{{ news.section.title }}
সকালের ৩ ইতিবাচক বাক্য: মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার এক অনবদ্য উপায়!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ঘুম ভাঙার পর আপনার প্রথম কাজটি কী? স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন চেক করা নাকি দুশ্চিন্তায় কপাল কুঁচকানো? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কয়েক মিনিট আমাদের মস্তিষ্ক একটি সাদা কাগজের মতো সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এই সময়ে আপনি নিজেকে কী বলছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয় আপনার সারা দিনের মানসিক সুর,যাকে ইংরেজিতে বলে ইমোশনাল টিউন। আর এখানেই লুকিয়ে আছে মর্নিং পজিটিভ অ্যাফারমেশন বা ইতিবাচক আত্মকথনের এক অসাধারণ শক্তি। সামান্য কয়েক সেকেন্ডের এই অভ্যাস কীভাবে আপনার শরীর ও মনের হরমোনগত ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, তা নিয়েই আজকের এই বিশ্লেষণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের শরীরের কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা এমনিতেই কিছুটা বেশি থাকে, যা আমাদের সজাগ করতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন আমরা দিন শুরু করি দুশ্চিন্তা বা নেতিবাচক চিন্তা দিয়ে, তখন এই কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। ফলে দিন শুরু হওয়ার আগেই আমরা উদ্বেগ, ক্লান্তি এবং খিটখিটে মেজাজে আক্রান্ত হই। দীর্ঘমেয়াদে যা উচ্চ রক্তচাপ ও অনিদ্রার মতো বড় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই কর্টিসলের জোয়ার রুখে দিতে ঢাল হিসেবে কাজ করে মাত্র তিনটি ইতিবাচক বাক্য। যেমন -
১। “আমি আজ শান্ত থাকব”
২। “আমি সক্ষম” কিংবা
৩।“আজকের দিনটি আমি দারুণভাবে সামলাবো”।
এই সহজ কথাগুলো যখন আপনি নিজেকে বলতে থাকেন, তখন মস্তিষ্ক এক ধরনের নিরাপত্তার সংকেত পায়। এটি কেবল মোটিভেশনাল কথা নয়, বরং একটি সুচিন্তিত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল যা আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং কাজের স্পৃহা বাড়িয়ে দেয়।
আত্ম-স্বীকৃতর এই প্রক্রিয়ায় মানুষ নিজের মূল্যবোধ ও সক্ষমতাকে স্মরণ করায়। গবেষণায় দেখা গেছে, আত্ম-স্বীকৃতি চর্চা করলে মস্তিষ্কের সেই অংশ সক্রিয় হয়, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত। এর ফলে স্ট্রেসের উদ্দীপনায় শরীরের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক শান্ত থাকে। ইতিবাচক বাক্য বলার সময় শ্বাস ধীর হলে ভেগাস নার্ভ সক্রিয় হয়, যা প্যারাসিমপ্যাথেটিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে। এটি শরীরকে শান্ত মোডে নিয়ে যায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন ও স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া কমে, কর্টিসল নিঃসরণও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত হয়।
যদিও এটি কোনো জাদুর মন্ত্র নয়, যে তিনটি বাক্য বললেই কর্টিসল হঠাৎ করেই কমে যাবে। কিন্তু এটি একটি ধারাবাহিক মানসিক অভ্যাস। এটি ধীরে ধীরে স্ট্রেসের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়া বদলে দেয়। নিয়মিত ইতিবাচক আত্মকথন মানুষকে নেতিবাচক চিন্তার চক্র থেকে বের হতে সাহায্য করে থাকে, যা হরমোনের ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলে। সকালে ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক তখনো আলফা তরঙ্গের অবস্থায় থাকে সেসময় অবচেতন মন বেশি গ্রহণক্ষম। তাই এই সময় নিজের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিলে তা গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যারা উদ্বেগ, কাজের চাপ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি বা নেতিবাচক চিন্তায় ভোগেন, তাদের জন্য এই চর্চা কার্যকর হতে পারে। দিনের শুরুতে নিজেকে দোষারোপ না করে, বরং সমর্থন দিলে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।
অবশ্যই এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়।
দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস, উদ্বেগ বা হরমোনজনিত সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। তবে দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট অভ্যাসটি মানসিক স্থিতি বাড়াতে বেশ সহায়ক হতে পারে। দিনের প্রথম শব্দগুলো যদি হয় সমর্থনের, তবে শরীরও সেই সুরে সাড়া দেয়। কারণ মন ও হরমোনের সম্পর্ক অদৃশ্য হলেও বেশ গভীর। আর সেই সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে, সকালের মাত্র তিনটি বাক্য।