{{ news.section.title }}
প্রতিদিন রোদে দাঁড়ানো কতটা উপকারী? ভিটামিন ডি-র বাইরেও আরও গুণ!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আমরা অনেকেই কালো হয়ে যাওয়ার ভয়ে কিংবা অসহ্য গরমের কারণে রোদ এড়িয়ে চলি। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, সূর্যের আলো শুধু আলো নয়, এটি আমাদের শরীরের জন্য এক অপরিহার্য পুষ্টির উৎসও বটে। বিশেষ করে ভিটামিন ডি-এর ক্ষেত্রে সূর্যই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সাশ্রয়ী প্রাকৃতিক উৎস। আপনার ত্বকে যখন সূর্যের বিশেষ UVB রশ্মি পড়ে, তখন আপনার শরীর নিজেই শুরু করে দেয় এক জটিল জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যা আমাদের হাড়কে মজবুত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দেয় এক অজেয় শক্তি।
ভিটামিন ডি-কে বলা হয় সানশাইন ভিটামিন। এটি কেবল ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে হাড়ের সুরক্ষা দেয় না,শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মস্তিষ্কে সেরোটোনিন বা ফিল-গুড হরমোন বাড়িয়ে ডিপ্রেশন কাটাতেও জাদুর মতো কাজ করে।
কিন্তু অনেকেরই প্রশ্ন হলো, সারাদিন রোদে থাকলেই কি ভিটামিন ডি তৈরি হয়?
উত্তর হলো- না। ত্বকের কোলেস্টেরল-জাত এক উপাদান UVB পেলে ভিটামিন ডি তে রূপ নেয়। পরে লিভার ও কিডনিতে সক্রিয় রূপ পায়, যা ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়িয়ে হাড় ও দাঁত মজবুত করে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে, পেশিশক্তি ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে, মুড রেগুলেশনে ভূমিকা রেখে মন ভালো রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা:
সকালের আলো শরীরের জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখে। এতে ঘুমের মান ভালো হয়, দিনভর সতেজতা বাড়ে। আলো সেরোটোনিন নিঃসরণে সহায়ক, যা মনকে স্থির ও ইতিবাচক রাখতে ভূমিকা রাখে।
প্রতিদিন কতক্ষণ রোদে থাকবেন?
ত্বকের রঙ, আবহাওয়া, পোশাক ইত্যাদির ওপর রোদে থাকার সময় নির্ভর করে। তবে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে রোদে থাকা সবচেয়ে বেশি উপযোগী (নরম UVB)। সপ্তাহে অন্তত ৪-৫ দিন, ১৫-২৫ মিনিট করেই যথেষ্ট। গাঢ় ত্বকে মেলানিন বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরি হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে। তাই ২০–৩০ মিনিট লাগতে পারে।
কীভাবে রোদ নেবেন?
অনেকেই কাঁচের জানালার ভেতর থেকে রোদ গায়ে লাগিয়ে থাকেন। তবে এটি বেশি কার্যকর নয়, বরং সরাসরি গায়ে লাগতে হবে। মুখ, হাত, বাহু, পায়ের কিছু অংশ খোলা রাখুন, তীব্র দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
কারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন?
⇨ যারা সারাদিন ঘরে বা অফিসে থাকেন।
⇨ হাড় দুর্বলতা, পেশি ব্যথা বা ক্লান্তিতে ভোগেন
⇨ বয়স্ক ব্যক্তি
⇨ ঘুমের সমস্যা বা মনমরা ভাব আছে যাদের
সতর্কতা
দুপুর ১১টা থেকে ৩টার রোদ দীর্ঘসময় এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের ক্ষতি ও ডিহাইড্রেশন হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে কম সময় থাকুন। অতিরিক্ত রোদে পোড়া এড়াতে নিজেকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করুন।
প্রতিদিনের অল্প সময়ের রোদ শরীরের জন্য এক প্রাকৃতিক টনিক। ভিটামিন ডি তৈরি থেকে শুরু করে ঘুম, মন, হাড় ও রোগপ্রতিরোধ সবখানেই এর নীরব অবদান। নিয়ম মেনে সকালের নরম রোদে দাঁড়ানো তাই আর বিলাসিতা নয়, দৈনন্দিন প্রয়োজন।