{{ news.section.title }}
‘জুলি অ্যান্ড জুলিয়া’-একঘেয়ে জীবন বনাম নিজের প্যাশন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
জীবনে চারপাশ থেকেই যখন হতাশা চেপে ধরে, তখন মুক্তির পথ কোথায় পাওয়া যায়? কেউ বেছে নেন ভ্রমণ, কেউ বা গান। কিন্তু ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নরা এফরনের কালজয়ী সিনেমা “Julie & Julia” আমাদের দেখিয়েছে, রান্নাঘরের সাধারণ উনুন থেকেও কীভাবে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়! এটি কেবল মাখন, চিজ আর সুস্বাদু ফরাসি খাবারের গল্প নয়। এটি দুই ভিন্ন সময়ের নারীর সমান্তরাল পথচলা, যারা নিজেদের একঘেয়ে জীবনের দেয়াল ভাঙতে বেছে নিয়েছিলেন রান্নার খুন্তি আর ব্লগের পাতা।
সিনেমার একপাশে আমরা দেখি ১৯৫০-এর দশকের প্যারিসে বসবাসরত প্রাণবন্ত জুলিয়া চাইল্ডকে (মেরিল স্ট্রিপ), যিনি ভিনদেশে এসে নিজের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে প্রেমে পড়েন ফরাসি রান্নার। অন্যপাশে ২০০২ সালের নিউইয়র্কের এক ক্লান্ত সরকারি চাকরিজীবী জুলি পাওয়েল (অ্যামি অ্যাডামস), যিনি নিজের জীবনের শূন্যতা ভরাট করতে নিয়েছিলেন এক অবিশ্বাস্য চ্যালেঞ্জ, আর তা ছিলো জুলিয়া চাইল্ডের বিখ্যাত রান্নার বইয়ের ৫২৪টি রেসিপি তিনি তৈরি করবেন মাত্র ৩৬৫ দিনে!
রান্নাঘরের সেই ধোঁয়া, পুড়ে যাওয়া খাবার আর অসাধ্য সাধনের এই গল্পটি দেখায়, সাফল্যের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স লাগে না, লাগে কেবল অদম্য জেদ।
জুলিয়া চাইল্ডের গল্প শুরু হয়েছিল প্যারিসে। স্বামীর চাকরির সূত্রে সেখানে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন ফরাসি রান্নার জটিল, সূক্ষ্ম, শিল্পসম্মত জগৎ। তার বয়স তখন চল্লিশের কাছাকাছি। নতুন কিছু শুরু করার জন্য অনেকের চোখেই এটি- দেড়ি। কিন্তু জুলিয়া প্রমাণ করেন, আগ্রহের শুরুতে বয়স কোনো বাধা নয়। তিনি রান্না শেখেন, পরীক্ষা করেন, ব্যর্থ হন, আবার শুরু করেন। অবশেষে বহু বছরের পরিশ্রমে লেখেন একটি রান্নার বই, যা পরবর্তীতে ক্লাসিক হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, জুলি পাওয়েলের জীবন ছিল ক্লান্তিকর। অফিসের কাজ, মানসিক চাপ, জীবনের উদ্দেশ্যহীনতা সবকিছু মিলিয়ে তিনি নিজেকে প্রায় হারিয়ে ফেলছিলেন। ঠিক সেই সময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন, জুলিয়ার বইকে কেন্দ্র করে একটি ব্লগ লিখবেন। প্রতিদিন একটি রেসিপি, প্রতিদিন একটি অভিজ্ঞতা। এই ছোট্ট সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার জীবন।
সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিকটি হলো, এখানে সাফল্যকে দেখানো হয়েছে ধাপে ধাপে, ধৈর্যের সঙ্গে। রান্নাঘরে ভুল হয়, খাবার পুড়ে যায়, হতাশা আসে, আবারও চেষ্টা চলে। জুলি যেমন মাঝপথে ভেঙে পড়েন, তেমনি জুলিয়াও প্রথম দিকে ব্যর্থ হন। কিন্তু দু’জনের মধ্যেই ছিল একটি মিল, তারা কেউই হাল না ছাড়া মানুষ।
কারো আগ্রহ যখন নিয়মিত চর্চায় রূপ নেয়, তখন সেটি দক্ষতায় পরিণত হয়। আর সেই দক্ষতা আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। জুলি প্রথমে নিজের জন্য লিখছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তার লেখা পাঠকের কাছে পৌঁছাতে শুরু করে। একটি ব্লগ তাকে লেখক হিসেবে পরিচিতি দেয়। এখানে প্রযুক্তির ভূমিকার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি সাধারণ ব্লগ কিভাবে একজন মানুষের পরিচয় বদলে দিতে পারে, সেটিও ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ, আগ্রহ প্রকাশের একটি মাধ্যম পেলে তা অনেক দূর এগিয়েযেতে পারে।
জুলিয়া চাইল্ডের চরিত্র আরও একটি শিক্ষা দেয় আর তা হলো শেখার কোনো বয়স নেই। তিনি চল্লিশের পরে রান্না শেখা শুরু করেন, অথচ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন একজন কুকিং আইকন হিসেবে।
সিনেমাটি রান্নার দিকটি প্রকাশ পেলেও, মূলত এটি একটি আত্মবিশ্বাসের গল্প। নিজের ভেতরের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া, সেটিকে নিয়মিত চর্চা করা, ব্যর্থতাকে মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই তৈরি হয় সাফল্যের পথ।
দুই নারীর গল্প দুই সময়ের হলেও, বার্তাটি কিন্তু একই, জীবন বদলাতে বড় কোনো সুযোগের অপেক্ষা করতে হয় না। একটি ছোট সিদ্ধান্ত, একটি নিয়মিত অভ্যাস, একটি আগ্রহই হতে পারে বড় পরিবর্তনের শুরু।