আইনস্টাইন থেকে মার্ক জাকারবার্গ, সফলদের পকেটে কেন সবসময় একটি নোটবুক থাকে?

আইনস্টাইন থেকে মার্ক জাকারবার্গ, সফলদের পকেটে কেন সবসময় একটি নোটবুক থাকে?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

আমাদের সবার জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন মন চায় চিৎকার করে কাউকে কিছু বলতে, কিন্তু তখন শোনার মতো কেউ থাকে না। আবার কোনো মানুষের কাছে বললে সমালোচনা পাওয়ার ভয় থাকে, কিন্তু একটি ডায়েরি কখনোই আপনাকে বিচার করবে না। জার্নালিং হলো সেই আয়না, যেখানে দাঁড়ালে আপনি আপনার আসল সত্তাকে দেখতে পাবেন। এটি আপনার উদ্বেগ কমাতে এবং শোক বা বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতেও সাহায্য করবে। কলমের ডগায় জমে থাকা আপনার সেই না বলতে পারা কথাগুলো কীভাবে আপনার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, আজ জানাব সেই গল্পই।

Journaling কী?
Journaling হলো নিজের চিন্তা, অনুভূতি, অভিজ্ঞতা এবং লক্ষ্য লিখে রাখার প্রক্রিয়া। এটি হতে পারে দৈনন্দিন ঘটনার সংক্ষেপ, বা গভীর আত্মসমীক্ষার নোট।
মূল লক্ষ্য থাকে কেবল লেখা নয়, বরং মনকে আয়না দেখানো এবং আপনার ভেতরের ভাবনা, আবেগ ও উদ্দেশ্যগুলি পরিষ্কারভাবে চিনে নেওয়া।

মস্তিষ্কের নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, লেখা মানসিক প্রক্রিয়াকে অনেক দিক থেকে সমর্থন করে।  লেখার মাধ্যমে অসংগঠিত চিন্তাভাবনা স্বচ্ছ কাঠামো পায়। আবেগ প্রকাশ করার মাধ্যমে মানসিক চাপ হ্রাস পায়। সমস্যা সমাধান ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। লিখে চিন্তা করলে মস্তিষ্ক নতুন সমাধানের পথ খুঁজে পায়। লিখলে তথ্য ও অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়।নিউরোসায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হাতের কার্যকলাপ ও মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনার সমন্বয় চিন্তাভাবনাকে আরও পরিষ্কার ও কার্যকর করে।

ধরন ও কার্যকারিতা:
☞ প্রতিফলনমূলক: দিনে কী ঘটেছে, কেমন অনুভূতি হলো তা লিখে রাখলে, অভিজ্ঞতাকে বিশ্লেষণ করা সহজ হয়।

উদাহরণ: আজ অফিসে আমি একটুকু হতাশ লাগছিলাম, কারণ … তবে আমি চেষ্টা করব আগামীকাল …

☞ লক্ষ্যভিত্তিক: নিজের লক্ষ্য, ছোট ছোট পদক্ষেপ ও অগ্রগতি নোট করার মাধ্যমে স্পষ্ট পরিকল্পনা তৈরি হয়।

উদাহরণ: এই সপ্তাহে আমি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করব। এর জন্য প্রতিদিন ৩০ মিনিট পরিকল্পনা সময় দেব।

☞ আবেগের প্রকাশ: চাপ, হতাশা বা আনন্দ সবই লিখে ফেলা মানসিক চাপ কমায় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

উদাহরণ: আজ খুব রেগে গিয়েছিলাম। লিখে দেখছি, আমার ক্ষোভের মূল কারণ…

☞ কৃতজ্ঞতা: প্রতিদিনের ছোট ভালো মুহূর্ত বা অভিজ্ঞতা লিখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে ইতিবাচক মনোভাব বাড়ে।

উদাহরণ: আজ সকালে সুন্দর আবহাওয়া, বন্ধুর শুভেচ্ছা....এসবের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

মানসিক  প্রভাব:
☞ ক্লিয়ার চিন্তাভাবনা: মন-জট কমে যায়, অপ্রয়োজনীয় চিন্তা কমে আসে।

☞ উদ্দেশ্য নির্ধারণ: লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়, তাই মনোনিবেশ সহজ হয়।

☞ স্ট্রেস কমানো: আবেগের প্রকাশ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

☞ সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা: নতুন ধারণা এবং সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

☞ আত্ম-জ্ঞান বৃদ্ধি: নিজেকে বোঝার ক্ষমতা বাড়ে, নিজের দুর্বলতা ও শক্তি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

সহজ পদ্ধতি:
☞ নিয়মিত সময় নির্ধারণ করুন। সকালে উঠে বা রাতের আগে ১০-১৫ মিনিট নির্দিষ্ট করুন।

☞ সহজ সরঞ্জাম রাখুন।
একটি নোটবুক এবং পেন যথেষ্ট। চাইলে ডিজিটাল অ্যাপও ব্যবহার করতে পারেন।

☞বানান বা ব্যাকরণ নিয়ে চিন্তা না করে শুধুই লিখুন। মূল উদ্দেশ্য চিন্তা প্রকাশ করা।

☞ সপ্তাহ বা মাস শেষে পূর্ববর্তী লেখা পড়ুন। এর ফলে অগ্রগতি ও পরিবর্তন স্পষ্ট হবে।

Journaling প্রায়ই mindfulness বা সচেতন মনোভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন আপনি লিখতে বসেন, আপনি নিজের ভাবনা ও অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেন। এটি বর্তমান মুহূর্তে থাকার অনুশীলন। ধীর, মনোযোগী লেখা মানসিক শান্তি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।

গবেষণা অনুযায়ী নিয়মিত Journaling করা ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা গেছে, তাদের মানসিক চাপের মাত্রা কমেছে। চিন্তাভাবনা পরিষ্কার ও সংগঠিত হয়েছে। লক্ষ্যপূরণে মনোনিবেশ বেড়েছে। আবেগীয় স্বস্তি ও ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে এটি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে সাহায্য করে।


সম্পর্কিত নিউজ