{{ news.section.title }}
প্রতিদিন ৫ মিনিট স্ট্রেচিংয়ে রোগ প্রতিরোধ বৃদ্ধি?শরীরচর্চার নতুন তথ্য
আমরা মনে করি, স্ট্রেচিং মানেই শুধু শরীরকে একটু নমনীয় করা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত স্ট্রেচিং করলে শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ট্রাফিক সচল হয়। যখন আমরা পেশি প্রসারিত করি, তখন শ্বেত রক্তকণিকা শরীরের প্রতিটি কোণে দ্রুত পৌঁছে গিয়ে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি আপনার শরীরের ভেতরের এক অদৃশ্য যুদ্ধ প্রস্তুতি।
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি প্রধান অংশ হলো লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বা লসিকা তন্ত্র। এটি আমাদের শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় এবং শ্বেত রক্তকণিকা বহন করে। লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম মূলত শরীরের নড়াচড়া এবং পেশির সংকোচনের ওপর নির্ভর করে। আপনি যখন স্ট্রেচিং করেন, তখন লসিকা গ্রন্থিগুলো উদ্দীপিত হয়। এর ফলে লসিকা প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, যা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করা কোষগুলোকে দ্রুত শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে ফেলে। যখন আমরা স্ট্রেসে থাকি, শরীর কর্টিসল নামক হরমোন নিঃসরণ করে। অতিরিক্ত কর্টিসল ইমিউন সেলগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। আর নিয়মিত স্ট্রেচিং শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে, যা আমাদের শান্ত রাখে। এতে কর্টিসলের মাত্রা কমে যায় এবং ইমিউন সিস্টেম পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে কাজ করার সুযোগ পায়।
শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ থাকলে তা ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয় এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী রোগের সৃষ্টি করে। পেন্সিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়, যেমন: ১০-১৫ মিনিট স্ট্রেচিং করলে শরীরের কানেক্টিভ টিস্যুতে প্রদাহের পরিমাণ কমে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে এবং বাইরের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত রাখে।
স্ট্রেচিং করলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ভ্যাসোডাইলেশন বলে। উন্নত রক্ত সঞ্চালনের ফলে শরীরের প্রতিটি কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছায়। যখন রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে, তখন শরীরের প্রতিরক্ষা কোষগুলো, যেমন: T-cells এবং Natural Killer cells অনেক বেশি সজাগ ও সক্রিয় থাকে।
কার্যকর স্ট্রেচিংয়ের জন্য টিপস:
☞ ডাইনামিক স্ট্রেচিং: ব্যায়ামের আগে শরীরকে সচল করতে হালকা মুভমেন্টসহ স্ট্রেচিং করুন।
☞ স্ট্যাটিক স্ট্রেচিং: দিনের শেষে বা রাতে ঘুমানোর আগে প্রতিটি স্ট্রেচ ১৫-৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এটি ভালো ঘুম নিশ্চিত করে, যা ইমিউনিটির জন্য অপরিহার্য।
☞ গভীর শ্বাস: স্ট্রেচিং করার সময় নাক দিয়ে গভীর শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। এটি আপনার লিম্ফ্যাটিক প্রবাহকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
☞ নিয়মিত অভ্যাস: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এক দিনে বাড়ে না। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট স্ট্রেচিং দীর্ঘমেয়াদে আপনার শরীরের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।