{{ news.section.title }}
ডিজিটাল টুইন সিটিস: ভবিষ্যতের এক চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আমরা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় কোনো শহরকে থ্রিডি সিমুলেশনে নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক দেখেছি। সেই কল্পনাই কিন্তু এখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, শ্বাসরুদ্ধকর যানজট আর জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় যখন আধুনিক মেগাসিটিগুলো ধুঁকছে, তখন ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ডিজিটাল টুইন সিটি প্রযুক্তি। সহজ কথায়, আপনার প্রিয় শহরের ঠিক হুবহু একটি ডিজিটাল প্রতিচ্ছবি বা যমজ তৈরি করা হচ্ছে কম্পিউটারের ভেতরে, যা রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে বলে দিতে পারবে আগামী ১০ বছর পর আপনার শহরের অবস্থা কেমন হবে!
ডিজিটাল টুইন কি?
ডিজিটাল টুইন হলো কোনো শারীরিক বস্তু, সিস্টেম বা শহরের ভার্চুয়াল রূপ। সাধারণ ২ডি নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট যেখানে একটি স্থির ছবি দেয়, সেখানে ডিজিটাল টুইন সিটি একটি জীবন্ত ব্যবস্থা। এটি সেন্সর, এআই (AI) এবং আইওটি (IoT)-র মাধ্যমে শহরের প্রতিটি রাস্তা, পানির পাইপলাইন, এমনকি বাতাসের মানের আপডেটও প্রতিটি মুহূর্তে গ্রহণ করে। শহরের সমস্ত অবকাঠামো, ট্রাফিক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলসেচ ও পরিবেশের তথ্য রিয়েল-টাইমে ভার্চুয়াল মডেলে প্রতিফলিত হয়। এর মাধ্যমে পরিকল্পকরা যেকোনো পরিবর্তন বা উন্নয়ন বাস্তবে পরীক্ষা করার আগে ভার্চুয়ালভাবে দেখা যেতে পারে।
একারণে কোনো ব্রিজ তৈরির আগেই স্থপতিরা সিমুলেশনে দেখে নিতে পারেন সেটি যানজট বাড়াবে নাকি কমাবে। কিংবা প্রবল বন্যার আগে ডিজিটাল যমজ শহরটি পূর্বাভাস দিতে পারে ঠিক কোন গলিগুলো আগে প্লাবিত হবে।
শিক্ষায় প্রভাব:
১. শহর পরিকল্পনার প্রশিক্ষণ: শিক্ষার্থীরা রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশ দূষণের প্রভাব অনুশীলন করতে পারে।
২. ডেটা বিশ্লেষণ ও সিমুলেশন: ছাত্ররা বিভিন্ন নগর সমস্যা সমাধানের জন্য ডেটা বিশ্লেষণ শিখতে পারে। যেমন-নতুন সড়ক নিলে ট্রাফিক কিভাবে পরিবর্তিত হবে।
৩. পরিবেশগত শিক্ষা: বায়ু মান, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সরবরাহ ও সবুজ এলাকা বৃদ্ধির প্রভাব ভার্চুয়ালভাবে দেখা যায়।
৪. মহাবিশ্বের মতো নিরাপদ পরীক্ষা ক্ষেত্র: নতুন পরিকল্পনা বাস্তবে ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ভার্চুয়াল শহরে নিরাপদে পরীক্ষা করা যায়।
প্রযুক্তি ও পদ্ধতি:
ডিজিটাল টুইন তৈরির জন্য যা যা লাগে-
⇨সেন্সর ও IoT ডিভাইস: শহরের রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহের জন্য
⇨ ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা বিশ্লেষণ: বিশাল তথ্য প্রক্রিয়াকরণ
⇨ 3D মডেলিং ও VR/AR: শিক্ষার্থী বা পরিকল্পক ভিজ্যুয়ালাইজেশনের জন্য
⇨ মেশিন লার্নিং: ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুমান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
শিক্ষার্থীর জন্য সুযোগ:
ভার্চুয়াল শহরে বাস্তব সমস্যা সমাধান শেখা যাবে। পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তি দক্ষতা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং সিমুলেশন অভিজ্ঞতা বাড়বে। ইন্টিগ্রেটেড নগর ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
চ্যালেঞ্জ:
☞ উন্নত প্রযুক্তি ও ডেটা ব্যবস্থাপনার খরচ
☞ ডেটা সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ
☞ শিক্ষায় প্রযুক্তি গ্রহণে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা
Digital Twin Cities একটি শিক্ষা-ভিত্তিক অভিজ্ঞতা, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জগতের সমস্যা ভার্চুয়াল মডেলে পরীক্ষা করতে পারে। নগরায়ণ ও প্রযুক্তির এই সংমিশ্রণ শিক্ষার্থীদের তৈরি করছে আরও দক্ষ, দৃষ্টিশীল এবং উদ্ভাবনী পরিকল্পক। আগামী দিনের শহর ও পরিবেশ সচেতন নাগরিক গঠনের ক্ষেত্রে এই ভার্চুয়াল শহর শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।