{{ news.section.title }}
ক্যান্সারের লক্ষণ চিনুন, দেরি হওয়ার আগেই সতর্ক হোন!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ক্যানসার মানেই কি হুট করে বড় কোনো ব্যথা বা বিছানায় পড়ে যাওয়া? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, একদমই নয়। বরং ক্যানসার হলো সেই ধূর্ত শত্রুর, যা আপনার শরীরের ভেতরে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে বিস্তার করতে থাকে সাম্রাজ্য, অথচ আপনি টেরই পান না। যখন ব্যথা বা বড় কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তখন এই শত্রু অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। প্রশ্ন হলো, আমাদের শরীর কি সত্যিই কোনো সংকেত দেয় না! নাকি আমরা সেই সনকেত ধরতে পারি না!
সামান্য ক্লান্তি, ওজন একটু কমে যাওয়া, কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ভালো না হওয়া সাধারণ কাশি, এই সূক্ষ্ম লক্ষণগুলোকে সাধারণত আমরা কাজের চাপ বা ঋতু পরিবর্তন বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু এই সাধারণত্বের পেছনেই ঘাপটি দিয়ে থাকে বড় কোনো বিপদের বীজ।
ক্যান্সার হঠাৎ করেই তৈরি হয়ে যায় না। স্বাভাবিক কোষের জিনগত পরিবর্তন জমতে জমতে একসময় কোষ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে। এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া। প্রথমে টিউমার আকারে ছোট থাকে, এটি আশপাশের টিস্যুকে খুব একটা বিরক্ত করে না। তাই ব্যথাও হয় না এবং দৈনন্দিন কাজেও বড় কোনো বিঘ্ন ঘটে না। তবে শরীরের ভেতরে চলতে থাকে এর নীরব বৃদ্ধি।
কেন লক্ষণ ধরা পড়ে না?
১) অকারণ ক্লান্তি, ওজন কমা, হালকা জ্বর, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদি এসবকে আমরা সাধারণত স্ট্রেস, কাজের চাপ, গ্যাস্ট্রিক, ভাইরাল জ্বর ভেবে এড়িয়ে যাই।
২) অনেক ক্যান্সার দীর্ঘ সময় ব্যথাহীন থাকে। ব্যথা সাধারণত তখনই হয়, যখন টিউমার আশপাশের স্নায়ু বা অঙ্গকে চাপ দিতে শুরু করে।
৩) ছোট টিউমার বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
৪) সাধারণত ধীরগতির যেকোনো পরিবর্তন আমাদের নজরে কম আসে। হঠাৎ কোন পরিবর্তন হলে আমরা সতর্ক হই,, কিন্তু ধীরে হলে মানিয়ে নিই।
৫) নিয়মিত পরীক্ষা না করলে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ার সুযোগ কমে যায়।
শরীর যে সূক্ষ্ম সংকেত দেয়:
ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় অস্পষ্ট। কিন্তু ধারাবাহিক হলে গুরুত্ব দেওয়া খুব জরুরি। যেমন-
⇨ অকারণে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।
⇨ দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও দুর্বলতা।
⇨ শরীরের কোথাও গাঁট বা লাম্প, যা ধীরে বড় হচ্ছে।
⇨ দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা কণ্ঠ ভাঙা।
⇨ মল-মূত্রের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন, রক্ত দেখা।
⇨ তিল বা ত্বকের দাগের রঙ বা আকার বদল।
⇨ মাড়ি, প্রস্রাব, পায়খানায় অস্বাভাবিক রক্তপাত
বা নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত রক্তপাত।
⇨ ক্ষত যা সহজে শুকায় না।
⇨ দীর্ঘদিনের বদহজম বা গিলতে কষ্ট।
এসব লক্ষণ মানেই ক্যান্সার নয়, কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে পরীক্ষা করানো উচিত।
স্ক্রিনিং কেন?
কিছু ক্যান্সার নিয়মিত স্ক্রিনিং করলে একদম প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়ে। যেমন- স্তন, জরায়ুমুখ, বৃহদান্ত্র। ম্যামোগ্রাম, প্যাপ টেস্ট, কোলনোস্কপি এগুলো উপসর্গের আগেই পরিবর্তন ধরতে পারে। সমস্যাটি হলো, উপসর্গ না থাকলে আমরা সচরাচর পরীক্ষা করতে চাই না। অনেকেই ভয় বা দুশ্চিন্তার কারণে পরীক্ষা এড়িয়ে যায়। অনেকে আবার কিছু হবে না ভেবে অনেক সময় পার করে ফেলেন। এই অস্বীকারই ক্যান্সারকে এগোতে সময় দেয়।
ঝুঁকির কারণ জানা জরুরি!
ধূমপান, তামাক, দূষণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা, পারিবারিক ইতিহাস ইত্যাদি থাকলে খুবই সতর্ক থাকা দরকার। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বা ধীরে ধীরে বাড়ে, সেক্ষেত্রে অপেক্ষা না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। দ্রুত পরীক্ষা মানেই খারাপ খবর নয়, বরং এটি নিশ্চিন্ত হওয়ার একটি সুযোগ।
জীবনের প্রতিটি সেকেন্ড যেখানে মূল্যবান, সেখানে অবহেলা আর অজ্ঞতা যেন আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু না হয়ে দাঁড়ায়।
ক্যান্সার অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে কারণ এটি নীরবে এবং ধীরে ধীরে সাধারণ উপসর্গের আড়ালে থেকে বেড়ে ওঠে। শরীর প্রথম থেকেই সংকেত দিতে থাকে, কিন্তু আমরা সেগুলোকে গুরুত্ব দিই না। সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং, এবং ছোট লক্ষণকে অবহেলা না করার অভ্যাসই পারে ক্যান্সারকে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরতে। ভয় নয়, সচেতন নজরই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।