মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে এই আমলটি করুন, দোয়া কবুল হবে!

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙলে এই আমলটি করুন, দোয়া কবুল হবে!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

রাতের গভীর স্তব্ধতায় যখন সবার চোখই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ আপনার ঘুম ভেঙে যাওয়াটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নাও হতে পারে। হতে পারে মহান আল্লাহ আপনাকে তাঁর স্মরণ করার এবং আপনার মনের আকুতিগুলো কবুল করার এক বিশেষ সুযোগ করে দিয়েছেন । সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনই একটি আমলের কথা বলেছেন, যা করলে ওই মুহূর্তের প্রতিটি প্রার্থনা সরাসরি আল্লাহর দরবারে কবুল হয়।

সেই মহিমান্বিত আমলটি কী?
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বর্ণনা অনুযায়ী, রাতে জেগে এই বিশেষ জিকিরটি পাঠ করলে তিনটি অভাবনীয় পুরস্কার পাওয়া যায়।
১. তাৎক্ষণিক ক্ষমা। গুনাহ মাফের দোয়া করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।
২. দোয়া কবুল। যেকোনো নেক মকসুদ বা চাওয়া থাকলে তা পূরণ করা হয়।
৩. মকবুল সালাত। ওযু করে নামাজ পড়লে সেই নামাজ নিশ্চিতভাবে কবুল হয়।

দোয়াটি হলো - 
উচ্চারণ:
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুওয়া 'আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদির। আলহামদুলিল্লাহি ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ :
’’আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর প্রাপ্য, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান, আল্লাহ মহা পবিত্র, আল্লাহই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, আল্লাহ সুমহান, মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত অন্যায় থেকে বিরত থাকার কিংবা ভালো কাজ করার শক্তি কারো নাই। ’’

যেভাবে আমলটি করবেন- 
রাতে ঘুম ভেঙে গেলে দোয়াটি পাঠ করুন। এরপর বলুন "আল্লাহুম্মাগফিরলী" (হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন)। তারপর মনের যেকোনো নেক হাজত বা ইচ্ছার কথা আল্লাহর কাছে আকুতি মিনতি করে বলুন। যদি সম্ভব হয়, উঠে ওযু করে অন্তত ২ রাকাত তাহাজ্জুদ বা নফল নামাজ আদায় করুন।

উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে উক্ত দোয়াটি  বলে এবং অতঃপর বলে ’’প্রভু! আমাকে ক্ষমা করো’’(আল্লাহুম্মাগফিরলি), তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। রাবী ওলীদ ইবনে মুসলিমের বর্ণনায় আছে, এ দোয়া করলে তার দোয়া কবুল করা হয়। অতঃপর সে উঠে গিয়ে উযু করে নামায পড়লে তার নামায কবুল করা হয়। " সুবহানাল্লাহ।

রেফারেন্স : সহীহুল বুখারী ১১৫৪, তিরমিযী ৩৪১৪, আবূ দাউদ ৫০৬০, আহমাদ ২২১৬৫, দারেমী ২৬৮৭, তাখরীজুল কালিম ৪২। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

দিনের কর্মব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় মন উজাড় করে আল্লাহর সাথে কথা বলার তেমন সুযোগ পাই না। রাতের নির্জনতায় এই দোয়াটি পড়া মানে হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করা এবং নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করা। আর আল্লাহ তাঁর অক্ষম বান্দার ডাক এই সময়ে কখনোই ফিরিয়ে দেন না। আল্লাহু'আলাম।


সম্পর্কিত নিউজ