{{ news.section.title }}
ঠান্ডা বনাম গরম পানির গোসল: রোগ প্রতিরোধে কোনটি বেশি শক্তিশালী?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের আলস্য কাটাতে এক বালতি পানিই যথেষ্ট। কিন্তু সেই পানি কি হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হবে নাকি ধোঁয়া ওঠা গরম? এই দ্বিধা কেবল আপনার নয়, বরং এটি একটি বিতর্কেরও বিষয়। কেউ ভাবেন ঠান্ডা পানিতে গোসল মানেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, আবার কারো মতে গরম পানির আরাম ছাড়া দিনটাই শুরু হয় না। আসলে, এই দুই ধরনের গোসলেরই রয়েছে শরীরের ওপর ভিন্ন ভিন্ন রকমের প্রভাব। ঋতু পরিবর্তন, শরীরের অবস্থা এবং আপনি সারাদিনে কতটা পরিশ্রম করতে যাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে পানির তাপমাত্রা নির্বাচন করা উত্তম।
বিজ্ঞানের ভাষায়, ঠান্ডা পানির গোসল হলো শরীরের জন্য একটি ইনস্ট্যান্ট এনার্জি বুস্টার। এটি রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে মেজাজকে মুহূর্তেই ফুরফুরে করে তোলে। অন্যদিকে, গরম পানির গোসল হলো মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করার শ্রেষ্ঠ দাওয়াই, এটি শরীরের ছিদ্রগুলো খুলে দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে এবং শ্বাসযন্ত্রের প্রশান্তি ঘটায়। কিন্তু আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ বা অনিদ্রার সমস্যা থাকে, তবে এই দুইয়ের মধ্যে ভুল পছন্দটি আপনার শরীরের জন্য উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।
ঠান্ডা পানিতে গোসলের উপকারিতা:
১. রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি: ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে রক্তনালী সংকুচিত হয়, তারপর শরীর উত্তাপে আসার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। এটি রক্ত সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে, মাংসপেশি ও তন্ত্রিক ব্যবস্থাকে সতেজ রাখে।
২. চোট ও ব্যথা কমানো: ক্রীড়া শেষে ঠান্ডা পানিতে গোসল বা আইস বাথ করলে পেশির অঙ্গসঞ্চালন কমে, ফোলা ও ব্যথা কমানো যায়। এটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব ফেলে।
৩. সজাগতা ও মানসিক উজ্জীবন: ঠান্ডা পানির স্পর্শ ত্বক ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে,ফলে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়। এতে সকালে মনের সতেজতা এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
৪. ত্বকের জন্য উপকারি: ঠান্ডা পানি ত্বকের ছিদ্র সংকুচিত করে এবং অতিরিক্ত তেল কমায়। এর ফলে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়।
গরম পানিতে গোসলের উপকারিতা:
১. পেশি শিথিল ও ক্লান্তি হ্রাস: গরম পানি পেশির রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শক্তি কমে যাওয়া পেশিকে শিথিল করে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কাজ বা ব্যায়ামের পরে এটি অনেক আরাম দেয়।
২. মানসিক চাপ ও ঘুমের উন্নতি: গরম পানির গোসল রিল্যাক্সেশন হরমোন নিঃসৃত করে। রাতে গরম গোসল করলে দেহের তাপমাত্রা সাময়িকভাবে বাড়ে, পরে হ্রাস পেলে ঘুমের মান উন্নত হয়।
৩. ত্বক ও রক্তনালী উন্নতকরণ: গরম পানি ত্বকের পোর খুলে দেয়, ময়লা ও তেল দূর করে। এটি রক্ত সঞ্চালনকে অনুকূল রাখে এবং ত্বক নরম ও নমনীয় হয়।
শীতকালে স্বাস্থ্যকর:
শীতকালে ঠান্ডা পানি গোসল করলে সর্দি-কাশি, পেশি খিঁচুনি বা শীতজ্বরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গরম পানি এই ঝুঁকি কমায়।
সুপারিশ:
সকালে সতেজ হতে চাইলে বা শারীরিক ব্যায়ামের পরে ঠান্ডা পানি উত্তম। রাতে শিথিল হতে চাইলে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় গরম পানি বেশি স্বাস্থ্যকর। সংবেদনশীল ত্বক, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন।