রমজানে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব: রোজা ও ইবাদতের বিধান নিয়ে যা বলছে ইসলাম

রমজানে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব: রোজা ও ইবাদতের বিধান নিয়ে যা বলছে ইসলাম
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জীবনে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড একটি খুবই স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে রমজান মাসে পিরিয়ড শুরু হলে রোজা রাখা বা নামাজের বিধান কী, তা নিয়ে অনেক নারীই দ্বিধায় থাকেন। ইসলামি শরিয়ত এই সময়ে নারীদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং বিকল্প ইবাদতের চমৎকার সুযোগ দিয়েছে। চলুন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

পিরিয়ড অবস্থায় রোজা ও নামাজের বিধান:
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঋতুকালীন সময়ে নারীদের জন্য নামাজ পড়া এবং রোজা রাখা জায়েজ নয়। দয়াময় আল্লাহ এই কঠিন সময়ে নারীদের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে এই ইবাদতগুলো রহিত করেছেন।

রোজার কাজা: 
রমজানে পিরিয়ডের কারণে যে কয়টি রোজা বাদ যাবে, সেগুলো পরবর্তীতে অন্য সময়ে একটির বদলে একটি (কাজা) আদায় করতে হবে।
নামাজের কাজা: 
তবে পিরিয়ডের কারণে ছুটে যাওয়া নামাজগুলো পরবর্তীতে আর কাজা করতে হয় না।

এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা: 
আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, "আমাদেরকে রোজা কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো, কিন্তু নামাজ কাজা করার নির্দেশ দেওয়া হতো না।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

লোকলজ্জায় রোজা রাখা কি ঠিক?
অনেকেই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সামনে লজ্জার কারণে, না খেয়ে থাকার ভান করে থাকেন বা অনেকে আবার জোর করে রোজা রাখেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুবতী অবস্থায় রোজার নিয়ত করা গুনাহের কাজ এবং সেই রোজা কবুল হবে না। তাই আলেমদের পরামর্শ হলো, যদি কেউ ব্যক্তিগত গোপনীয়তার খাতিরে সবার সাথে সেহরি বা ইফতারে অংশ নেন তাতে কোনো বাধা নেই, তবে মনে মনে রোজার নিয়ত করা যাবে না।

পিরিয়ড অবস্থায় বিকল্প ইবাদত, নেকি অর্জনের ৮ উপায়: 
নামাজ রোজা বন্ধ থাকলেও একজন নারী এই সময়ে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন। আলেমদের মতে, পিরিয়ড অবস্থায় নিচের আমলগুলো করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ:

১. যিকির-আযকার: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাসবিহগুলো পাঠ করা।

২. ইস্তেগফার: বেশি বেশি তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।

৩. দরুদ শরীফ: বিশ্বনবীর (সা.) প্রতি মহব্বতের দরুদ পাঠ করা।

৪. দোয়া: সেহরি বা ইফতারের সময় এবং শেষ রাতে হাত তুলে আল্লাহর কাছে মনের আকুতি জানানো।

৫. চিন্তা গবেষণা: জান্নাত জাহান্নাম ও সৃষ্টিজগত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা।

৬. দ্বীনি জ্ঞান অর্জন: ইসলামিক বই পড়া বা লেকচার শোনা।

৭. দান-সদকা: সামর্থ্য অনুযায়ী আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা।

৮. কুরআন তিলাওয়াত: অধিকাংশ আলেমের মতে, এই অবস্থায় কুরআন স্পর্শ না করে মুখস্থ তিলাওয়াত করা বা মোবাইল, ল্যাপটপে না ছুঁয়ে দেখে পড়াও জায়েজ আছে, বিশেষ করে যারা কুরআনের শিক্ষক বা শিক্ষার্থী ।

ঋতুস্রাব আল্লাহর পক্ষ থেকে মা-বোনদের জন্য একটি পরীক্ষা ও রহমত। এসময় নামাজ, রোজা না রাখা আল্লাহর আদেশেরই আনুগত্য। তাই মন খারাপ না করে উপরোক্ত জিকির ও তাসবিহর মাধ্যমে পবিত্র রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে বরকতময় করে তোলা সম্ভব।


সম্পর্কিত নিউজ