চিলির উপকূলে 'ডেমন ফেস’ দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব! জানুন আসল সত্য

চিলির উপকূলে 'ডেমন ফেস’ দেখে স্তম্ভিত বিশ্ব! জানুন আসল সত্য
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

গুগল আর্থ বা গুগল ম্যাপস আমাদেরকে পৃথিবীটাকে ভালোভাবে জানার সুযোগ করে দিলেও, মাঝেমধ্যে এমন কিছু দৃশ্য সামনে নিয়ে আসে যা অনেকসময় পিলে চমকে দেওয়ার মতোই। সম্প্রতি দক্ষিণ চিলির এক নির্জন দ্বীপপুঞ্জে (স্থানাঙ্ক: ৫৫°৩২'৩৮.০" দক্ষিণ, ৬৯°১৫'৫৮.০" পশ্চিম) ধরা পড়েছে এক অতিপ্রাকৃত দৃশ্য। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে পাথুরে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এক বিশাল মুখ। দেখতে অনেকটা কোনো শয়তান বা ডেমনের মতো। এই ছবি এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় বেশ ভাইরাল, আর তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের বিশাল পাহাড়।

রহস্যের উৎস:
স্থানটি কেপ হর্ন অঞ্চলের কাছে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর দক্ষিণতম দক্ষিণ আমেরিকার কাছে ঝড়ো ও দুর্গম সমুদ্রের মাঝখানে। এখানে উচ্চ পাহাড়, শিলা এবং তুষার আচ্ছাদিত ল্যান্ডস্কেপ সহজেই মানুষকে অদ্ভুত প্যাটার্নের বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।

কেন মুখের মতো মনে হচ্ছে?
ভূগোল এবং স্যাটেলাইট ইমেজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে তিনটি কারণ কাজ করছে।

১) প্যারেইডোলিয়া। মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই পরিচিত প্যাটার্ন শনাক্ত করতে চেষ্টা করে, বিশেষ করে চোখ বা মুখের মতো আকৃতি।

২) স্যাটেলাইট ইমেজিং ত্রুটি। বিভিন্ন স্যাটেলাইট থেকে ছবির ডেটা সংগ্রহের সময় স্টিচিং বা ক্লোনিংয়ে অদ্ভুত প্রতিসাম্য তৈরি হতে পারে।

৩) অনলাইন কল্পনা, ভাইরাল গল্প। সামাজিক মাধ্যমে এটি অতিরঞ্জিত ও রহস্যময়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞান কী বলছে?
গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের ছবি প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপ ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির সমন্বয়ে তৈরি হয়ে থাকে। এখানে কোনো মানবসৃষ্ট বা এলিয়েন উপাদান নেই। দূরবর্তী পাহাড়, শিলা এবং বরফ মিলিয়ে যে প্যাটার্ন তৈরি হয়েছে, সেটিই মূলত মানুষকে মুখাকৃতি মনে করাচ্ছে।

কৌতূহল ও ইলিউশন:
অনলাইনে ডেমন ফেস নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসে গুগল আর্থ বা ম্যাপে অনেক দূরবর্তী স্থানে অনুরূপ আকৃতি দেখা গেছে। এটি কেবল একটি ইলিউশন, যেখানে মস্তিষ্ক পরিচিত আকৃতি খুঁজে পাচ্ছে অজানা ল্যান্ডস্কেপে। চিলির দক্ষিণ উপকূলে দেখা অদ্ভুত ডেমন ফেস আসলে এক রহস্যময় ইলিউশন। যদিও তা দেখতে কিছুটা মজার বা ভীতিকর মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রাকৃতিক দৃশ্য ও স্যাটেলাইট ইমেজিং ত্রুটির সমন্বয়। তাই কৌতূহলকে শান্ত রেখে, এটিকে পৃথিবীর এক রহস্যময় ভূগোলিক চমক হিসাবেই দেখাই  আমাদের কাম্য।


সম্পর্কিত নিউজ