{{ news.section.title }}
চুলের জেল্লা হারিয়ে যাচ্ছে? সঠিক হেয়ার শাইন বুস্টার বেছে নেওয়ার গাইড
আপনি যখন আয়নায় নিজের উজ্জ্বল আর রেশমি চুল দেখেন, তখন কি কখনো ভেবে দেখেছেন,চুলের এই উজ্জ্বলতা আসলে আসছে কোথা থেকে? সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের উজ্জ্বলতা কোনো কাকতালীয় কিছু নয়, এটি মূলত আপনার চুলের সবচেয়ে বাইরের স্তর, কিউটিকলের কারিকুরি। যখন এই কিউটিকলগুলো মাছের আঁশের মতো একে অপরের ওপর মসৃণভাবে শুয়ে থাকে, তখনই আলো সেখানে প্রতিফলিত হয়ে চুলকে ঝলমলে দেখায়। কিন্তু যখনই অযত্ন আর পুষ্টির অভাবে এই স্তরটি রুক্ষ হয়ে ওঠে,তখনই চুল হারায় তার প্রাণ। চুলের নাড়িনক্ষত্র এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে আজকের এই প্রতিবেদনটিতে।
চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখা মূলত একটি ত্রিমুখী লড়াই। প্রথমত, আর্দ্রতা (Moisture),যা চুলের নমনীয়তা ধরে রাখে। দ্বিতীয়ত, পুষ্টি (Nutrition), বিশেষ করে কেরাটিন প্রোটিন এবং বায়োটিন, যা চুলের কাঠামো মজবুত করে। আর তৃতীয়ত হলো পরিচর্যা, ভুল তাপমাত্রার পানি বা অতিরিক্ত কেমিক্যালপন্যের ব্যবহার কীভাবে আমাদের চুলের কিউটিকলকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তা আমরা অনেকেই জানি না।
চুলের উজ্জ্বলতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
দীর্ঘদিন ধরেই সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ঘন, উজ্জ্বল ও মসৃণ চুল বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে চুলের উজ্জ্বলতা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি অনেক সময় চুলের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিচর্যার প্রতিফলনও। যখন চুল স্বাস্থ্যকর থাকে, তখন তার বাইরের স্তর বা কিউটিকল সমানভাবে সাজানো থাকে। এই স্তর আলো প্রতিফলিত করে, ফলে চুল স্বাভাবিকভাবে ঝলমলে দেখায়। কিন্তু দূষণ, তাপ, কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, অপুষ্টি এবং অনিয়মিত পরিচর্যার কারণে কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে চুল নিস্তেজ ও রুক্ষ হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে অনেকেই ভরসা করেন Hair Shine Boosters-এর ওপর। সাধারণত এগুলো দুই ধরনের হয়ে থাকে।
১। Natural বা প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক এবং
২। Serum বা কসমেটিক ফর্মুলা নির্ভর।
চুলে উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার কারণ:
আমাদের চুলের গঠন মূলত তিন স্তরের। কিউটিকল, কর্টেক্স এবং মেডুলা। এর মধ্যে কিউটিকল হলো সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং এটি চুলের উজ্জ্বলতা নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কিউটিকল স্তর সমান থাকে, তখন আলো প্রতিফলিত হয়ে চুলকে উজ্জ্বল এবং চকচকে দেখায়। কিন্তু অতিরিক্ত রোদ, হিট স্টাইলিং, কেমিক্যাল ডাই বা পরিবেশ দূষণ এই স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে আলো ছড়িয়ে পড়ে এবং চুল নিস্তেজ দেখায়। চুলের আর্দ্রতা কমে গেলেও উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়। কারণ, শুষ্ক চুলের পৃষ্ঠ অসম হয়ে যায় এবং আলো সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।
উজ্জ্বলতার প্রাকৃতিক উৎস:
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে চুলের যত্ন নেওয়ার প্রবণতা বহুকালের পুরোনো। এগুলো সাধারণত চুলকে ধীরে ধীরে পুষ্টি জোগায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য উন্নত করে। যেমন:
☞ নারকেল তেল: নারকেল তেল চুলের প্রোটিন ক্ষয় কমাতে সহায়ক বলে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের ভেতরে প্রবেশ করে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।
☞ অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা চুলের জন্য প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। এতে থাকা এনজাইম স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
☞ মধু ও দই: মধু প্রাকৃতিক হিউমেকট্যান্ট হিসেবে পরিচিত, যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। দইয়ে থাকা প্রোটিন চুলকে শক্তিশালী করে এবং মসৃণতা বাড়ায়।
☞ আর্গান অয়েল: আর্গান তেল ভিটামিন ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি চুলের ক্ষতিগ্রস্ত কিউটিকল মেরামতে সহায়ক বলে বিবেচিত।প্রাকৃতিক উপাদানের প্রধান সুবিধা হলো এগুলো সাধারণত মৃদু এবং দীর্ঘমেয়াদে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করতে পারে। তবে ফল পেতে সময় লাগে এবং নিয়মিত ব্যবহার প্রয়োজন।
Serum বা আধুনিক কসমেটিকের অবদান:
চুলের তাৎক্ষণিক উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে Hair Serum। এগুলো সাধারণত সিলিকন বা পলিমারভিত্তিক ফর্মুলা দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।
Serum কীভাবে কাজ করে?
Hair serum চুলের ওপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে। এই আবরণ কিউটিকল স্তরকে সাময়িকভাবে সমান করে এবং আলো প্রতিফলন বাড়ায়। ফলে চুল দ্রুত চকচকে ও মসৃণ দেখায়।
এছাড়া -
☞ তাপ ও দূষণ থেকে সুরক্ষা দেয়। অনেক serum হিট প্রটেকশন দেয়। অর্থাৎ ব্লো ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনার ব্যবহারের সময় চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।
☞ ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করে। শুষ্ক বা কোঁকড়ানো চুলে ফ্রিজ সমস্যা কমাতে serum কার্যকর হতে পারে, কারণ এটি চুলের ওপর আর্দ্রতা ধরে রাখার স্তর তৈরি করে। তবে serum-এর প্রভাব অনেক সময় সাময়িক হয়। অতিরিক্ত ব্যবহার করলে চুল ভারী বা তৈলাক্ত দেখাতে পারে।
Natural নাকি Serum কোনটি বেশি কার্যকর?
প্রাকৃতিক উপাদান চুলের ভেতরের পুষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়ক। এগুলো একটু ধীরে ধীরে কাজ করলেও চুলের গঠনকে ভিতর থেকে শক্তিশালী করে।
অন্যদিকে serum দেয় দ্রুত দৃশ্যমান ফল। বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে চুলকে মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে এটি বেশ কার্যকর হতে পারে।
চুলের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে প্রাকৃতিক তেল বেশি উপকারী হতে পারে। আবার পাতলা বা ফ্রিজি চুলে হালকা serum দ্রুত ফল দিতে পারে।
চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে জীবনধারার ভূমিকা
চুলের স্বাস্থ্য শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না। পুষ্টি, পানি গ্রহণ এবং মানসিক চাপও বড় ভূমিকা রাখে। প্রোটিন, আয়রন, ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক। পর্যাপ্ত পানি পান চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।অতিরিক্ত মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যা চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণ ভুল যা চুলের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়:
অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার, বারবার কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট, ভুল শ্যাম্পু নির্বাচন এবং অতিরিক্ত স্টাইলিং চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।এছাড়া ভেজা চুল জোরে আঁচড়ালে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
গবেষণা ও নতুন প্রবণতা:
বর্তমানে চুলের যত্নে বায়োটেকনোলজি ও উদ্ভিদভিত্তিক যৌগ নিয়ে গবেষণা বাড়ছে। এমন ফর্মুলা তৈরির চেষ্টা চলছে যা চুলের ভেতরের কাঠামো মেরামত করতে পারবে। এছাড়া ব্যক্তির চুলের ধরন অনুযায়ী কাস্টমাইজড হেয়ার কেয়ার পণ্য তৈরির প্রবণতাও বাড়ছে।