{{ news.section.title }}
জানুন ইতালিয়ান জেলাটোর ম্যাজিক রেসিপি!
আইসক্রিম মানেই যদি হয় বরফ আর কৃত্রিম চিনির স্তূপ, তাহলে গেলাটো হলো তার ঠিক উল্টো পিঠ। প্রাকৃতিক ফল, খাঁটি বাদাম আর গাঢ় দুধের এক অবিশ্বাস্য মেলবন্ধনই হলো এই জেলাটো। এটি মুখে দিলে কামড় দিতে হয় না, বরং এটি মাখনের মতো গলে গিয়ে হৃদয়ে প্রশান্তি নামিয়ে আনে।
১৬শ শতাব্দীতে ফ্লোরেন্সের কসিমো রুগেরি এবং বার্নার্ডো বুওন্টালেন্টিকে জেলাটোর আদি রূপ তৈরির কৃতিত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু একে বিশ্বজনীন করার পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেন সিসিলিয়ান শেফ ফ্রান্সেস্কো প্রোকোপিও দেই কোল্টেলি। ১৬৮৬ সালে তিনি প্যারিসে ক্যাফে প্রোকোপ খুলে প্রথমবারের মতো অভিজাতদের এই খাবারটি সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে আসেন। ইতালীয় জেলটোর জনক বলা হয়।
অনেকে জেলাটোকে আইসক্রিম মনে করলেও,আইসক্রিম আর জেলাটোর মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। সাধারণ আইসক্রিমে চর্বির পরিমাণ থাকে অনেক বেশি, কিন্তু জেলাটোতে বাটারফ্যাট থাকে মাত্র ৬-৯%। আইসক্রিমে প্রচুর বাতাস মেশানো হয় যাতে এর আয়তন বাড়ে। জেলাটোতে বাতাস থাকে মাত্র ২৫-৩৫%, যার ফলে এটি অনেক বেশি ঘন ও সমৃদ্ধ হয়। জেলাটোতে আইসক্রিমের চেয়ে কিছুটা বেশি তাপমাত্রায় পরিবেশন করা হয়। এতে জিহ্বা অবশ হয়ে আসে না, ফলে উপাদানের আসল স্বাদ সরাসরি অনুভূত হয়।
জেলাটো তৈরি একটি জটিল প্রক্রিয়া। উপাদানগুলোকে প্রথমে 85°C তাপমাত্রায় পাস্তুরাইজ করা হয় এবং পরে দ্রুত 5°C-এ নামিয়ে আনা হয়। এতে চিনির অণুগুলো পানির সাথে মিশে বরফের বড় স্ফটিক তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে তৈরি হয় সেই সিগনেচার সিল্কি স্মুথ টেক্সচার।
রেসিপি:
উপকরণ:
☞ ফুল ক্রিম দুধ- ২ কাপ
☞ হেভি ক্রিম- ১/৩ কাপ
☞ চিনি- ৩/৪ কাপ
☞ ডিমের কুসুম- ৪টি
☞ ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট- ১ চা চামচ
প্রস্তুত প্রণালী:
১. দুধ ও ক্রিম মাঝারি আঁচে বাষ্প ওঠা পর্যন্ত, না ফুটিয়ে গরম করুন।
২. অন্য পাত্রে ডিমের কুসুম ও চিনি মিশিয়ে হালকা রঙের মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন।
৩. গরম দুধ অল্প অল্প করে ডিমের মিশ্রণে ঢালুন এবং দ্রুত নাড়তে থাকুন,যাতে করে ডিম জমাট না বেঁধে যায়।
৪. তারপর মিশ্রণটি আবার চুলায় দিয়ে অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না কাস্টার্ডের মতো ঘন হয়।
৫. এরপর মিশ্রণটি ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখুন। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর বের করে ভালোভাবে নাড়ুন, যাতে বাতাস কম ঢোকে এবং পুনরায় ফ্রিজে রাখুন। এভাবে কয়েকবার করলে তৈরি হবে খাঁটি গেলাটোর টেক্সচার