{{ news.section.title }}
সাফল্য পাওয়ার গোপন সূত্র: পিগমেলিয়ন এফেক্ট কাজে লাগানোর কার্যকর উপায় শিখুন!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আপনি কি জানেন, আপনার সম্পর্কে অন্য কারো ইতিবাচক ধারণা বা প্রত্যাশা আপনাকে বাস্তবেও অনেক বেশি সফল করে তুলতে পারে? আবার উল্টোদিকে, কারো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পারফরম্যান্সকে একদম তলানিতে নামিয়ে দিতে পারে। মনোবিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর ধারণাকেই বলা হয় পিগমেলিয়ন এফেক্ট (Pygmalion Effect)। এটি এমন এক মনস্তাত্ত্বিক শক্তি, যা প্রমাণ করে যে মানুষের প্রত্যাশা কেবল মনের কল্পনা নয়, এটি অন্যের বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে।
অফিসের বস, স্কুলের শিক্ষক কিংবা পরিবারের বড়দের প্রত্যাশা কীভাবে আমাদের অবচেতন মনকে প্রভাবিত করে এবং আমাদের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করে, পিগমেলিয়ন এফেক্ট হলো তারই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। নেতিবাচকতাকে দূরে ঠেলে কেবল বিশ্বাসের শক্তিতে কীভাবে সাফল্য নিশ্চিত করা যায় এবং কর্মক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত জীবনে এই তত্ত্ব প্রয়োগ করে কীভাবে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব, তা নিয়েই আমাদের এই বিশেষ আলোচনা।
পিগমেলিয়ন এফেক্ট কী?
এই ধারণার মূলে রয়েছে একটি মনস্তাত্ত্বিক চক্র। যখন কেউ আমাদের প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা রাখে, তখন আমরা অবচেতনভাবে সেই মান বজায় রাখতে সচেষ্ট হই। ১৯৬০-এর দশকে মনোবিজ্ঞানী রবার্ট রোজেনথাল এবং এলিনোর জ্যাকবসন গবেষণাগারে প্রমাণ করেন যে, শিক্ষকরা যদি কোনো ছাত্রকে মেধাবী বলে বিশ্বাস করেন, তবে সেই ছাত্রটি সত্যিই পরীক্ষায় ভালো ফল করে। এমনকি যদি সে আগে সাধারণ মানের ছাত্রও হয়ে থাকে। একে বলা হয় সেলফ-ফুলফিলিং প্রফেসি বা আত্ম-সার্থক ভবিষ্যদ্বাণী।
আমাদের আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণার সাথে প্রত্যাশা
ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। যখন কেউ আমাদের ওপর আস্থা দেখায়, তখন মস্তিষ্কে ডোপামিন (Dopamine) ও অন্যান্য নিউরোকেমিক্যাল সক্রিয় হয়। এটি আমাদের উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয় এবং লক্ষ্য অর্জনে মস্তিষ্ককে আরও অনেক বেশি ফোকাসড বা মনোযোগী করে তোলে।
নামকরণ:
গ্রিক পুরাণের ভাস্কর পিগমেলিয়নের নামানুসারে এই তত্ত্বের নামকরণ করা হয়েছে, যিনি নিজের তৈরি এক পাথরের মূর্তিকে এত বেশি ভালোবেসেছিলেন এবং প্রাণ পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত সেটি জীবন্ত হয়ে উঠেছিল।
প্রতিফলন:
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে এর প্রতিফলন।
পিগমেলিয়ন এফেক্ট কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রে কাজ করে। যেমন:
অফিস ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে, বস বা লিডার যদি দলের ওপর বিশ্বাস রাখেন, তবে কর্মীরা নতুন উদ্যমে চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী হয়।
আবার খেলাধুলায়, কোচের সামান্য উৎসাহ একজন খেলোয়াড়কে তার সীমার বাইরে গিয়ে সেরাটা দিতে উদ্বুদ্ধ করে। পারিবারিক জীবনে, সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তাদের মানসিক ও আচরণগত বিকাশে দারুণভাবে সহায়তা করে।
প্রত্যাশা বনাম চাপ:
আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রত্যাশা মানেই চাপ নয়। অবাস্তব প্রত্যাশা বা অত্যধিক চাপ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ভয় তৈরি করতে পারে। পিগমেলিয়ন এফেক্ট তখনই কার্যকর হয় যখন প্রত্যাশা হয় সহানুভূতিশীল, সমর্থনমূলক এবং বাস্তবসম্মত।
পিগমেলিয়ন এফেক্ট আমাদের জানায় যে, মানুষ কেবল তার নিজের ধারণা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। অন্যের বিশ্বাস মানুষের সম্ভাবনার রুদ্ধ দুয়ার খুলে দিতে পারে। আমাদের শব্দ, মনোভাব এবং আচরণ আমাদের চারপাশের পরিবেশকে বদলে দিতে সক্ষম। তাই চলুন, আমাদের চারপাশের মানুষদের ছোট না করে তাদের সম্ভাবনায় বিশ্বাস করি। কারণ, আপনার একটু বিশ্বাসই হয়তো কাউকে তার সীমানা ছাড়িয়ে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।