{{ news.section.title }}
প্রতিদিন একটি আমড়া: উপকারিতা, অপকারিতা ও সতর্কতা!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দুপুরের কড়া রোদে রাস্তার পাশে কিংবা স্কুলের গেটে কাঁচি দিয়ে ফালি করে কাটা আমড়ার ওপর এক চিমটি বিট লবণ আর মরিচের গুঁড়ো! এই দৃশ্য যেন বাঙালির শৈশব আর নস্টালজিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা অনেকেই একে মুখরোচক এক টক ফল হিসেবে চিনি। সাধারণ চেহারার এই ফলের খোসার নিচে লুকিয়ে আছে এমন সব ওষুধি গুণ, যা অনেক দামী বিদেশি ফলের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন সি-এর জোর
পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায়, আমড়া হলো ভিটামিন ও খনিজের একটি কমপ্যাক্ট প্যাকেজ। একটি মাঝারি সাইজের আমড়ায় সমপরিমাণ আপেলের চেয়েও অনেক বেশি ভিটামিন সি এবং ফাইবার থাকে। এর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তে থাকা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়তি একটি সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আমড়া থাকলে মৌসুমি সংক্রমণে শরীরের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলক শক্ত থাকে। পাশাপাশি ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এতে ত্বক, মাড়ি ও রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতায় এর প্রভাব স্পষ্ট লক্ষনীয় হয়।
হজমে স্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়তা!
আমড়ায় পর্যাপ্ত খাদ্যআঁশ রয়েছে। আঁশ আমাদের অন্ত্রের গতিশীলতা ঠিক রাখে, মল নরম করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। টক স্বাদ লালাগ্রন্থি উদ্দীপিত করে, ফলে হজমরস নিঃসরণ বাড়ে।এর ফলে খাবার ভাঙা ও শোষণ সহজ হয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে কোষ সুরক্ষা!
আমড়ার উদ্ভিজ্জ যৌগ, ফেনলিকস ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে অন্যতম ভূমিকা রাখে। কোষের ক্ষয় ধীর করা, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা অবক্ষয়জনিত ঝুঁকি কমাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক ও মাড়ির যত্নে প্রাকৃতিক সহায়ক!
ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মিলিয়ে আমড়া ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে মাড়ি শক্ত রাখতে, রক্তপাত কমাতে ও মুখের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
লৌহ শোষণে সহায়তা করে!
খাবার থেকে লৌহ (আয়রন) শোষণে ভিটামিন সি সহায়ক। তাই ডাল, শাকসবজি বা আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে আমড়া থাকলে পুষ্টি গ্রহণ আরও কার্যকর হতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভুমিকা রাখে!
কম ক্যালরি, বেশি আঁশের এই সমন্বয় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফলে অযথা স্ন্যাকিং কমে, ওজন নিয়ন্ত্রণে অনেক সুবিধা হয়।
গরমে সতেজতা ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রাখে!
টক ও রসালো স্বভাব গরমে মুখে স্বস্তি দেয়। পানি ও খনিজের উপস্থিতি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়।
কীভাবে খাবেন?
⇨ কাঁচা আমড়া কেটে লবণ-মরিচ দিয়ে
⇨ ভর্তা, চাটনি বা আচার
⇨ ডাল/সবজিতে টক স্বাদ আনতে
⇨ পাতলা স্যুপ বা শরবতে হালকা টক হিসেবে
সতর্কতা
অনেকসময় অতিরিক্ত টক ফল সংবেদনশীল পাকস্থলীতে অস্বস্তি আনতে পারে। যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের প্রবণতা আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে খাবেন। দাঁতের এনামেল রক্ষায় খাওয়ার পর পানি দিয়ে কুলি করা ভালো।