অকারণে অতিরিক্ত ঘাম? ভিটামিন ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে

অকারণে অতিরিক্ত ঘাম? ভিটামিন ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

জ্যৈষ্ঠের কাঠফাটা রোদে কিংবা জিমের কঠোর পরিশ্রমের পর ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি হলো শরীরের নিজস্ব কুলিং সিস্টেম। কিন্তু এসি রুমে বসে থেকেও এমনকি কোনো দুশ্চিন্তাও নেই, অথচ হাতের তালু ভিজে একাকার কিংবা পায়ের পাতায় ঘাম হচ্ছে তো হচ্ছেই, এমনটা কি আপনার সাথেও হয়? আমরা অনেকেই একে শারীরিক গঠন বা একটু বেশিই ঘামি বলে উড়িয়ে দিই। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অস্বাভাবিক ঘাম বা হাইপারহাইড্রোসিস অনেক সময় কেবল কোনো অসুখই নয়, বরং আপনার শরীরের ভেতরে থাকা বিশেষ কিছু ভিটামিনের হাহাকারও বটে!

ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স: 
বি-কমপ্লেক্সের কয়েকটি ভিটামিন, বিশেষত B1 (থায়ামিন), B6 (পাইরিডক্সিন) ও B12 (কোবালামিন), স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর ঘাটতি হলে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই সিস্টেমই ঘামগ্রন্থির কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
B1 ঘাটতি স্নায়ুর উত্তেজনা বাড়ায়। ফলে শরীর অপ্রয়োজনেও ঘামতে থাকে। B6 ঘাটতি নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য বিঘ্নিত করে, যা উদ্বেগ, অস্থিরতা ও ঘাম বাড়াতে পারে।

আর B12 ঘাটতি স্নায়ু সিগন্যালের গতি ও মান নষ্ট করে, যার ফলেও অস্বাভাবিক ঘাম দেখা দিতে পারে।

ভিটামিন ডি: 
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, এটি ইমিউন, হরমোন ও স্নায়ু কার্যক্রমের সঙ্গেও জড়িত। এর ঘাটতি হলে শরীরের তাপ-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সামঞ্জস্য নষ্ট হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে মাথা, কপাল বা শরীরের উপরিভাগে অকারণ ঘাম এই ঘাটতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে লক্ষণীয় হয়।

ভিটামিন সি: 
ভিটামিন সি অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির কাজকে সহায়তা করে, যা স্ট্রেস-হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। ঘাটতি হলে শরীর স্ট্রেসে অতিসংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। ফলে, সামান্য মানসিক চাপেও ঘাম বেড়ে যায়।

কেন ভিটামিন ঘাটতিতে ঘাম বাড়ে?
ভিটামিনের ঘাটতি স্নায়ু ও হরমোনের সূক্ষ্ম সমন্বয় ভেঙে দেয়। শরীর তখন ছোট উদ্দীপনাকেও বড় সংকেত হিসেবে নেয়। অটোনমিক সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ঘামগ্রন্থিকে বারবার উদ্দীপিত করে। ফলে ব্যক্তি অনুভব করেন, পরিস্থিতির তুলনায় অনেক বেশি ঘাম হচ্ছে।

লক্ষণ:
অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলোও থাকে, তবে পুষ্টিঘাটতির সম্ভাবনা বিবেচনা করা যায়-

⇨ অকারণ ক্লান্তি ও দুর্বলতা

⇨ মাথা ঘোরা বা মনোযোগ কমে যাওয়া

⇨ হাত-পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূতি

⇨ ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া

⇨ উদ্বেগ বা অস্থিরতা বৃদ্ধি

খাদ্যাভ্যাসে করণীয়:
দৈনন্দিন খাবারে পুষ্টিকর উপাদান বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ-

⇨ ডিম, মাছ, দুধ, দই (B12, D)।

⇨ ডাল, বাদাম, শস্যদানা (B1, B6)।

⇨ লেবুজাতীয় ফল, আমলকি, পেয়ারা (ভিটামিন C)

গ্রহন।
⇨ রোদে নিয়মিত সময় কাটানো (ভিটামিন D)

কখন গুরুত্ব দেবেন?
দীর্ঘদিন যদি অতিরিক্ত ঘাম থাকে, এবং পরিবেশ বা পরিশ্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকে, তবে কেবল বাহ্যিক কারণ নয়, ভেতরের পুষ্টিঘাটতির দিকেও নজর দেওয়া জরুরী। কারণ ঘাম কখনো কখনো শরীরের ভেতরের ভারসাম্যহীনতার নীরব সংকেত।

অতিরিক্ত ঘাম সবসময় তাপমাত্রা বা মানসিক চাপে সীমাবদ্ধ নয়। স্নায়ু ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনগুলোর ঘাটতি শরীরকে অতিসংবেদনশীল করে তুলতে পারে, যার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ অতিরিক্ত ঘাম।


সম্পর্কিত নিউজ