{{ news.section.title }}
কাঁঠাল নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফল,ভেতরটা দেখলে জিভে পানি আসবেই!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আপনি যদি কাঁঠাল বা লটকনের ভক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এক বিশেষ গুপ্তধনের সাথে আপনার পরিচয় হওয়াটা খুবই জরুরি। বোর্নিও বা মিন্দানাও-এর স্থানীয় বাজারে গেলে দূর থেকেই মিষ্টি এক সুবাস আপনাকে একদম টেনে নিয়ে যাবে একটি ফলের কাছে। দেখতে অনেকটা কাঁঠাল বা তালের শাঁসের সংমিশ্রণ, গায়ে নরম কাঁটার আবরণ,এটিই হলো মারাং। স্থানীয়দের কাছে এটি একটি জীবন্ত ক্রিম বক্স!
গাছ, ফল ও গঠনের বৈশিষ্ট্য:
মারাং গাছ চিরসবুজ হয়ে থাকে। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে এটি ভালোভাবে জন্মে। ফলটি ডিম্বাকার থেকে গোল, খোসা জুড়ে নরম কাঁটার মতো উঁচু অংশ থাকে। পেকে গেলে খোসা হালকা সবুজ থেকে হলদে আভা নেয় এবং হালকা সুগন্ধও ছড়ায়। ভেতরে থাকে একাধিক সাদা, নরম, রসাল কোয়া। প্রতিটি কোয়ার মধ্যে একটি করে বীজ থাকে। কোয়ার টেক্সচার একদম তুলোর মতো নরম হয়ে থাকে, মুখে দিলেই একদম গলে যায়। এটি জ্যাকফ্রুটের মতো আঁশযুক্ত নয়। আবার দারিয়ান ফলের মতো তীব্র গন্ধযুক্তও নয়। বরং মারাংয়ের সুগন্ধ কোমল, মিষ্টি এবং অনেকের কাছে দুধ-ভ্যানিলা-ফুলের মিশ্র অনুভূতি দেয়।
স্বাদ:
মারাংয়ের স্বাদ অতিরিক্ত রসাল নয়, আবার শুষ্কও নয়। মাঝামাঝি এক স্নিগ্ধ টেক্সচার। পাকা অবস্থায় হাত দিয়ে ভেঙে কোয়াগুলো আলাদা করে খাওয়া হয়। বীজ ফেলে দেওয়া যায়, আবার সেদ্ধ বা ভেজে খাওয়ার চলও আছে।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মারাং কার্বোহাইড্রেট ও প্রাকৃতিক শর্করায় সমৃদ্ধ, যা দ্রুত শক্তি জোগায়। পাশাপাশি এতে থাকে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি, কিছু বি-ভিটামিন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। ফলে এটি দ্রুত শক্তি জোগাতে বেশ সহায়ক। এছাড়া আঁশের কারণে এটি
হজমে সহায়ক, রোগপ্রতিরোধে সহায়ক (ভিটামিন সি), কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।
কেন বিশ্বজুড়ে পরিচিত নয়?
মারাংয়ের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর অতি স্বল্প সংরক্ষণকাল। গাছ থেকে পাড়ার পর দ্রুত নরম হয়ে যায়, স্বাদ ও গঠন বদলে যায়। ঠান্ডা সংরক্ষণেও দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায় না। ফলে দূরপাল্লার পরিবহন প্রায় অসম্ভব। এই কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে মারাং খুব কম দেখা যায়। এটি মূলত স্থানীয় ফল হিসেবেই থেকে গেছে।
ব্যবহার:
বোর্নিও ও ফিলিপাইনের কিছু অঞ্চলে মারাং মৌসুমি উৎসবের অংশ। পরিবারে ভাগাভাগি করে খাওয়া, অতিথি আপ্যায়নে পরিবেশন ইত্যাদি সামাজিক অনুষঙ্গে ফলটি বিশেষ স্থান পায়। কখনো কখনো কোয়া দিয়ে হালকা মিষ্টান্ন বা স্মুদি তৈরি করা হয়, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কাঁচা, তাজা অবস্থায় খাওয়াই প্রাধান্য পায়।
চাষাবাদ ও পরিবেশ:
মারাং উষ্ণ, আর্দ্র, বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মে এবং জৈবপুষ্ট মাটিতে দ্রুত বেড়ে ওঠে। অরণ্যঘেরা এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে বেশি দেখা যায়। গাছ বড় হয়, ছায়া দেয়, এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।