{{ news.section.title }}
ব্রকলি খাওয়ার সুফল, কুফল ও সতর্কতা জেনে নিন!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দেখতে হুবহু ফুলকপির মতো হলেও তার গাঢ় সবুজ রঙের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে সুস্থ থাকার এক অনন্য মন্ত্র। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা একে কোনো সাধারণ সবজি নয়, বরং ডাকছেন সুপার ভেজিটেবল নামে!বলছি ব্রকলির কথা। এক সময় কেবল পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে আমাদের দেশের বাজারেও অনন্য গুণাগুণ আর স্বাদের কারণে এটি জায়গা করে নিয়েছে।
এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি এবং কে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হাড়ের গঠন শক্ত করতে সহায়তা করে। তবে এর আসল শক্তি লুকিয়ে আছে সালফোরাফেন নামক এক বিশেষ যৌগে, যা শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে এবং কোষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপকারী। এর আঁশ বা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে রাখে সচল আর হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে পটাশিয়াম।
তবে মুদ্রার রয়েছে উল্টো পিঠও! স্বাস্থ্যকর মানেই কি আপনি ইচ্ছামতো ব্রকলি খেতে পারবেন? থাইরয়েডের সমস্যা বা রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ যারা সেবন করছেন, তাদের জন্য ব্রকলি হতে পারে বিপত্তির অন্যতম এক কারণ। কেন সবার জন্য এই সবজি একইভাবে উপকারী নয় এবং রান্নার কোন ভুলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় তা জানা প্রত্যেকটি স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্যই জরুরি।
উপকারিতা:
১) রোগপ্রতিরোধ ও কোষ সুরক্ষা করে। ব্রকলির সালফোরাফেন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এতে কোষের ক্ষয় ধীর হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে থাকে।
২) হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক! আঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নিয়মিত সবজির অংশ হিসেবে ব্রকলি থাকলে হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৩) হজম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা! উচ্চ আঁশ অন্ত্রের গতিশীলতা ঠিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়, এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।
৪) হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় ভুমিকা রাখে! ভিটামিন কে ও ক্যালসিয়াম হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সহায়ক। বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় এটি বিশেষ উপকারী।
৫) ত্বক ও রোগপ্রতিরোধে ভিটামিন সি এর ভূমিকা! কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা। এছাড়া মাড়ি ও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষার ক্ষেত্রেও ভিটামিন সি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ।
৬) রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক! আঁশ ও উদ্ভিজ্জ যৌগ গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকে।
১) কোন কোন অবস্থায় ব্রকলি উপকারী?
⇨ হৃদ্রোগের ঝুঁকি বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
⇨ কোষ্ঠকাঠিন্য বা দুর্বল হজম সমস্যা থাকলে।
⇨ ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় থাকলে।
⇨ হাড় দুর্বল হওয়ার প্রবণতা থাকলে।
⇨ রোগপ্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে চাইলে।
⇨ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস উন্নত করতে চাইলে।
অপকারিতা ও সীমাবদ্ধতা:
☞ ব্রকলিতে রাফিনোজসহ কিছু জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা অনেকের অন্ত্রে গ্যাস তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেটফাঁপা ও অস্বস্তি হতে পারে।
২) থাইরয়েড সমস্যা থাকলে সতর্কতা জরুরি।
ব্রকলি একটি ক্রুসিফেরাস সবজি। এতে থাকা গয়ট্রোজেন আয়োডিন ব্যবহারে সামান্য বাধা দিতে পারে, বিশেষত কাঁচা বেশি খেলে। থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে রান্না করে এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম।
৩) রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের জন্য
বিপদজনক হতে পারে। ব্রকলিতে ভিটামিন কে বেশি, যা রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। যারা অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ওষুধ খান, তাদের খাদ্যে ভিটামিন কে এর নিয়মিততা বজায় রাখা দরকার, হঠাৎ বাড়ানো বা কমানো উচিত নয়।
৪)অতিরিক্ত আঁশ সংবেদনশীল পেটে অস্বস্তি আনতে পারে।
কাদের জন্য খাওয়া অনুচিত বা সীমিত?
⇨যারা অনিয়ন্ত্রিত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন এবং কাঁচা ব্রকলি বেশি খান।
⇨ নিয়মিত রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন।
⇨ যাদের তীব্র গ্যাস, আইবিএস বা পেটফাঁপার প্রবণতা বেশি।
⇨ ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আঁশ একবারে না দেওয়া ভালো।
কীভাবে খেলে উপকার বেশি, অপকার কম?
হালকা ভাপে সেদ্ধ বা অল্প রান্না, কারণ এটি পুষ্টি ধরে রাখতে সহায়ক। কাঁচা খেলেও পরিমাণ কম রাখাই উপম। অন্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্যাসের প্রবণতা কমে।