রোজায় হাইড্রেটেড থাকার ৫টি কৌশল শিখুন!

রোজায় হাইড্রেটেড থাকার ৫টি কৌশল শিখুন!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

সারাদিন সিয়াম সাধনার পর এক গ্লাস ঠান্ডা পানিকে যেন মনে হয়, অমৃত। কিন্তু আপনি কি জানেন, ইফতারের পর প্রতি ঘণ্টায় অল্প অল্প করে পানি পান করা শরীরকে অধিক হাইড্রেটেড রাখে! রোজার সময় শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার চেয়ে তা ধরে রাখাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

এই রোজায় তৃষ্ণা আর ক্লান্তিকে বিদায় জানাতে অনুসরণ করুন ৫ টি উপায়-

১. ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধাপে ধাপে পানি পান করুন। একবারে অনেক বেশি পানি পান করলে তা দ্রুতই মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এবং কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ইফতারের সময় ২ গ্লাস, ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ১ গ্লাস এবং সেহরির সময় ২ গ্লাস, এভাবে নিয়ম মেনে চললে শরীর দীর্ঘসময় পানি ধরে রাখতে পারে। একবারে ঢকঢক করে পানি না খেয়ে চুমুক দিয়ে ধীরে ধীরে পান করা কোষের আর্দ্রতা বজায় রাখতে বেশি কার্যকর।

২. ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন- চা বা কফি সীমিত করা। অনেকেই সেহেরিতে বা ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করতে কড়া চা বা কফি পান করেন। কিন্তু ক্যাফেইন হলো একটি ডাইউরেটিক উপাদান। এটি শরীর থেকে দ্রুতই পানি বের করে দেয় এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ তৈরি করে। এতে শরীর আরও দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। রোজার সময় তৃষ্ণা এড়াতে চা বা কফির বদলে ভেষজ চা অথবা সাধারণ পানি বেছে নেওয়াটাই তাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. সোডিয়াম ও অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা উচিত। ইফতারে আমরা যে ভাজাপোড়া বা প্রসেসড খাবার খাই, তাতে প্রচুর পরিমাণে লবণ বা সোডিয়াম থাকে। সোডিয়াম শরীরের কোষ থেকে পানি শুষে নেয়, যার ফলে তৃষ্ণা অনেক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে সেহেরিতে নোনতা খাবার বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খেলে সারাদিন গলা শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। খাবারের প্রাকৃতিক স্বাদ বজায় রাখুন এবং বাড়তি লবণ এড়িয়ে চলুন।

৪. পানীয়র চেয়ে জলীয় ফলে গুরুত্ব দেওয়া ভালো। পানি সরাসরি পান করার পাশাপাশি এমন খাবার বেছে নিন যেগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে পানির পরিমাণ বেশি। যেমন- শসা (৯৬% পানি), তরমুজ (৯২% পানি), এবং কমলা বা মাল্টাতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। ইফতারে চিনির শরবতের বদলে এই ফলগুলো খেলে শরীর শুধু পানিই পায় না, দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রও থাকে। ডাবের পানি পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস, যা পেশির খিঁচুনি রোধ করে।

৫. ঠান্ডা পরিবেশ ও সূর্যালোক নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ঘামের মাধ্যমে পানি বেরিয়ে যায়। দিনের বেলা যতটা সম্ভব রোদে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। যদি বাইরে যেতেই হয়, তবে ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। দিনের বেলা নিয়মিত ওযু করা বা সম্ভব হলে গোসল করা শরীরের বাহ্যিক তাপমাত্রা কমিয়ে পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করে।

গুরুত্বপূর্ণ  তথ্য:
☞ পানির অভাব বুঝবেন যেভাবে: যদি প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছে। স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ রঙ হলো সুস্থতার লক্ষণ।

☞ ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স: সেহরিতে দই বা কলা খেলে তা শরীরে পটাশিয়াম ও প্রোবায়োটিকের যোগান দেয়, যা তৃষ্ণা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

☞ চিনির সতর্কতা: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ইনসুলিন স্পাইক তৈরি করে শরীরকে ক্লান্ত করে ফেলে, তাই প্রাকৃতিক ফলের রসই সেরা।

রোজায় সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠিই  হলো পরিমিতিবোধ। সঠিক সময়ে সঠিক খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে ডিহাইড্রেশন আপনার রোজার ইবাদতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। নিজের শরীরের সংকেত বুঝুন এবং সুস্থ থেকে রমজানের পূর্ণ সুফল উপভোগ করুন। 


সম্পর্কিত নিউজ