২০২৬ সালে এসেও পাইথন শিখছেন না? আপনার ক্যারিয়ার বড় ঝুঁকির মুখে!

২০২৬ সালে এসেও পাইথন শিখছেন না? আপনার ক্যারিয়ার বড় ঝুঁকির মুখে!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

প্রযুক্তি বিশ্বে গত এক দশকে অসংখ্য নতুন ভাষার উত্থান ঘটলেও, সিংহাসনটি যেন নিজের দখলেই রেখে দিয়েছে পাইথন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গুইডো ভ্যান রোসাম যখন শখের বশে অত্যন্ত সহজবোধ্য একটি ভাষা তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন,তখন হয়তো তিনি কল্পনাও করেননি যে তার এই সৃষ্টি একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলার কাজেও ব্যবহৃত হবে। কেন বর্তমান বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে গবেষকরা পাইথনের ওপর এতখানি নির্ভরশীল, তার পেছনে রয়েছে কিছু অকাট্য বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক কারণ, আজকের আলোচনা এ বিষয়বস্তুর উপরই!

সহজবোধ্য গঠন এবং মানুষের ভাষার সাথে সামঞ্জস্য!
পাইথনের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো এর সিনট্যাক্স বা লেখার ধরণ। অন্যান্য ভাষায় যেখানে সেমিকোলন কিংবা জটিল ব্র্যাকেটের জালে কোড আটকে থাকে, সেখানে পাইথন অনেকটা সাধারণ ইংরেজি পড়ার মতোই সহজতর। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'হাই লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ'। এটি প্রোগ্রামারকে কোডের জটিল ব্যাকরণ নিয়ে সময় নষ্ট না করে মূল লজিক বা সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে বেশি সাহায্য করে। ফলে একজন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে একজন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার, সবার পছন্দের তালিকাতেই এটি রয়েছে প্রথমে।

পাইথনকে একটি 'সুইস আর্মি নাইফ' বলা যেতে পারে। এর শক্তির মূল উৎস হলো এর অজস্র লাইব্রেরি। ডেটা বিশ্লেষণের জন্য রয়েছে Pandas, গাণিতিক জটিল হিসাবের জন্য NumPy, এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিংয়ের জন্য TensorFlow ও PyTorch-এর মতো শক্তিশালী টুল। এই লাইব্রেরিগুলো থাকার ফলে একজন ডেভেলপারকে একদম শূন্য থেকে সবকিছু শুরু করতে হয় না, বরং আগে থেকে তৈরি করা কার্যকর টুল ব্যবহার করে সহজেই বিশাল সব প্রজেক্ট দাঁড় করানো সম্ভব হয়।

বর্তমান যুগে ডেটাই হলো নতুন জ্বালানি। আর এই বিশাল ডেটা বা তথ্যকে বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎবাণী করার ক্ষেত্রে পাইথনের কোনো বিকল্প নেই।বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, পাইথনের সহজ রিডিবিলিটি জটিল অ্যালগরিদম বাস্তবায়নে ভুলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি কিংবা ডিপ লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে পাইথন এখন একক আধিপত্য বিস্তার করছে। নাসা (NASA) থেকে শুরু করে নেটফ্লিক্স পর্যন্ত সবাই তাদের সুপারিশ ব্যবস্থা এবং তথ্য বিশ্লেষণে পাইথন ব্যবহার করছে।

এর রয়েছে ক্রস প্ল্যাটফর্ম সুবিধা এবং বিশাল কমিউনিটি! পাইথন একটি ইন্টারপ্রেটেড ভাষা, যার অর্থ হলো এটি কোড রান করার আগে আলাদা করে কম্পাইল করার প্রয়োজন হয় না। এটি উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্স সব জায়গাতেই সমানভাবে কাজ করে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় ডেভেলপার কমিউনিটি। কোনো প্রোগ্রামার যখন কোনো সমস্যায় পড়েন, তখন তার সমাধানের জন্য ইন্টারনেটে খুন সহজেই লাখো মানুষের সহায়তা পাওয়া যায়। এই বিশাল সাপোর্ট সিস্টেম পাইথনকে দিয়েছে অমরত্ব।

পাইথনের এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তার কারণ কেবল এর সহজতা নয়, বরং এর অভিযোজন ক্ষমতা। এটি সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আধুনিক প্রযুক্তির ছাঁচে গড়ে নিয়েছে। অটোমেশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি কিংবা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রতিটি ক্ষেত্রেই পাইথনের পদচারণা স্পষ্ট। প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে পাইথন কেবল একটি প্রোগ্রামিং ভাষা নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের এক শক্তিশালী বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামীর স্মার্ট পৃথিবী বিনির্মাণে পাইথন যে চালকের আসনে থাকবে, তাতে নেই কোনো সন্দেহ।


সম্পর্কিত নিউজ