{{ news.section.title }}
আকাশে উড়ছে অ্যাম্বুলেন্স! জরুরি চিকিৎসায় ড্রোন ও eVTOL প্রযুক্তির বিপ্লব
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি কথা প্রচলিত আছে- গোল্ডেন আওয়ার। হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা হলো জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতায় যানজটের অন্তহীন সারি কিংবা দুর্গম এলাকার ভৌগোলিক বাধা সেই মূল্যবান সময়টুকুকে ছিনিয়ে নেয়। যখন রাস্তার অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়েও এক চুল পরিমানও নড়ার জায়গা পায় না, তখন মৃত্যু আর জীবনের মাঝের ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতে ডানা মেলছে এক আধুনিক সমাধান, ফ্লাইং অ্যাম্বুলেন্স বা আকাশপথের অ্যাম্বুলেন্স।
ফ্লাইং অ্যাম্বুলেন্স কী?
ফ্লাইং অ্যাম্বুলেন্স বলতে মূলত তিন ধরনের প্ল্যাটফর্মকে বোঝায়।
১) হেলিকপ্টার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
২) ফিক্সড-উইং (ছোট বিমান) মেডিক্যাল ট্রান্সফার।
৩) নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ বা eVTOL (electric Vertical Take-Off and Landing)।
প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য একই, আর তা হলো রোগীর কাছে দ্রুত পৌঁছানো, প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা, এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তর।
ভেতরে কী থাকে?
এগুলো পরিবহনের পাশাপাশি, ছোট আকারের চলমান আইসিইউ। এর ভেতরে ভেন্টিলেটর, মনিটর, অক্সিজেন সাপোর্ট, ডিফিব্রিলেটর, জরুরি ওষুধ, সাকশন ডিভাইস ইত্যাদি সবই থাকে। প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিম উড্ডয়নের সময়ই চিকিৎসা শুরু করতে পারে। অর্থাৎ, হাসপাতালের পথে চিকিৎসা বন্ধ থাকে না
কখন সবচেয়ে কার্যকর?
⇨ দূরবর্তী গ্রাম বা দুর্গম এলাকা
⇨ সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রমা কেস
⇨ স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক
⇨ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অঙ্গ দ্রুত পরিবহন
⇨ নবজাতক বা জটিল প্রসূতি রোগী স্থানান্তর
হেলিকপ্টার বনাম ফিক্সড-উইং
হেলিকপ্টার শহর বা দুর্গম জায়গায় যেমন-হাসপাতালের ছাদ, খোলা মাঠ, সড়ক ইত্যাদি
সরাসরি নামতে পারে। অন্যদিকে ফিক্সড-উইং বিমান দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত ও স্থিতিশীল ভ্রমণ দেয়, তবে এয়ারস্ট্রিপ প্রয়োজন হয়। রোগীর অবস্থা ও দূরত্ব অনুযায়ী মাধ্যম বেছে নেওয়া হয়।
eVTOL:
নতুন প্রজন্মের eVTOL যানগুলো কম শব্দ, কম নির্গমন, এবং উল্লম্বভাবে ওঠানামার সুবিধা দেয়। ভবিষ্যতে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ছাদের ভার্টিপোর্ট থেকে এ ধরনের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চালু হলে যানজটের প্রভাব অনেকটাই কমবে বলে প্রত্যাশা প্রযুক্তিবিদদের।
সময় বাঁচানোই মূল শক্তি!
জরুরি চিকিৎসায় একটি ধারণা আছে তা হলো -টাইম ইজ টিস্যু। অর্থাৎ সময় যত যায়, ক্ষতি তত বাড়ে। ফ্লাইং অ্যাম্বুলেন্স এই সময়কে কমিয়ে আনে। অনেক ক্ষেত্রে স্থলপথে এক ঘণ্টার পথ আকাশপথে ১৫–২০ মিনিটে পেরোনো যায়।
চ্যালেঞ্জও কম নয়!
খরচ, আবহাওয়া, উড্ডয়ন অনুমতি, প্রশিক্ষিত জনবল, অবতরণ স্থান রয়েছে এসব বড় বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া রাতের উড্ডয়ন, কুয়াশা, ঝড়ো হাওয়া ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল ও সমন্বয় দরকার হয়।
সমন্বিত নেটওয়ার্কের প্রয়োজন!
ফ্লাইং অ্যাম্বুলেন্স একা কাজ করে না। জরুরি কল সেন্টার, স্থল অ্যাম্বুলেন্স, নিকটবর্তী হাসপাতাল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল, সবাই মিলে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরি করে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, সঠিক ত্রায়াজ, এবং নির্দিষ্ট গন্তব্য নির্বাচন, এসবই সাফল্যের চাবিকাঠি।
রোগীর পরিবার যখন দেখে, আকাশ থেকে চিকিৎসা এসে পৌঁছেছে, তখন শুধু প্রযুক্তির শক্তিই নয় মানবিক আশ্বাসও কাজ করে। দূরত্ব আর বাধা যেন মুহূর্তে কমে যায়।
যেখানে রাস্তার সীমাবদ্ধতা শেষ, সেখানেই শুরু হয় আকাশপথের সম্ভাবনা। হেলিকপ্টার, বিমান, আর আগামী দিনের eVTOL- সবকিছু মিলিয়ে জরুরি চিকিৎসা এখন নতুন উচ্চতায়, যেখানে মিনিট বাঁচিয়ে জীবন বাঁচানো সম্ভব।