শনির বলয় কি হারিয়ে যাচ্ছে? নতুন তথ্যে বদলে যাচ্ছে সৌরজগতের ইতিহাস

শনির বলয় কি হারিয়ে যাচ্ছে? নতুন তথ্যে বদলে যাচ্ছে সৌরজগতের ইতিহাস
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

মহাকাশের বিশাল ক্যানভাসের সবচেয়ে সুন্দর চিত্রকর্মটির নাম বোধহয় শনি। তার কোমরে জড়ানো উজ্জ্বল বলয় বা রিং তাকে সৌরজগতের অন্য সব গ্রহ থেকে আলাদা এক আভিজাত্য দিয়েছে। কয়েক শতাব্দী ধরে এই বলয়গুলো আমাদের কাছে কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল, কিন্তু আধুনিক মহাকাশ গবেষণা বলছে অন্য কথা। নাসা’র ক্যাসিনি (Cassini) নভোযান থেকে পাওয়া তথ্য বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে। শনির এই গর্বের বলয়গুলো আসলে চিরস্থায়ী নয়, বরং এগুলো এক মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ যা কি না ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে!

বলয়ের বয়স নিয়ে বিতর্ক: 
​দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, শনির জন্মলগ্নেই (প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে) এই বলয়গুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু নাসার ক্যাসিনি (Cassini) মিশনের তথ্য এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কিছু বিজ্ঞানীর মতে, ডাইনোসররা যখন পৃথিবীতে রাজত্ব করত, তখনও সম্ভবত শনির এই বলয় সৃষ্টি হয়নি। ধূলিকণা কম থাকায় এগুলোকে বেশ তরুণ বা মাত্র কয়েকশ মিলিয়ন বছর পুরনো মনে হয়। অন্য একদল গবেষক দাবি করছেন, রিংগুলো আসলে নিজেদের এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার রাখে, তাই এগুলোকে নতুনের মতো দেখায়। তাদের মতে, এই বলয়গুলো শনির সমান বয়সীও হতে পারে।

​রিং রেইন ও বলয়ের অনিবার্য মৃত্যু:
​শনির এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক করুণ পরিণতির গল্প। গ্রহটির শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ বল এই বরফকণাগুলোকে বৃষ্টির মতো নিজের ওপর টেনে নিচ্ছে, যাকে রিং রেইন বলা হয়। ক্যাসিনি মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই পতন বা ধসের কারণে কয়েকশ মিলিয়ন বছর পর শনির এই উজ্জ্বল বলয়গুলো ম্লান হয়ে যাবে এবং একসময় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে।

​জটিল গঠন ও কোয়ান্টাম-নির্ভর ব্যবস্থা:
​শনির বলয়গুলো কোনো একঘেয়ে ডিস্ক নয়। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এবং ক্যাসিনি মিশনের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ​এগুলোর মধ্যে কোথাও ঘন গুটিকা, কোথাও লম্বা রঙের রেখা, আবার কোথাও মসৃণ টেক্সচার রয়েছে। ​রিংয়ের ভেতর থাকা ছোট ছোট উপগ্রহ বা মুনলেটগুলোর আকর্ষণ ও বিকর্ষণের কারণে এর গঠন প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা একে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং পরিবর্তনশীল সিস্টেম হিসেবে দেখছেন।

​শনি, এক গতিশীল গবেষণাগার!
​শনির বলয় কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সৌরজগতের বিবর্তনের এক জীবন্ত আর্কাইভ।এর রিংগুলোর গঠন প্রক্রিয়া দেখায়, কীভাবে আদি মহাকাশে ধূলিকণা থেকে গ্রহ ও উপগ্রহ তৈরি হয়। শনির উত্তর মেরুর ষড়ভুজাকৃতি  ঘূর্ণিঝড় এবং বায়ুমণ্ডলে আবিষ্কৃত ডার্ক বিডস বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। এগুলো গ্রহের আয়নোস্ফিয়ার ও স্ট্রাটোস্ফিয়ারের শক্তি বিনিময় নিয়ে করছে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন ।

​ মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুই পরিবর্তনশীল তা সে গ্রহই হোক বা তার বিশাল বলয়। এগুলো মহাকর্ষ আর সময়ের এক অনুপম নির্মাণশৈলী। পরবর্তী বার যখন আপনি রাতের আকাশে শনির দিকে তাকাবেন, মনে রাখবেন, আপনি কেবল একটি গ্রহ দেখছেন না, সাক্ষীও হচ্ছেন মহাকাশের এক জীবন্ত ইতিহাসের ।

 


সম্পর্কিত নিউজ