{{ news.section.title }}
চুলের বয়েলিং পয়েন্ট থেকে বাঁচার রহস্য জানুন আজই!
ভাবুন তো, একটি গরম কড়াইয়ে কয়েক ফোঁটা পানি দিলে যা হয়, আপনার চুলের ভেতরেও ঠিক তা-ই ঘটছে! ভিজে বা আধা ভেজা চুলে ড্রায়ার বা স্ট্রেইটনার চালালে চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক পানি বাষ্পীভূত হয়ে বের হতে না পেরে ভেতরেই বিস্ফোরণ ঘটায়। একেই বলা হয় বাবল হেয়ার। চুলের ভেতরে ছোট ছোট ফাঁপা গর্ত তৈরি হয়ে চুল কাঁচের মতো ভঙ্গুর হয়ে যায়।
তাপ প্রয়োগের আগে হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করা কোনো বিলাসিতা কিছু নয়, এটি একটি বর্ম। এই স্প্রে বা সিরামগুলোতে সাধারণত সিলিকন, যেমন: Cyclomethicone বা Dimethicone এবং পলিমার থাকে।
কিভাবে কাজ করে?
হিট প্রোটেক্ট্যান্ট চুলের ওপর একটি পাতলা আবরণ তৈরি করে যা তাপকে সরাসরি চুলের গভীরে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং সমানভাবে তাপ ছড়িয়ে দেয়। এটি চুলের কিউটিকলকে সিল করে দেয়, ফলে ভেতরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বাষ্প হয়ে উড়ে যেতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো মানের হিট প্রোটেক্ট্যান্ট প্রায় ৫০% পর্যন্ত ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম।
তাপমাত্রার সঠিক নিয়ন্ত্রণ:
অধিকাংশ স্টাইলিং টুলে তাপমাত্রা ২৩০°C পর্যন্ত থাকে, যা চুলের জন্য চরম বিপদজনক। সুস্থ চুলের জন্য ১৮০°C বা তার কম তাপমাত্রা আদর্শ।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
১৮৫°C এর বেশি তাপমাত্রা অতিক্রম করলে কেরাটিন প্রোটিন তার স্থায়ী আকৃতি হারাতে শুরু করে। পাতলা বা কালার করা চুলের ক্ষেত্রে এই তাপমাত্রা আরও কমিয়ে, ১৫০°C - ১৬০°C রাখা উচিত । সবসময় মনে রাখা উচিত যে, একবারের টানে চুল সোজা করার চেয়ে কম তাপে দুবার করা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর।
ভেজা চুলে তাপ প্রয়োগের ভয়াবহতা:
চুল যখন ভেজা থাকে, তখন এর কিউটিকলগুলো উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় স্ট্রেইটনার বা কার্লিং আয়রন ব্যবহার করলে চুলের ভেতরের পানি হঠাৎ ফুটে উঠে বাষ্পে পরিণত হয়, যা চুলের কাঠামোকে ভেতর থেকে বিস্ফোরণের মতো ফাটিয়ে দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ফ্ল্যাশ ইভাপোরেশন বলা হয়। তাই স্টাইলিং টুলের আগে চুল অন্তত ৮০-৯০% শুকিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রযুক্তির ব্যবহার:
আধুনিক হেয়ার ড্রায়ারগুলোতে আয়নিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি নেগেটিভ আয়ন তৈরি করে যা চুলের ওপর থাকা পজিটিভ চার্জযুক্ত পানির অণুকে দ্রুত ভেঙে ফেলে। এর ফলে চুল দ্রুত শুকায় এবং তাপের সংস্পর্শে কম সময় থাকে। অন্যদিকে, সিরামিক প্লেট যুক্ত স্ট্রেইটনার তাপকে সমানভাবে বিতরণ করে, যা চুলে হট স্পট বা নির্দিষ্ট কোনো অংশে অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়া রোধ করে।
চুলকে সুরক্ষিত রাখার টিপস:
☞ এয়ার ড্রাই কে প্রাধান্য দিন। সপ্তাহে অন্তত ২-৩ দিন কোনো হিট ছাড়াই চুল শুকাতে দিন। এটি চুলকে পুনরায় আর্দ্রতা সঞ্চয় করতে সময় দেয়।
☞ প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার প্রোটিন সমৃদ্ধ হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। এটি তাপের কারণে নষ্ট হওয়া কেরাটিন মেরামত করতে সাহায্য করে।
☞ স্ট্রেইট করার সময় এক জায়গায় বারবার টুল চালাবেন না। দ্রুত এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে নিন।
☞ ধাতব ব্রাশ ব্যবহারের বদলে কাঠের বা প্রাকৃতিক তন্তুর ব্রাশ ব্যবহার করুন। ধাতব ব্রাশ অতিরিক্ত গরম হয়ে চুলের ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।