{{ news.section.title }}
স্পাইডার প্ল্যান্ট বংশবিস্তারের সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায়
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ঘরের কোণে, জানালার ধারে কিংবা বারান্দার হালকা আলোয় যে গাছটি খুব কম যত্নেই সতেজ থাকে, তার নাম স্পাইডার প্ল্যান্ট। লম্বা সরু পাতার ফাঁক দিয়ে ঝুলে থাকা ছোট ছোট বাচ্চা গাছগুলো যেন নিজেই জানিয়ে দেয় যে, এই গাছকে বাড়ানো খুব একটা কঠিন নয়। বরং প্রকৃতি নিজেই এখানে বংশবিস্তারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। একটু সচেতন হলেই একটি গাছ থেকে অল্প সময়ের মধ্যে অনেকগুলো নতুন নতুন চারা তৈরি করা সম্ভব!
স্পাইডার প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম Chlorophytum comosum। এটি এমন একটি ঘরোয়া গাছ, যা আলো–বাতাসের মাঝামাঝি পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেয় এবং খুব দ্রুত নতুন ‘পাপস’ বা ছোট গাছ তৈরি করে। এই পাপ থেকেই হয় নতুন চারা।
কেন স্পাইডার প্ল্যান্ট এত সহজে বংশবিস্তার করে
এই গাছের বিশেষত্ব হলো, পরিপক্ব হলে এটি লম্বা ডাল বের করে, আর সেই ডালের আগায় ছোট ছোট সম্পূর্ণ গঠিত গাছ তৈরি হয়। এই ছোট গাছগুলোর পাতাও থাকে, শিকড় বের হওয়ার প্রস্তুতিও থাকে। অর্থাৎ, আলাদা করে বীজ বা কাটিংয়ের ঝামেলা নেই।
সঠিক সময় নির্বাচন:
স্পাইডার প্ল্যান্ট সারা বছরই বংশবিস্তার করতে পারে, তবে তুলনামূলক উষ্ণ ও আর্দ্র সময়ে, যেমন- বসন্ত, বর্ষা বা শরৎকালে এটি দ্রুত শিকড় গজায়। শীতকালে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। যখন দেখবেন ছোট গাছটির নিচে ক্ষুদ্র সাদা শিকড়ের মতো অংশ বের হতে শুরু করেছে, তখনই সেটি আলাদা করার উপযুক্ত সময়।
মাটিতে সরাসরি রোপণ:
এটি সবচেয়ে সহজ এবং সফল পদ্ধতি।
প্রথমে একটি ছোট টব নিন, ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করুন। দোআঁশ মাটি, সামান্য জৈব সার এবং একটু কোকোপিট বা বালি মিশিয়ে নিলে আরও ভালো হয়। এরপর মা গাছের সঙ্গে যুক্ত থাকা অবস্থাতেই ছোট গাছটিকে সেই টবের মাটির ওপর বসিয়ে হালকা চেপে দিন। কয়েকদিনের মধ্যেই সেই ছোট গাছটি নতুন মাটিতে শিকড় ছড়িয়ে দেবে। শিকড় শক্ত হলে তখন মা গাছের সঙ্গে থাকা ডালটি কেটে আলাদা করে দিন। এই পদ্ধতিতে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে কম।
পানিতে শিকড় গজানো:
যদি আলাদা করে দ্রুত শিকড় দেখতে চান, তাহলে ছোট গাছটি ডাল থেকে কেটে নিয়ে একটি গ্লাস পানিতে রাখতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে পানিতে শুধু শিকড়ের অংশ ডুবাতে হবে, পাতা নয়। পানি দুই দিন পরপর বদলাতে হবে। এক গাছকে সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। ৭–১০ দিনের মধ্যে সাদা শিকড় স্পষ্ট দেখা যাবে। তখন সেটিকে মাটিতে রোপণের উপযোগী হয়।
সরাসরি কেটে মাটিতে বসানো:
ছোট গাছটিতে যদি শিকড়ের অংশ স্পষ্ট দেখা যায়, তাহলে সরাসরি ডাল কেটে সেটিকে মাটিতে বসিয়েও চারা করা যায়। তবে এই পদ্ধতিতে মাটি সবসময় হালকা ভেজা রাখতে হয়, যাতে শিকড় দ্রুত ছড়াতে পারে।
কোন মাটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে?
স্পাইডার প্ল্যান্টের শিকড় নরম এবং পানি জমে থাকলে পচে যেতে পারে। তাই পানি নিষ্কাশন ভালো হয় এমন ঝুরঝুরে মাটি দরকার। ভারী, কাদামাটি এড়িয়ে চলাই ভালো। মাটির ভেতরে বাতাস চলাচল করতে পারলেই শিকড় দ্রুত বাড়তে পারে।
আলো ও অবস্থান:
নতুন চারা সরাসরি রোদে রাখা উচিত নয়। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো সবচেয়ে উপযুক্ত। জানালার ধারে বা বারান্দার ছায়াযুক্ত জায়গা এ গাছের জন্য সবচেয়ে উত্তম।
পানি দেওয়ার নিয়ম:
মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিন। সবসময় ভেজা না রাখাই ভালো। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে, বিশেষ করে নতুন চারার ক্ষেত্রে।
কত দিনে নতুন গাছ স্থির হয়?
সাধারণত ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে নতুন চারা মাটিতে নিজেকে স্থির করে নেয়। এরপর খুব দ্রুত পাতা বাড়তে শুরু করে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই চারা আবার নতুন পাপস দিতে সক্ষম হয়।
স্পাইডার প্ল্যান্ট এমন একটি গাছ, যা নিজের বংশবিস্তার নিজেই সহজ করে দেয়। সামান্য যত্ন, সঠিক মাটি আর আলো পেলেই একটি গাছ থেকে অল্প সময়েই অনেকগুলো নতুন গাছ তৈরি করা যায়। বাগানপ্রেমীদের জন্য এটি একটি শোভাময় গাছ।