আপনিও কি রাত ১টার পর ঘুমান?জানুন জরুরি তথ্য

আপনিও কি রাত ১টার পর ঘুমান?জানুন জরুরি তথ্য
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

​আধুনিক নগরজীবনে রাত জেগে থাকা যেন এক নিয়মিত অনুষঙ্গ। সিরিজের নেশা, স্মার্টফোনের স্ক্রল কিংবা অফিসের কাজ! সব মিলিয়ে অনেকেরই ঘুমানোর সময় এখন মধ্যরাত পেরিয়ে ১টা কিংবা ২টা। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই রাতজাগা অভ্যাসটি নিঃশব্দে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বেশ বড় ধরনের আঘাত হানছে?

সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Nature Mental Health-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য।

​পর্যাপ্ত ঘুমালেও কি ঝুঁকি থাকে?
​গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, সমস্যাটি কেবল কত ঘণ্টা ঘুমানোর মাঝেই নয়, বরং কখন ঘুমানো নিয়ে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডেটাবেইস UK Biobank-এর প্রায় ৭৩,৮৮৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত রাত ১টার পরে ঘুমাতে যান, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশন (অবসাদ) ও অ্যানজাইটির (উদ্বেগ) ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেকগুনে বেশি। এমনকি তারা যদি দিনের বেলা বা সকালে দেরি করে ঘুমিয়ে কোটা পূরণ করেন, তবুও এই ঝুঁকি কোনো অংশে কমে না।

​জৈবঘড়ি ও মেলাটোনিনের সংঘাত!
​আমাদের শরীর চলে একটি নির্দিষ্ট সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈবঘড়ির নিয়মে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর মেলাটোনিন নামক হরমোন নিঃসৃত করে, যা আমাদের শান্ত হতে ও ঘুমাতে সাহায্য করে। কেউ যদি নিয়মিতভাবে রাত ১টার পর জেগে থাকে তবে এই প্রাকৃতিক ছন্দে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই হরমোনাল ইমব্যালেন্স মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করার জন্য দায়ী হতে পারে।

​রাতের নিস্তব্ধতা ও রুমিনেশন:
​মনোবিজ্ঞানীদের মতে, গভীর রাতের নিস্তব্ধতা মানুষের নেতিবাচক চিন্তার পুনরাবৃত্তি বাড়িয়ে দেয়, যাকে বলা হয় রুমিনেশন। দিনের ব্যস্ততায় যেসব চিন্তা চাপা থাকে, রাতের নির্জনতায় সেগুলোই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। একা থাকার ফলে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ বা অতীত নিয়ে অতিরঞ্জিত দুশ্চিন্তা শুরু করে দেয়। আর এটি সরাসরি অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।

​স্ক্রিনের নীল আলোর প্রভাব:
​রাত ১টার পর যারা জেগে থাকেন, তাদের অধিকাংশ সময় কাটে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের সামনে। এই ডিভাইসগুলোর নীল আলো মেলাটোনিন নিঃসরণে বাধা দেয়। ফলে ঘুমের মান হয় খারাপ। এতে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে দিনের বেলা খিটখিটে মেজাজ বা মনোযোগের অভাব দেখা দেয়।

​বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
​গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক হলেও এর বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা সুস্থ মন ও শরীরের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।সেগুলো হলো :

☞ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করুন।

☞ ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।

☞  ঘুমের পরিবেশ অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।

☞ দিনে অন্তত কিছু সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকুন, যা জৈবঘড়িকে সচল রাখে।

ডিজিটাল যুগে সময় ও সীমানা প্রসারিত হলেও আমাদের শরীর এখনও প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলে। রাত জাগা সাময়িকভাবে আধুনিক বা জরুরি মনে হতে পারে, কিন্তু সুস্থ মনের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্বে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।আর তাই রাত যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, নিজেদের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সময়মতো আলো নিভিয়ে দেওয়াই হোক আজকের শপথ।


সম্পর্কিত নিউজ