{{ news.section.title }}
স্বাস্থ্যকর মালয়েশিয়ান নাসি লেমাক বানাবেন কীভাবে? সহজ রেসিপি
আপনি কি ডায়েট করছেন বলে প্রিয় নাসি লেমাককে এড়িয়ে চলছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে এক দারুণ সুখবর। মালয়েশিয়ার এই জাতীয় খাবারটি কেবল স্বাদের জন্য নয়, এর উপাদানের বৈচিত্র্যের কারণে এটি হতে পারে একটি চমৎকার ব্যালেন্সড মিল। আমরা কেবল এর ভাজা উপাদানগুলোকে স্বাস্থ্যকর বিকল্পে বদলে দেব এবং বাড়াব ফাইবারের মাত্রা। সাদা চালের বদলে ব্রাউন রাইস আর ডুবো তেলে ভাজা মাছের বদলে গ্রিলড প্রোটিন! দেখবেন স্বাদ আগের মতোই রাজকীয় আছে, কিন্তু আপনার মেদ আর বাড়বে না।
প্রচলিত নাসি লেমাকে সাধারণত সাদা চাল, পূর্ণ-ফ্যাট নারকেল দুধ, তেলে ভাজা সাম্বল ও চিনাবাদাম ব্যবহার করা হয়।
সমস্যা কোথায়?
⇨ অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট
⇨ উচ্চ ক্যালরি
⇨ বেশি সোডিয়াম
⇨ কম ফাইবার
স্বাস্থ্যবান্ধব সংস্করণে লক্ষ্য হবে ব্রাউন বা লাল চাল ব্যবহার, লো-ফ্যাট নারকেল দুধ, তেল কমিয়ে সাম্বল রান্না। ভাজার বদলে ভেজে বা রোস্ট করা বাদাম অতিরিক্ত সবজি সংযোজন।
স্বাস্থ্যবান্ধব নাসি লেমাকের উপকরণ:
ভাতের জন্য,
☞ ব্রাউন রাইস বা লাল চাল -২ কাপ
☞ লো-ফ্যাট নারকেল দুধ - ১ কাপ
☞ প্রয়োজনমতো পানি
☞ প্যান্ডান পাতা (ঐচ্ছিক)- ১টি
☞ অল্পপরিমাণে লবণ
স্বাস্থ্যকর সাম্বল,
☞ ভিজিয়ে নেওয়া ৬-৮টি শুকনা লাল মরিচ
☞ টমেটো - ১টি
☞ পেঁয়াজ - ১টি মাঝারি
☞ রসুন - ৩ কোয়া
☞ অল্প অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল - ১ চা চামচ
☞ তেঁতুলের রস - ১ টেবিল চামচ
☞ খেজুরের গুড় বা অল্প ব্রাউন সুগার - সামান্য
☞ লবণ - স্বাদমতো
সাইড আইটেম,
☞ ২-৪টি সিদ্ধ ডিম
☞ শসা কাটা - ১ কাপ
☞ ওভেনে রোস্ট করা চিনাবাদাম - ½ কাপ
☞ গ্রিল করা মাছ বা টোফু (ঐচ্ছিক প্রোটিন সংযোজন)
রান্নার প্রণালি
☞ প্রথমে ভাত প্রস্তুত: চাল ধুয়ে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। রাইস কুকার বা হাঁড়িতে লো-ফ্যাট নারকেল দুধ ও পানি মিশিয়ে রান্না করুন। প্যান্ডান পাতা দিলে সুগন্ধ বাড়বে। ব্রাউন রাইস ব্যবহার করলে রান্নার সময় কিছুটা বেশি লাগবে, তবে এতে ফাইবার বেশি থাকে এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে।
☞ তারপর সাম্বল কম তেলে প্রস্তুত: সব উপকরণ ব্লেন্ড করে নিন। একটি নন-স্টিক প্যানে মাত্র ১ চা চামচ তেল দিয়ে মিশ্রণটি মাঝারি আঁচে নেড়ে রান্না করুন। ধীরে ধীরে ঘন হবে। তেঁতুল ও সামান্য মিষ্টি যোগ করে স্বাদ ব্যালান্স করুন। প্রচলিত সাম্বলে যেখানে কয়েক টেবিল চামচ তেল লাগে, সেখানে এই পদ্ধতিতে তেল প্রায় ৭০–৮০% কমানো সম্ভব।
☞ সাইড প্রস্তুত: চিনাবাদাম ডিপ ফ্রাই না করে ওভেনে ১৮০°সে তাপমাত্রায় ৮–১০ মিনিট রোস্ট করুন। ডিম সিদ্ধ করুন। মাছ বা টোফু হালকা মসলা মেখে গ্রিল করুন।
পুষ্টিগতদিক বিশ্লেষণ :
ব্রাউন রাইস ব্যবহারে সাদা চালের তুলনায় বেশি ফাইবার পাওয়া যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। লো-ফ্যাট নারকেল দুধ ব্যবহার করলে ক্যালরি কমে যায়। ডিম, টোফু বা গ্রিল মাছ যোগ করলে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ে, যা পেশি গঠন ও তৃপ্তি বজায় রাখতে সহায়ক। আবার মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ ও টমেটোতে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
কারা খাবেন, কারা সতর্ক থাকবেন?
উপযোগী:
☞ ওজন নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী ব্যক্তি।
☞ কর্মব্যস্ত মানুষ যারা সুষম খাবার চান।
☞ উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তি।
সতর্কতা:
☞ নারকেল দুধে অ্যালার্জি থাকলে বিকল্প ব্যবহার করুন।
☞ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণ সীমিত রাখুন।
পরিবেশন :
এই ডিশটি কলা পাতায় পরিবেশন করলে ঐতিহ্য বজায় থাকে। সাথে শসা ও সবুজ সালাদ যোগ করলে প্লেট আরও পুষ্টিকর ও রঙিন হয়।