{{ news.section.title }}
পাখিদের হাজার মাইল পাড়ি দেওয়ার রহস্য!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আকাশজুড়ে যখন ‘V’ আকৃতিতে পাখিদের দল উড়ে যেতে দেখেন, তখন কি একবারও আপনার মনে প্রশ্ন জাগে না যে ওদের গন্তব্য কোথায়? সাইবেরিয়ার বরফজমা ঠান্ডা থেকে উড়ে এসে ঠিক আপনার এলাকার বিলে তারা কীভাবে বিশ্রাম নেয়? কোনো ম্যাপ নেই, স্মার্টফোন নেই, তবুও হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ওরা ঠিক এক বছর আগের সেই নির্দিষ্ট গাছেই এসে বসে। প্রকৃতির এই অনবদ্য ক্যালেন্ডার মেনে পরিযায়ী পাখিদের এই যাত্রা পৃথিবীর বুকে অন্যতম সেরা এক জৈবিক রহস্যই বটে।
কেন অভিবাসন?
প্রধানত তিনটি কারণে-
১) খাদ্যের প্রাপ্যতা। শীতে পোকামাকড়, জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ কমে যায়।
২) প্রজনন। নির্দিষ্ট ঋতু ও আবহাওয়ায় বংশবৃদ্ধি সহজ হয়।
৩) আবহাওয়া। তীব্র ঠান্ডা বা গরম এড়িয়ে বাঁচা।
পথ খুঁজে নেওয়ার কৌশল:
বিজ্ঞানীরা দশকের পর দশক ধরে গবেষণা করছেন এই পাখিদের ইন্টারনাল জিপিএস নিয়ে। জানা গেছে যে, এই খুদে প্রাণীদের মাথায় রয়েছে এক অবিশ্বাস্য স্নায়ুতন্ত্র। তারা পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্র অনুভব করতে পারে, সূর্যের অবস্থান এবং রাতের আকাশের নক্ষত্র দেখে পথও চিনতে পারে। এমনকি পাখির দেহে রয়েছে সূক্ষ্ম জৈব-সংবেদন ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্র টের পায়। একে বলে ম্যাগনেটোরিসেপশন। নদী, পাহাড়, উপকূলরেখা, এই ভৌগোলিক চিহ্ন পাখিরা মনে রাখে। পুরোনো পথ নতুন প্রজন্মও অনুসরণ করে, অনেক সময় বংশগত প্রবৃত্তির মাধ্যমে। তাছাড়া কিছু প্রজাতি ঘ্রাণশক্তি ব্যবহার করে দিক চিনতে পারে। আবার অনেকে বাতাসের প্রবাহ বুঝে শক্তি বাঁচিয়ে উড়ে।
V-আকৃতিতে উড়ার কারণ:
দল বেঁধে V-ফরমেশনে উড়লে সামনের পাখির ডানার বাতাসের ঘূর্ণি পেছনের পাখিকে বাড়তি লিফট দেয়। এতে শক্তি কম খরচ হয়, দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সহজ হয়।
পথে বিশ্রাম:
দীর্ঘ যাত্রায় জলাভূমি, হ্রদ, উপকূল ইত্যাদি, এসব জায়গায় তারা থামে, খাবার খায়, শক্তি সঞ্চয় করে। এই স্থানগুলো ধ্বংস হলে অভিবাসন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।
চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি:
⇨জলাভূমি ও বন ধ্বংস
⇨ আলোক দূষণ (রাতে পথভ্রষ্ট হওয়া)
⇨ জলবায়ু পরিবর্তনে ঋতুচক্রের অমিল
⇨ শিকার ও মানবসৃষ্ট বাধা
অল্প ওজনের একটি পাখি কখনও ৫–১০ হাজার কিলোমিটার উড়ে যায়, তাও দিক না হারিয়ে। প্রথমবার উড়তে যাওয়া তরুণ পাখিও অনেক সময় সঠিক গন্তব্য খুঁজে নেয়, আর তা সে করে জন্মগত দিকজ্ঞান দিয়েই।
পাখির অভিবাসন কেবল ঋতুভিত্তিক ভ্রমণ নয়। এটি প্রকৃতির সঙ্গে নিখুঁত সমন্বয়ের এক অনন্য উদাহরণ। হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে তারা যেন আকাশে অংকন করে অদৃশ্য এক মানচিত্র, যা কি না মানুষ এখনও পুরোপুরিভাবে অনুকরণ করতে পারেনি।