মাত্র ৭ দিনে পোরস কমানোর সহজ উপায়, ঘরেই মিলবে সমাধান!

মাত্র ৭ দিনে পোরস কমানোর সহজ উপায়, ঘরেই মিলবে সমাধান!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

ইন্টারনেটে পোরস কমানোর হাজার হাজার ঘরোয়া টোটকা পাওয়া যায়, যার অনেকগুলোই আপনার ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করে ফেলতে পারে। পোরস কোনো পেশি নয় যে এটি সংকোচন-প্রসারণ করা যাবে, কিন্তু একে টাইট রাখা অসম্ভব কিছু না। সঠিক ক্লিনজার থেকে শুরু করে রেটিনল বা নিয়াসিনামাইডের ব্যবহার, কোনটি আপনার পোরসকে দৃশ্যত ছোট করে তুলবে! পোরস ম্যানেজমেন্টের সেই গোপন রহস্য নিয়েই আমাদের আজকের এই বিশেষ গাইডলাইন।

পোরস কেন বড় দেখায়?
সাধারণত তিনটি প্রধান কারণে আমাদের পোরস দৃশ্যমান ও বড় হয়।

☞ অতিরিক্ত সেবাম নিঃসরণ: যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের সেবাসিয়াস গ্রন্থিগুলো অনেক বেশি তেল তৈরি করে। এই তেল যখন মৃত কোষের সাথে মিশে পোরসের মুখে জমে যায়, তখন ছিদ্রটি প্রসারিত হয়ে বড় দেখায়।

☞ ত্বকের ইলাস্টিকিটি কমে যাওয়া: বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক থেকে কোলাজেন এবং ইলাস্টিন  তন্তুগুলো কমতে শুরু করে। ফলে পোরসের চারপাশের চামড়া ঢিলে হয়ে যায় এবং ছিদ্রগুলো আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
☞ সূর্যের ক্ষতি : সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে বের হলে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি কোলাজেন ধ্বংস করে দেয়, যা পোরস বড় হওয়ার অন্যতম গোপন কারণ।

ডাবল ক্লিনজিং, পোরস পরিষ্কারের প্রথম ধাপ!
পোরস ছোট দেখানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একে ময়লা ও তেলমুক্ত রাখা। সাধারণ ফেসওয়াশ অনেক সময় পোরসের গভীরে জমে থাকা সানস্ক্রিন বা মেকআপ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়না। এজন্য রাতে ডাবল ক্লিনজিং পদ্ধতি অনুসরণ করাটা খুবই জরুরি। প্রথমে একটি অয়েলবেজড ক্লিনজার দিয়ে তেল ও ময়লা গলিয়ে ফেলতে হবে, এরপর ওয়াটারবেজড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এতে পোরস গভীর থেকে পরিষ্কার হয় এবং ছোট দেখায়।

রাসায়নিক এক্সফোলিয়েশন বনাম ফিজিক্যাল স্ক্রাব:
দানাযুক্ত স্ক্রাব দিয়ে ঘষলে ত্বকের মাইক্রোটিয়ার বা সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হতে পারে। এর বদলে বিএইচএ (BHA - Salicylic Acid) সমৃদ্ধ কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করা অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত। স্যালিসিলিক অ্যাসিড চর্বিতে দ্রবণীয়, তাই এটি পোরসের ভেতরে ঢুকে জমে থাকা তেল গলিয়ে ফেলে এবং ব্ল্যাকহেডস প্রতিরোধ করে। সপ্তাহে ২-৩ দিন এটি ব্যবহার করলে পোরসের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট মনে হয়।

নায়াসিনামাইড এবং রেটিনয়েডের ভূমিকা!
নায়াসিনামাইড (Niacinamide/Vitamin\ B3) ত্বকের তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পোরসের চারপাশের চামড়াকে শক্ত রাখে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের টেক্সচার মসৃণ হয়। আর রেটিনয়েড (Retinoid/Retinol), কোষের পুনর্জন্ম ত্বরান্বিত করে এবং কোলাজেন বাড়িয়ে দেয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে পোরস মিনিমাইজ করার জন্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে পরিচিত।

স্বাস্থ্যকর ও মসৃণ ত্বকের জন্য টিপস :
☞ আইস থেরাপি: মেকআপ করার আগে একটি বরফের টুকরো পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে মুখে হালকা ঘষে নিতে পারেন। এটি সাময়িকভাবে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে পোরসকে সংকুচিত দেখায়।

☞ সানস্ক্রিন মাস্ট: বাইরে যান বা ঘরে থাকুন, প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। কোলাজেন সুরক্ষিত থাকলে পোরস আপনাআপনি টানটান থাকবে।

☞ ক্লে মাস্ক (Clay Mask): সপ্তাহে একদিন কাওলিন বা বেন্টোনাইট ক্লে মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি স্পঞ্জের মতো ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়।

☞ হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার: ত্বক শুষ্ক থাকলে পোরস বেশি বড় দেখায়। তাই তেলমুক্ত এবং নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ত্বকের ছিদ্রগুলো আপনার শরীরেরই অংশ। লক্ষ্য হওয়া উচিত একে পুরোপুরি দূর করা নয়, বরং পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর রাখা।


সম্পর্কিত নিউজ