{{ news.section.title }}
চুইংগাম খেলেই জরিমানা, সিঙ্গাপুরের আজব আইন!
ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সিঙ্গাপুর মানেই ঝকঝকে তকতকে সাজানো এক শহর। কিন্তু এই পরিচ্ছন্নতার পেছনে রয়েছে এমন এমন কিছু আইন, যা শুনলে পর্যটকদেরও পিলে চমকে যায়। বিশেষ করে চুইংগাম নিয়ে দেশটির কঠোরতা বিশ্বজুড়ে এক অন্যরকম রহস্য ও কৌতূহলের বিষয়। ড্রাগ ডিলারদের মতো চুইংগাম বহন করলেও কি সিঙ্গাপুরে জেল হতে পারে? কেন একটি সাধারণ মিষ্টি আঠার ওপর এত রাগ দেশটির প্রশাসনের?
১৯৮০-র দশকের শেষের দিকে সিঙ্গাপুর যখন দ্রুত আধুনিক হচ্ছে, তখন এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়ে যায় দেশটি। মানুষ চুইংগাম চিবিয়ে ফুটপাত, বাসের সিট, এমনকি লিফটের বোতামে অর্থাৎ যেখানে-সেখানেই লেপ্টে দিত। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে সিঙ্গাপুরের গর্ব এমআরটি (মেট্রো রেল) ব্যবস্থায়। ট্রেনের দরজার সেন্সরে গাম আটকে যাওয়ার কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়। আর এর পরই শৃঙ্খলাপরায়ণ সিঙ্গাপুর সরকার এই আঠালো আপদটাকে চিরতরে বিদায় করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইন কী বলে, খাওয়া কি নিষেধ?
অনেকেই ভুল বোঝেন যে সিঙ্গাপুরে চুইংগাম চিবোনোই বুঝি অপরাধ। আসলে বিষয়টি তেমনও নয়। আইনের মূল লক্ষ্য হলো এর আমদানি, বিক্রি ও বিতরণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা। দেশটিতে ১৯৯২ সাল থেকে সাধারণ চুইংগাম বিক্রি ও আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে কেউ যদি চিকিৎসার প্রয়োজনে বা ধূমপান ছাড়ার জন্য নিকোটিন গাম ব্যবহার করতে চান, তবে তাকে ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে তা সংগ্রহ করতে হবে। আর পর্যটকদের জন্য সাধারণ নিয়ম হলো, নিজে খাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণে আনা যায়, কিন্তু তা বিক্রি বা যত্রতত্র ফেলা এক দণ্ডনীয় অপরাধ। লিটারিং বা নোংরা করলে কঠোর সাজা ভোগ করতে হতে পারে। সিঙ্গাপুরে চুইংগাম চিবোনোর চেয়ে সেটি রাস্তায় ফেলা বড় অপরাধ। প্রকাশ্যে নোংরা করলে মোটা অঙ্কের জরিমানা থেকে শুরু করে কমিউনিটি সার্ভিস অর্থাৎ রাস্তা পরিষ্কার করা পর্যন্ত সাজা হতে পারে। এই কঠোর প্রয়োগের কারণেই দেশটির রাস্তাঘাটে আজ আঠালো গামের কোনো চিহ্ন মাত্র পাওয়া যায় না।
সমালোচনা ও বাস্তবতা:
আন্তর্জাতিক মহলে এই আইনটি নিয়ে বেশ অনেকবার অনেক সমালোচনা হয়েছে। অনেকেই একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করে থাকেন। তবে সিঙ্গাপুরের উত্তর স্পষ্ট। আর তা হলো উচ্চ জনঘনত্বের শহরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নীতির বিকল্প নেই। দেশটির ঝকঝকে রাস্তা কেবল উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং কঠোর নীতি আর নাগরিক সচেতনতারই ফলাফল।
অন্য দেশের জন্ও শিক্ষা!
সিঙ্গাপুর মডেল আমাদের শেখায় যে, নগর ব্যবস্থাপনা কেবল বড় বড় ইমারত গড়া নয়, বরং ছোট ছোট নাগরিক অভ্যাসগুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। চুইংগাম আইনের মতো পদক্ষেপগুলো প্রমান করে যে, পরিচ্ছন্নতা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, এটি একটি সচেতন রাষ্ট্রীয় দর্শন।
সিঙ্গাপুরের এই অদ্ভুত মনে হওয়া আইনটি আসলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষার একটি প্রতীক। তাই পরবর্তীবার সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে পকেটে চুইংগাম আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়াটা মন্দ হবে না। মনে রাখবেন, সেখানে পরিচ্ছন্নতা কেবল অভ্যাস নয়, এটিই নিয়ম।