{{ news.section.title }}
রিপ্রেশন বনাম সাপ্রেশন, কষ্টের স্মৃতিকে অবচেতনে চেপে রাখার পরিণতি জানুন!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আমাদের মস্তিষ্ক হলো, অদ্ভুত এক জাদুকর। এটি প্রিয় মুহূর্তগুলোকে জমিয়ে রেখে আমাদেরকে মানসিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে কিছু স্মৃতিকে চিরতরে ভ্যানিশ করে দেয়। আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, শৈশবের কোনো এক ভয়াবহ দিন বা চরম অপমানের কথা আপনি কিছুতেই মনে করতে পারছেন না? যেন আপনার মনের কোনো এক অন্ধকার কুঠুরিতে সেই স্মৃতিগুলো তালাবদ্ধ হয়ে আছে। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় মনের প্রতিরক্ষা কবচ বা ডিফেন্স মেকানিজম।
রিপ্রেশন (Repression):
রিপ্রেশন হলো এমনই এক প্রক্রিয়া যেখানে ব্যক্তি বুঝতে পারেন না, তিনি একটি কষ্টদায়ক স্মৃতি ভুলে গেছেন। স্মৃতিটি অবচেতনে চাপা পড়ে থাকে। সাধারণত শৈশবের ট্রমা, ভয়াবহ দুর্ঘটনা, গভীর অপমান বা নির্যাতনের মতো অভিজ্ঞতাগুলো এতে জড়িত থাকতে পারে। ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনের সেই ঘটনার কথা মনে করতে পারেন না, কিন্তু আচরণ, ভয়, সম্পর্কের ধরণ বা অযৌক্তিক উদ্বেগে তার ছাপ প্রকাশ পায়।
লক্ষণ:
☞ কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অকারণ ভয় বা অস্বস্তি।
☞ স্মৃতির ফাঁক।
☞ একই ধরনের সম্পর্ক বা পরিস্থিতিতে বারবার
☞ অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া।
সাপ্রেশন (Suppression):
সাপ্রেশন হলো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কষ্টদায়ক চিন্তা বা স্মৃতি মাথা থেকে সরিয়ে রাখা। যেমন, কাজের সময় ব্যক্তিগত দুঃখ ভুলে থাকা, পরীক্ষার আগে উদ্বেগ সরিয়ে রাখা ইত্যাদি। ব্যক্তি জানেন স্মৃতি আছে, কিন্তু আপাতত ভাবতে চান না।
এটি কখন সহায়ক:
⇨ গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় মনোযোগ ধরে রাখতে
⇨ আবেগ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে
⇨ মানসিক চাপ সামাল দিতে
দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব:
চাপা পড়ে থাকা স্মৃতি কখনও কখনও অন্যভাবে প্রকাশ পায়। যেমন:
⇨ অকারণ রাগ বা কান্না।
⇨ উদ্বেগ, প্যানিক।
⇨ সম্পর্কের জটিলতা।
⇨ দুঃস্বপ্ন বা অস্বস্তিকর অনুভূতি।
কারণ, স্মৃতি ভুলে গেলেও আবেগের ছাপ মস্তিষ্কে থেকে যায়।
কীভাবে সামলাবেন?
⇨ নিজের অনুভূতি লিখে রাখা (জার্নালিং)
⇨ কাউকে বিশ্বাস করে কথা বলা
⇨ ধ্যান ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
⇨প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া
দুঃখজনক স্মৃতি চাপা পড়ে থাকলেও তা পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। রিপ্রেশন ও সাপ্রেশন আমাদের মানসিক সুরক্ষার উপায়, কিন্তু অমীমাংসিত আবেগ দীর্ঘদিন চাপা থাকলে আচরণ ও অনুভূতিতে তার প্রতিফলন দেখা দেয়। তাই স্মৃতিকে জোর করে তাড়িয়ে না দিয়ে, নিরাপদ পরিবেশে ধীরে ধীরে তাকে বোঝা ও গ্রহণ করাই মানসিক সুস্থতার অন্যতম একটি পথ।