{{ news.section.title }}
নায়াগ্রা কি সত্যিই জমে গেছে? জানুন এর নেপথ্যের বিস্তারিত
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
চারদিকে সাদা বরফের চাদর, মাইনাস তাপমাত্রার কামড়, আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক দানবীয় জলপ্রপাত, যাকে দেখে মনে হচ্ছে সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শীতের নায়াগ্রার এমন সব ছবি দেখে আমরা অনেকেই ভেবে থাকি, তীব্র ঠান্ডায় বুঝি বিশাল এই জলপ্রবাহটি পুরোপুরি জমে বরফের পাহাড় হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, রেকর্ড সৃষ্টিকারী হাড়কাঁপানো শীতেও নায়াগ্রা ফলস আসলে কখনোই পুরোপুরি থামে না! যা আমাদের চোখে জমাটবদ্ধ মনে হয়, তার আড়ালে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক বিশাল কারসাজি!
নায়াগ্রা ফলস মূলত তিনটি অংশ।
১। হর্সশু ফলস
২। আমেরিকান ফলস ও
৩। ব্রাইডাল ভেইল ফলস।
লেক ইরি থেকে লেক অন্টারিওর দিকে বিপুল পরিমাণ পানি ধেয়ে আসে। এই বিশাল প্রবাহের গতিশক্তি এতটাই বেশি যে, পুরো জলরাশি একসাথে জমে বরফ হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পানির স্রোত যত দ্রুত গতির হয়, জমাট বাঁধা ঠিক ততটাই কঠিন হয়।
তাহলে জমে গেছে দেখায় কেন?
তীব্র ঠান্ডায় জলপ্রপাত থেকে ছিটকে আসা অগণিত ক্ষুদ্র জলকণা বাতাসে ভেসে চারপাশে পড়তে পড়তে বরফে পরিণত হয়। এই স্প্রে বা কুয়াশা-জলকণা আশপাশের পাথর, গাছ, রেলিং, পর্যবেক্ষণ ডেক সবকিছুর উপর স্তর জমাতে শুরু করে। দিন যত যায়, বরফের স্তর তত পুরু হতে থাকে, তৈরি হয় প্রাকৃতিক বরফ-ভাস্কর্য। দূর থেকে দেখে মনে হয়, পুরো ফলসই বুঝি বরফ। কখনও কখনও ফলসের কিনারায় ও নিচের অংশে বড় বড় বরফের চাঁই তৈরি হয়। এগুলো জলধারার কিছু অংশ আড়াল করে দেয়, ফলে দৃশ্যত মনে হয় যেন পানি থেমে আছে। বাস্তবে বরফের আড়াল দিয়ে প্রবল স্রোত বয়ে যায়।
ইতিহাসে কি কখনও পুরোপুরি থেমেছে?
১৮৪৮ সালে বিরল এক ঘটনায় নায়াগ্রার জলপ্রবাহ প্রায় ৩০ ঘণ্টার মতো বন্ধ হয়েছিল। কারণ, উজানে লেক ইরিতে বরফের বিশাল চাঁই জমে নদীর মুখ আটকে গিয়েছিল। এটি ছিল ব্যতিক্রমী প্রাকৃতিক ঘটনা। আধুনিক সময়ে এমন ঘটনা তেমন দেখা যায় না।
আইস ব্রিজ, শীতের আরেক বিস্ময়!
কঠোর শীতের কারণে, ফলসের নিচে জমে থাকা বরফের স্তূপ একসময় নদীর ওপর প্রাকৃতিক সেতুর মতো দেখায়, যাকে আইস ব্রিজ বলে। অতীতে মানুষ সেখানে হাঁটতও। কিন্তু ঝুঁকির কারণে বহু আগে থেকেই এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাপমাত্রা, বাতাস ও জলকণার রসায়ন!
বরফ গঠনের পেছনে তিনটি বিষয় বড় ভূমিকা রাখে।
১। অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা,
২। প্রবল বাতাস, এবং
৩। জলপ্রপাতের তৈরি সূক্ষ্ম জলকণা।
বাতাস এই কণাগুলো দূরে ছড়িয়ে দেয়। কণাগুলো ঠান্ডায় সঙ্গে সঙ্গে জমে আশপাশে লেগে থাকে। একে ফ্ল্যাশ ফ্রিজিং প্রভাব বলা যায়। ধারাবাহিকভাবে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়।
কেন পর্যটকদের কাছে এটি বিরল আকর্ষণ?
শীতের নায়াগ্রা এক অন্যরকম রূপ। বরফের নকশা প্রতিদিনই বদলাতে থামে, সূর্যের আলোয় ঝিলমিল করে। জল আর বরফের এই সহাবস্থান প্রকৃতির এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে। এখানে গতিশীলতা আর স্থিরতা থাকে পাশাপাশি ।
ভুল ধারণা!
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দাবি ওঠে, নায়াগ্রা পুরো জমে গেছে। বাস্তবে এটি আংশিক বরফে ঢাকা দৃশ্যমানতা, জলপ্রবাহ চলমানই থাকে। এই বৈপরীত্যই ছবিগুলোকে এত বেশি নাটকীয় করে তোলে।