সফলতায় এগিয়ে কে? ইন্ট্রোভার্টরা নাকি এক্সট্রোভার্টরা!

সফলতায় এগিয়ে কে? ইন্ট্রোভার্টরা নাকি এক্সট্রোভার্টরা!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে বেশি কথা বলা বা সবার মধ্যমণি হওয়াকেই সাফল্যের মাপকাঠি ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ও আধুনিক ব্যবসা জগতের দিকে তাকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। যারা ভিড়ের মাঝে চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন, তাদের মস্তিষ্কের গঠন কি সত্যিই অন্যদের চেয়ে আলাদা!

মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং এর মতে, কেউ কখনো পুরোপুরিভাবে ইন্ট্রোভার্ট বা এক্সট্রোভার্ট নয়। এটি মূলত একটি স্কেল। ইন্ট্রোভার্টরা একাকীত্ব থেকে শক্তি সংগ্রহ করে, আর এক্সট্রোভার্টরা মানুষের সাথে মেলামেশা থেকে শক্তি পায়। সাফল্যের ক্ষেত্রে উভয়েরই নিজস্ব সুপারপাওয়ার রয়েছে।

ইন্ট্রোভার্টরা কেন সফল হয়?
ইন্ট্রোভার্টরা দীর্ঘক্ষণ একা একা কোনো বিষয়ে গবেষণা বা জটিল কাজ করার ক্ষমতা রাখে। বিল গেটস বা মার্ক জাকারবার্গের মতো মানুষেরা এই গুণের কারণেই কোডিং বা ব্যবসায়িক মডেলে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তারা বলার চেয়ে শুনতে বেশি পছন্দ করে। ব্যবসায়িক মিটিং বা নেতৃত্বে এটি একটি বিশাল গুণ, কারণ তারা অন্যের মতামত বিশ্লেষণ করে অনেক বেশি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অ্যাডাম গ্রান্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কর্মীরা খুব উদ্যোগী হয়, তখন একজন ইন্ট্রোভার্ট লিডার বেশি সফল হন। কারণ তিনি কর্মীদের কথা শোনেন এবং তাদের আইডলজি গ্রহণ করেন।

সাফল্যের সামাজিক ও বাহ্যিক দিকগুলোতে এক্সট্রোভার্টরা প্রাকৃতিকভাবেই পারদর্শী। ব্যবসায়িক সাফল্য অনেক সময় কাকে চেনেন, তার ওপর নির্ভর করে। এক্সট্রোভার্টরা খুব দ্রুত অপরিচিতদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, যা ফান্ড রাইজিং বা মার্কেটিংয়ে বিশাল সুবিধা দেয়। জনসমক্ষে কথা বলা বা টিমকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তাদের জড়তা কম থাকে। তাদের উচ্চ শক্তি অনেক সময় পুরো টিমকে অনুপ্রাণিত করে। ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটারের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে এক্সট্রোভার্টরা অনেক সময় দ্রুত সুযোগ গ্রহণ করে এবং ঝুঁকি নিতে পছন্দ করে।

আসল বিজয়ী কে? 
মনোবিজ্ঞানীরা বর্তমানে দেখছেন যে, সবচেয়ে বেশি সফল তারা, যাদের বলা হয় এমবিভার্ট। এরা ইন্ট্রোভার্ট ও এক্সট্রোভার্ট গুণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ। ওয়ার্টন স্কুল অফ বিজনেসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিক্রয়কর্মী বা সেলস পারসনদের মধ্যে যারা এমবিভার্ট, তারা চরম ইন্ট্রোভার্ট বা চরম এক্সট্রোভার্টদের চেয়ে ২৪% থেকে ৩২% বেশি বিক্রি করতে সক্ষম। কারণ তারা প্রয়োজনে কথা বলতে জানে আবার প্রয়োজনে শুনতেও জানে।

সাফল্যের জন্য আপনার ব্যক্তিত্ব ব্যবহারের কৌশল:
নিজের একাকীত্বের সময়কে ডিপ ওয়ার্ক বা সৃজনশীল কাজে লাগান। নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য বড় গ্রুপের বদলে ওয়ান-অন-ওয়ান বা ছোট মিটিং বেছে নিন। আপনার নীরবতাকে আপনার শক্তি হিসেবে ব্যবহার করুন। কথা বলার ফাঁকে অন্যদের শোনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। মাঝে মাঝে একা সময় কাটান এবং নিজের কাজের আত্মমূল্যায়ন করুন যাতে আবেগের বসে ভুল সিদ্ধান্ত না হয়।

সাফল্য কোনো ব্যক্তিত্বের ধরণকে চিনে আসে না, বরং সাফল্য আসে আত্মসচেতনতা থেকে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের অনেকে ছিলেন ইন্ট্রোভার্ট, আবার শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদের অনেকে ছিলেন এক্সট্রোভার্ট। সফল হওয়ার মূল মন্ত্র হলো আপনার সহজাত গুণগুলো চিনতে পারা এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে নিজের আরামদায়ক সীমার বাইরে গিয়ে আচরণ করতে শেখা।


সম্পর্কিত নিউজ