কেন এই একটি বই আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর ধারণা বদলে দেবে!

কেন এই একটি বই আপনার পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এর ধারণা বদলে দেবে!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

অস্টিন ক্লিওনের মতে, “শো ইয়োর ওয়ার্ক” মানে কেবল চূড়ান্ত পণ্যটি দেখানো নয়, বরং আপনি কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন সেই গল্পটি বলা। এই ডকুমেন্টেশন বা নথিবদ্ধ করার প্রক্রিয়াটি কেবল অন্যদের সাহায্য করে না, এটি আপনার নিজের শেখার গতিকেও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যখন আপনি জনসমক্ষে আপনার কাজ দেখান, তখন আপনি ফিডব্যাক পান, নতুন বন্ধু পান এবং নিজের কাজে আরও স্বচ্ছতা খুঁজে পান।

কেন নিজের কাজকে দুনিয়ার সামনে দেখানোটা জরুরি?
আজকের ডিজিটাল যুগে প্রতিভাকে গোপন রাখা মানে হলো নিজের সম্ভাবনাকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করে ফেলা। আগে মনে করা হতো, একদিন একজন জহুরি বা বিশেষজ্ঞ আসবে এবং  আমাদের লুকানো প্রতিভা আবিষ্কার করবে। কিন্তু আধুনিক মনোবিজ্ঞান এবং নেটওয়ার্কিং থিওরি বলছে, সুযোগ এখন আর দরজায় কড়া নাড়ে না। বরং নিজের কাজের চিহ্ন নিজেকেই চারদিকে ছড়িয়ে রাখতে হয়, যাতে সুযোগই আমাদেরকে খুঁজে নিতে পারে। নিজের কাজকে দুনিয়ার সামনে উপস্থাপনের এই শিল্প কেবল প্রচার নয়, এটি নিজের প্রতিভাকে ঝালাই করার একটি প্রক্রিয়া।

'প্রোডাক্ট' নয় বরং 'প্রসেস' শেয়ার করুন!
আমরা সাধারণত কোনো কাজের শেষ ফলাফল  দেখাতে পছন্দ করি। কিন্তু ক্লিওন বলছেন, মানুষ ফলাফলের চেয়ে আপনার কাজ করার পদ্ধতি বা প্রসেস দেখতে বেশি আগ্রহী। আপনি যখন প্রতিদিনের ছোট ছোট অগ্রগতি, ভুল বা নতুন কিছু শেখার ধাপগুলো শেয়ার করেন, তখন তা অন্যদের কাছে অনেক বেশি মানবিক ও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে বলা হয় ডকুমেন্টিং। এটি আপনার কাজের একটি জীবন্ত ইতিহাস তৈরি করে যা পরবর্তীতে রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।

আমেচার বা শিক্ষানবিশ হওয়ার সুবিধা:
অনেকে মনে করেন, "আমি তো এখনো এক্সপার্ট হইনি, আমি কী দেখাব?"কিন্তু  মজার বিষয় হলো, একজন বিশেষজ্ঞের চেয়ে একজন শিক্ষানবিশের কাছ থেকে মানুষ বেশি শিখতে পারে। কারণ শিক্ষানবিশ জানে একজন নতুন মানুষের শিখতে গিয়ে কোথায় কোথায় সমস্যা হয়। আপনার ভেতরে শেখার যে ব্যাকুলতা, সেটাই আপনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। আপনি যখন নিজেকে একজন চিরন্তন ছাত্র বা লাইফলং লার্নার হিসেবে উপস্থাপন করেন, তখন ভুল করার ভয় কেটে যায় এবং আপনি আরও সাহসের সাথে নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারেন।

'সিনিয়াস' বনাম 'জিনিয়াস' :
আমরা মনে করি প্রতিভা আসে একা কাজ করা কোনো জিনিয়াস বা অতিমানবের মাথা থেকে। কিন্তু বাস্তবে বড় বড় আবিষ্কার বা শিল্পকর্ম তৈরি হয় একটি বিশেষ পরিমণ্ডলে বা গ্রুপের মধ্যে, যাকে বলা হয় সিনিয়াস। আপনার কাজ শেয়ার করার মাধ্যমে আপনি আসলে একটি সিনিয়াসের অংশ হয়ে ওঠেন। আপনার শেয়ার করা সামান্য একটি তথ্য অন্য কারো বড় কোনো সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে এবং এর বিনিময়ে আপনিও নতুন আইডিয়া বা ফিডব্যাক পেতে পারেন।

নীরব শ্রোতা থেকে সক্রিয় স্রষ্টা হওয়ার পথ:
ইন্টারনেট এখন কেবল কনজিউম বা তথ্য গেলার জায়গা নয়, এটি হলো কন্ট্রিবিউট করার জায়গা। আপনি যখন প্রতিদিন আপনার কাজের অন্তত ১ শতাংশ অনলাইনে বা মানুষের মাঝে শেয়ার করেন, তখন আপনি একটি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি করেন। দীর্ঘ মেয়াদে এটি আপনাকে কর্মক্ষেত্রে অভাবনীয় সুবিধা দেয়। আপনার কাজ যখন মানুষের চোখের সামনে থাকে, তখন আপনার নেটওয়ার্ক আপনার হয়ে কথা বলে। এমনকি আপনি যখন ঘরে ঘুমিয়ে থাকেন তখনও।

প্রতিভাকে উপস্থাপনের কৌশল : 
☞ ছোট ছোট অংশ শেয়ার করুন। আপনার বিশাল প্রজেক্ট শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না। প্রতিদিন যা শিখছেন বা যা তৈরি করছেন, তার একটি ছবি, ভিডিও বা লেখা সামাজিক মাধ্যমে বা ব্লগে পোস্ট করুন।

☞ অন্যকে শেখান। আপনি যা জানেন তা অন্যকে শেখানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার নিজের জ্ঞান আরও পোক্ত হয়। তথ্য গোপন না করে বরং বিলিয়ে দিন, কারণ জ্ঞান দিলে কমে না বরং বাড়ে।

☞ সমালোচনার বর্ম তৈরি করুন। আপনার কাজ যখন পাবলিক হবে, তখন সমালোচনাও আসবে। এই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে গ্রহণ করুন।

☞ মানুষের গল্প বলুন। আপনার কাজের পেছনে যে গল্প আছে, যে সংগ্রাম আছে তা তুলে ধরুন। মানুষ তথ্যের চেয়ে গল্পের সাথে বেশি আবেগীয়ভাবে যুক্ত হতে পারে।

নিজের কাজ বা প্রতিভাকে মানুষের সামনে তুলে ধরা মানে আত্মপ্রচার নয়, বরং এটি হলো নিজের সত্তাকে পৃথিবীর কাছে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। আপনার কাছে যা সাধারণ মনে হচ্ছে, অন্য কারো কাছে তা অসাধারণ হতে পারে। তাই নিজেকে লুকিয়ে না রেখে আপনার সৃজনশীল যাত্রার পদচিহ্নগুলো রেখে যান। মনে রাখবেন, আপনার কাজ তখনই সফল হয় যখন তা অন্যের জীবনে কোনো প্রভাব ফেলে।


সম্পর্কিত নিউজ