ভাজাপোড়া এড়িয়ে ইফতারে আনুন হেলদি টুইস্ট: সেরা টিপস!

ভাজাপোড়া এড়িয়ে ইফতারে আনুন হেলদি টুইস্ট: সেরা টিপস!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

ইফতার মানেই কি শুধু তৈলাক্ত খাবারের সমাহার? অনেকেরই অভিযোগ থাকে, ইফতারের পরপরই শরীর ছেড়ে দেয় এবং প্রচণ্ড অলসতাও কাজ করে। এর প্রধান কারণ হলো সুগার স্পাইক এবং অতিরিক্ত ট্রান্স-ফ্যাট। আমাদের ঐতিহ্যের ভাজাপোড়া স্বাদ ঠিক রেখেও কীভাবে ইফতারকে প্রোটিন ও ফাইবারের শক্তিতে ভরপুর করা যায়? একটি আদর্শ ইফতার প্লেটে কতটুকু পানি, কতটুকু প্রাকৃতিক চিনি বা খেজুর এবং কতটুকু জটিল শর্করা থাকা উচিত সেই পরিমাপই জানবো আজকে আমরা।

ইফতারের একটা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শরীরের হারানো পানি এবং গ্লুকোজের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, কোনোভাবে শরীরকে ভারী করে তোলা নয়। আমরা যখন ইফতারে বেগুনি, পিয়াজু বা সিঙাড়া খাই, তখন আমাদের শরীরের রক্ত সঞ্চালন পরিপাকতন্ত্রে কেন্দ্রীভূত হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে ক্লান্তি, গ্যাস্ট্রিক এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। একটি আদর্শ ইফতার প্লেট হওয়া উচিত ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল থাকবে সঠিক অনুপাতে।

রিহাইড্রেশন এবং প্রাকৃতিক গ্লুকোজের উৎস!
ইফতার শুরু করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো পানি এবং খেজুর। সারা দিনের পানির অভাব পূরণে ইফতারে সাধারণ পানির পাশাপাশি ডাবের পানি বা বাড়িতে তৈরি চিনিহীন লেবুর শরবত রাখা জরুরি। এছাড়া খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা এবং ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব দ্রুত কিন্তু স্থিতিশীলভাবে বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের পেশির ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।

ভাজাপোড়ার বদলে এমন খাবার বেছে নিতে হবে যা ধীরে ধীরে শক্তি নির্গত করে। মুড়ি বা চিড়া এক্ষেত্রে খুবই ভালো এক বিকল্প।

দই-চিড়া ও কলা একটি আদর্শ প্রোবায়োটিক খাবার। দই পাকস্থলীর বন্ধু ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় করে এবং সারাদিনের অভুক্ত পেটে এসিডিটি হতে বাধা দেয়। এছাড়া ছোলার চাট তৈরির সময় সেটি ডুবো তেলে না ভেজে সামান্য তেল ও মশলায় সেদ্ধ করে সাথে শসা, টমেটো ও কাঁচা মরিচ মিশিয়ে নিলে তা প্রোটিন ও ফাইবারের চমৎকার উৎস হয়।

মাংসের চপ বা ফ্রাই করার বদলে গ্রিল করা চিকেন বা ওভেনে বেক করা প্রোটিন বেছে নিন। ডিম সেদ্ধ ইফতার প্লেটের পুষ্টিগুণ অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রোটিন আমাদের দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত রাখে এবং পেশিক্ষয় রোধ করে।

ইফতার প্লেটের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ হওয়া উচিত মৌসুমি ফল। তরমুজ, পেঁপে বা আপেল কেবল ভিটামিন যোগায় না, বরং এগুলোতে থাকা প্রচুর পানি ডিহাইড্রেশন দূর করে। ফলের সালাদ বানানোর সময় ওপর থেকে বাড়তি লবণ বা চিনি যোগ করা পরিহার করুন।

কিভাবে তৈরি করবেন আপনার 'হেলদি ইফতার প্লেট' 
খাবারের ধরন :
☞ পানীয় - ডাবের পানি বা পুদিনা-লেবুর শরবত, ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে।

☞ ফল - ২-৩টি খেজুর ও এক বাটি তরমুজ বা পেঁপে। এগুলো তৎক্ষণাৎ শক্তি ও হজমে সহায়তা।

☞ শর্করা ও প্রোবায়োটিক - দই-চিড়া অথবা ওটস স্মুদি, পেট ঠান্ডা রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ এনার্জি দেয়।

☞ প্রোটিন - সেদ্ধ ছোলা (মশলাযুক্ত) ও ১টি সেদ্ধ ডিম  পেশি মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।

☞ সবজি - শসা ও গাজরের সালাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

স্বাস্থ্যকর ইফতারের কিছু নিয়ম :
☞ ধীরে ধীরে খাওয়া। দ্রুত খাবার খেলে মস্তিষ্ক তৃপ্তির সংকেত পাওয়ার আগেই অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়। তাই চিবিয়ে ধীরে ধীরে খান।

☞ তেল পরিহারের কৌশল- যদি পিয়াজু খেতেই হয়, তবে সেটি ডুবো তেলে না ভেজে এয়ার ফ্রাই করুন অথবা ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেলে শ্যালো ফ্রাই করুন।

☞ চিনিমুক্ত থাকুন। কৃত্রিম রং দেওয়া শরবত বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করুন। এগুলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে লিভারে চর্বি জমায়।

ইফতার মানেই ভূরিভোজ নয়, বরং এটি শরীরকে বিশোধন বা ডিটক্স করার একটি প্রক্রিয়া। একটি পরিকল্পিত ইফতার প্লেট আপনার কেবল ওজনেই নিয়ন্ত্রণ রাখবে না, বরং আপনাকে দেবে দীর্ঘস্থায়ী কর্মক্ষমতা।


সম্পর্কিত নিউজ