি ও জলবায়ুকে। সূর্যের এই লুকানো রহস্য ভেদ করতে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA) ও নাসার যৌথ প্রচেষ্টায় পরিচালিত সোলার অর্বিটার মিশন এখন ইতিহাসের দোরগোড়ায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই মহাকাশযানটি সূর্যের ইতিহাসের সবচেয়ে কাছের এবং দুর্গম উচ্চ-ল্যাটিটিউড অঞ্চলে পৌঁছে সরাসরি পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। আগে যা ছিল কেবল গাণিতিক অনুমান, সোলার অর্বিটারের অত্যাধুনিক সেন্সর এখন তা দিচ্ছে চাক্ষুষ প্রমাণ। সূর্যের মেরু অঞ্চলের চৌম্বকীয় রেখাগুলো কীভাবে তৈরি হয় এবং কেন নির্দিষ্ট সময় পরপর সূর্যের মেরুদ্বয় নিজেদের জায়গা অদলবদল করে সেই মহাজাগতিক প্রশ্নের উত্তর এখন বিজ্ঞানীদের হাতের মুঠোয়।
সূর্যের চুম্বকীয় ক্ষেত্র তার একাডেমিক এবং আবহবৈজ্ঞানিক প্রভাবের জন্য অপরিহার্য। এটি সৌর দাগ, সৌর ঝড় এবং করোনাল হোলের উৎপত্তির নিয়ন্ত্রণ করে। চুম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিবর্তন আমাদের পৃথিবীর জ্যোতির্বৈদ্যুতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলে, যা স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সোলার অর্বিটারের তথ্য দেখিয়েছে, সূর্যের চুম্বকীয় ক্ষেত্র কোনো একক ধ্রুবক নিয়মে পরিবর্তিত হয় না। বরং এটি সূর্যের অভ্যন্তরীণ চক্র, ঘূর্ণন এবং প্লাজমার গতির সঙ্গে জটিলভাবে যুক্ত। এই নতুন তথ্য গবেষকদের জন্য একটি বিশাল ডাটাবেস সরবরাহ করেছে, যা সৌর আবহবৈজ্ঞানিক মডেলকে আরও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।
সূর্য থেকে নির্গত হওয়া প্লাজমা ও চুম্বকীয় ফ্লেয়ার বা সৌর ঝড় কখনও কখনও পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে স্যাটেলাইট এবং কমিউনিকেশন সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। সোলার অর্বিটার এই ঝড়ের উৎপত্তি এবং শক্তি স্তরের অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করেছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ মহাকাশ অভিযান এবং স্যাটেলাইট পরিচালনার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।
সোলার অর্বিটারের যন্ত্রপাতি বেশ অত্যাধুনিক। এটি সূর্যের পৃষ্ঠের চুম্বকীয় লাইন, সৌর কণার বেগ, তাপমাত্রা এবং প্লাজমার চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তার কক্ষে স্থাপিত আলোক-প্রতিরোধী সানশিল্ড সূর্যের তীব্র আলো থেকে যন্ত্রকে রক্ষা করে, যাতে সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হয়।
ফলাফল ও প্রভাব:
সৌর চুম্বকীয় ক্ষেত্রের অপ্রত্যাশিত ঘূর্ণন এবং পুনর্গঠন দেখা গেছে এবং সৌর ঝড়ের উৎপত্তির নির্দিষ্ট স্থান এবং সময় সম্পর্কে পূর্বাভাস করা সহজ হয়েছে। সৌর আবহবৈজ্ঞানিক মডেল উন্নত হয়েছে, যা পৃথিবীর বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়।
এই মিশনের সাফল্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করার পাশাপাশি, ভয়াবহ সৌর ঝড় থেকে পৃথিবীর স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পাওয়ার গ্রিডকে রক্ষা করার আগাম সংকেতও দেবে। আগুনের গোলক সূর্যের একদম গভীরে বিজ্ঞানের এই দুঃসাহসিক অভিযান মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে চলেছে।