১ চিমটি কফি স্ক্রাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানোর ম্যাজিক শিখুন!

১ চিমটি কফি স্ক্রাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানোর ম্যাজিক শিখুন!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির সুগন্ধ যেমন মুহূর্তেই শরীর ও মনের সকল ক্লান্তি দূর করে মনকে চনমনে করে তোলে, তেমনি এক বাটি কফি স্ক্রাব আপনার প্রাণহীন ত্বকেও ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো জেল্লা। আধুনিক রূপচর্চায় কফি এখন আর কেবল ক্যাফেইনের উৎস নয়, নিস্তেজ ও মলিন ত্বকের এক শক্তিশালী প্রতিষেধক। অনেকেই ভাবেন কফি স্ক্রাব একটি প্রচলিত ট্রেন্ড, কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার ত্বককে সজীব করতে কফির এই ক্ষমতার পেছনে রয়েছে চমৎকার যুক্তি।

ত্বকের রক্তসঞ্চালন কেন গুরুত্বপূর্ণ
আমাদের ত্বক  অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তনালীর উপর নির্ভরশীল। এই রক্তনালীগুলো আমাদের ত্বকের কোষে অক্সিজেন, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় উপাদান পৌঁছে দেয়। যখন রক্তপ্রবাহ কমে যায়, তখন ত্বক নিস্তেজ, শুষ্ক ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মুখে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ার অন্যতম একটি কারণ হলো দুর্বল রক্তসঞ্চালন। রক্তসঞ্চালন ভালো হলে কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, কোষ পুনর্গঠন দ্রুত হয়, টক্সিন দ্রুত বের হয়ে যায় এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিকভাবে সক্রিয় করতে কফি স্ক্রাব কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কফির দানাদার গঠন ও মৃদু ঘর্ষণের প্রভাব:
কফির গুঁড়োর দানাগুলো খুব বেশি সূক্ষ্ম হলেও, সেগুলো যথেষ্ট কার্যকর এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। যখন মুখে কফি স্ক্রাব হালকা হাতে ম্যাসাজ করা হয়, তখন এটি ত্বকের উপরের মৃত কোষগুলো সরিয়ে ফেলে। এই ঘর্ষণ প্রক্রিয়া ত্বকের নিচে থাকা রক্তনালীগুলোকে সাময়িকভাবে উদ্দীপ্ত করে তোলে। এর ফলে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এটি ঠিক যেমন ব্যায়াম করলে শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়ে, তেমনি ত্বকের উপর নিয়ন্ত্রিত ঘর্ষণও রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।

ক্যাফেইন, কফির মূল সক্রিয় উপাদান!
কফির প্রধান কার্যকর উপাদান ক্যাফেইন,যা ত্বকের জন্য এক অসাধারণ উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাফেইন ত্বকের রক্তনালীগুলোকে সাময়িকভাবে সঙ্কুচিত ও পুনরায় প্রসারিত করতে অনেকটা সহায়তা করে, যা মাইক্রোসার্কুলেশন বা ক্ষুদ্র রক্তপ্রবাহকে সক্রিয় করে। রক্ত সঞ্চালন বাড়ার মানেই হলো কোষে  বাড়তি অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ করা, এতে তাৎক্ষণিকভাবে ত্বকে আসে এক প্রাকৃতিক আভা বা গ্লো। এছাড়া ক্যাফেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের কোষকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক সতেজ ও টানটান দেখায়। চোখের নিচের ফোলা ভাব কমাতেও ক্যাফেইনভিত্তিক পণ্য ব্যবহারের কারণ মূলত এটাই।

লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ও টক্সিন অপসারণ:
মুখে কফি স্ক্রাব ম্যাসাজ করার সময় শুধু রক্তপ্রবাহ নয়, লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমও সক্রিয় হয়। এই সিস্টেম শরীর থেকে বর্জ্য ও টক্সিন অপসারণে কাজ করে থাকে। নিয়মিত কফি স্ক্রাব ব্যবহারে মুখের জমে থাকা ফ্লুইড কমে, ফোলাভাব হ্রাস পায়, এবং ত্বক আরও স্বাভাবিক ও হালকা অনুভূত হয়।

ত্বকে তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতার কারণ:
অনেকেই লক্ষ্য করেন, কফি স্ক্রাব ব্যবহারের পরপরই ত্বক অনেকটা  উজ্জ্বল লাগে। এর কারণ তিনটি রয়েছে।

১। মৃত কোষ অপসারণ

২। রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি

৩। ত্বকের উপরিভাগে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি

কীভাবে ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়?
কফি স্ক্রাব তৈরি করা খুবই সহজ। ব্যবহারের সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে এর কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়।কফির গুঁড়োর সাথে অল্প পরিমাণ মধু বা দই মেশানো যায়। পরিষ্কার মুখে হালকা হাতে ২–৩ মিনিট বৃত্তাকারে ম্যাসাজ করতে হবে।

তবে খুব বেশি জোরে ঘষা উচিত না, এতে ত্বকের ভালোর চেয়ে ক্ষতিই বেশি  হয়। এটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার যথেষ্ট।

কোন ধরনের ত্বকে বেশি উপকার?

⇨ নিস্তেজ ও প্রাণহীন ত্বক।

⇨ রক্তসঞ্চালন কম এমন ফ্যাকাশে ত্বক।

⇨ শুষ্ক ত্বক যেখানে মৃত কোষ জমে থাকে।

⇨ হালকা ফোলাভাবযুক্ত মুখ।

তবে সংবেদনশীল ত্বকে খুব সাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

কফি স্ক্রাব ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব :
নিয়মিত ব্যবহারে কফি স্ক্রাব তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা তো দেয় ই, পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় রাখে। ত্বক ধীরে ধীরে হয় মসৃণ, প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যকর।

কফি আমাদের সকালকে যেমন চাঙা করে, তেমনি ত্বককেও জাগিয়ে তুলতে পারে। এর সূক্ষ্ম দানাদার গঠন, ক্যাফেইনের বৈজ্ঞানিক প্রভাব এবং ম্যাসাজের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধির কারণে, কফি স্ক্রাব হয়ে উঠতে পারে ত্বকের যত্নে এক কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান।


সম্পর্কিত নিউজ