{{ news.section.title }}
সুইজারল্যান্ডে রাতে টয়লেট ফ্লাশ নিষিদ্ধ! আইন, নাকি গুজব?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ইন্টারনেটের এ যুগে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন দেশের অদ্ভুত সব আইনের কথা শুনে থাকি। তার মধ্যে একটি হলো, সুইজারল্যান্ডে রাত ১০টার পর টয়লেট ফ্লাশ করা আইনত নিষিদ্ধ। শুনতে অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর মনে হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আধুনিক ও উন্নত এই দেশে এমন ‘অমানবিক এক নিয়ম কেন থাকবে?
আইন নাকি কোনো ভুল বোঝাবুঝি?
বাস্তবতা হলো, সুইজারল্যান্ডে এমন কোনো জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় আইন নেই যা নির্দিষ্ট করে রাতে টয়লেট ফ্লাশ করা নিষিদ্ধ করে। তবে এই গুজবের পেছনে রয়েছে দেশটির অত্যন্ত কঠোর শব্দদূষণ নীতিমালা এবং সামাজিক শিষ্টাচার, যা অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
রাত্রিকালীন নীরবতা :
সুইজারল্যান্ডে বসবাসের সংস্কৃতির একটি বড় অংশ হলো ব্যক্তিগত শান্তি ও নীরবতা রক্ষা করা। সাধারণত রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় শব্দ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। একে বলা হয় কোয়ায়েট আওয়ারস।
এই সময়ে জোরে গান বাজানো বা ড্রিল মেশিন চালানো নিষিদ্ধ। ভারী কোনো যন্ত্রপাতি এমনকি ওয়াশিং মেশিন চালানোও প্রতিবেশীর অসুবিধার কারণ হতে পারে।
পুরনো ভবন ও পাতলা দেয়ালের সমস্যা:
সুইজারল্যান্ডের অনেক আবাসিক ভবন বেশ পুরনো। এগুলোর দেয়াল তুলনামূলক পাতলা। পাইপলাইনের শব্দ সহজেই এক ফ্ল্যাট থেকে অন্য ফ্ল্যাটে চলে যায়। গভীর রাতে টয়লেট ফ্লাশের বিকট শব্দ কারো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, এই ভাবনা থেকেই অনেক হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন বা বাড়ির মালিক নিজস্ব কিছু শিষ্টাচার বিধি তৈরি করে থাকেন।মূলত সেখান থেকেই টয়লেট ফ্লাশ না করার পরামর্শ বা অতিরঞ্জিত সতর্কবার্তার জন্ম হয়েছে।
আইনের প্রয়োগ এবং বাস্তবতা:
সুইস আইন শব্দদূষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। যদি কেউ নিয়মিতভাবে রাতে এমন শব্দ করেন যা প্রতিবেশীর জন্য অসহনীয়, তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতে পারে। তবে এর মানে এই নয় যে, জরুরি প্রয়োজনে টয়লেট ব্যবহার বা ফ্লাশ করাও নিষিদ্ধ। মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের ওপর কোনো আইন বাধা দিতে পারে না। আধুনিক সাউন্ডপ্রুফ ভবনগুলোতে এখন এই সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে।
গুজবই যখন ভাইরাল আইন!
এটি একটি বড় উদাহরণ যে, কীভাবে একটি দেশের সামাজিক শিষ্টাচার ইন্টারনেটে অদ্ভুত আইন হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সুইজারল্যান্ডে মূল বিষয় আইন নয়, বরং পারস্পরিক সম্মানবোধ। বাসিন্দারা নিজেরাই চেষ্টা করেন যাতে গভীর রাতে তাদের কারণে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে।
পরের বার যখন ইন্টারনেটে সুইজারল্যান্ডের এই নিষিদ্ধ ফ্লাশ-এর গল্প দেখবেন, মনে রাখবেন এটি কোনো পুলিশি আইন নয়, বরং অন্যের শান্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এক অনন্য সামাজিক উদাহরণ।