ঘরেই তৈরি করুন মিশরের স্ট্রিট ফুড 'কোশারি'! সহজ রেসিপি শিখে নিন

ঘরেই তৈরি করুন মিশরের স্ট্রিট ফুড 'কোশারি'! সহজ রেসিপি শিখে নিন
ছবির ক্যাপশান, ঘরেই তৈরি করুন মিশরের স্ট্রিট ফুড 'কোশারি'! সহজ রেসিপি শিখে নিন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

ভাত আর পাস্তার কার্বোহাইড্রেট, ডাল আর ছোলার উদ্ভিদজাত প্রোটিন মিলিয়ে কোশারি হলো এক পরিপূর্ণ সুষম আহার। তার ওপর টমেটো সসের লাইকোপিন আর রসুনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একে করে তুলেছে এক ভেগান পাওয়ার হাউস।

মিশরের ব্যস্ত শহর কায়রোর রাস্তা ধরে হাঁটলে এক ধরনের সুবাস নাকে ভেসে আসে। ভাজা পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো সস আর মসলার মিশ্র গন্ধ। বড় বড় পাত্রে ধোঁয়া ওঠা ভাত, পাশে সেদ্ধ ডাল, পাস্তা, ছোলা আর লাল টকঝাল সস। দোকানের সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে মানুষ। সেই খাবারের নাম কোশারি। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি এলোমেলো সংমিশ্রণ। কিন্তু একবার স্বাদ নিলে বোঝা যায়, প্রতিটি উপাদান অন্যটির সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে যে পুরো খাবারটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য রন্ধনশিল্প। কোশারি মিশরের জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত।

খাদ্য ইতিহাসবিদদের মতে, কোশারির শিকড় উনবিংশ শতকে। তখন মিশরে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের আনাগোনা ছিল। ভারতীয় খাবার খিচুড়ি, ইতালীয় পাস্তা, আর মধ্যপ্রাচ্যের ডাল ও ছোলা, এই তিন ভিন্ন খাদ্য সংস্কৃতির উপাদান একসঙ্গে মিশে ধীরে ধীরে তৈরি হয় কোশারি। সময়ের সঙ্গে এটি রাস্তাঘাটের জনপ্রিয় খাবারে পরিণত হয়। সহজ উপাদান, কম খরচ এবং পেট ভরানোর ক্ষমতার কারণেই কোশারি দ্রুত সাধারণ মানুষের খাবার হয়ে ওঠে।

কেন কোশারি এত জনপ্রিয়?
কোশারির জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। ভাত ও পাস্তা কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে, ডাল ও ছোলা দেয় প্রোটিন ও ফাইবার। দ্বিতীয়ত, এটি নিরামিষভিত্তিক এক খাবার। তাই অনেক মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। তৃতীয়ত, এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী। তুলনামূলক সহজ উপাদান দিয়ে বড় পরিমাণে তৈরি করা যায়।

কোশারি রেসিপি:
উপকরণ:
➤ ভাতের জন্য-
☞ বাসমতি বা লম্বা দানার চাল – ২ কাপ

☞ পানি – ৩ কাপ

☞ লবণ – স্বাদমতো

☞ সামান্য তেল

➤ ডালের জন্য-
☞ মসুর ডাল – ১ কাপ

☞ পানি – ৩ কাপ

☞ লবণ – স্বাদমতো

➤ পাস্তার জন্য-
☞ ছোট ম্যাকারনি বা ছোট পাস্তা – ১ কাপ

☞ লবণ – সামান্য

➤ ছোলা-
☞ সেদ্ধ ছোলা – ১ কাপ

➤ টমেটো সস-
☞ টমেটো পিউরি – ২ কাপ

☞ রসুন কুচি – ৪ কোয়া

☞ অলিভ অয়েল – ২ টেবিল চামচ

☞ ভিনেগার – ১ টেবিল চামচ

☞ জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ

☞ মরিচ গুঁড়ো – স্বাদমতো

☞ লবণ – স্বাদমতো

➤ খাস্তা ভাজা পেঁয়াজ-
☞ বড় পেঁয়াজ – ২–৩টি (পাতলা কাটা)

☞ তেল – ভাজার জন্য

➤ ঝাল সস-
☞ কাঁচা মরিচ বা লাল মরিচ

☞ রসুন
☞ ভিনেগার

প্রস্তুত প্রণালি:
১. প্রথমে পেঁয়াজ পাতলা করে কেটে গরম তেলে ভেজে নিন। মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে ভাজতে হবে যাতে পেঁয়াজগুলো  বাদামি রঙ ধারণ করে। এগুলোই কোশারির অন্যতম স্বাদ তৈরি করে। ভাজার পর সেগুলোকে টিস্যুতে তুলে রাখুন।

২.  মসুর ডাল ভালোভাবে ধুয়ে একটি পাত্রে পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে সিদ্ধ করুন। ডাল পুরোপুরি গলে যাওয়া যাবে না, সামান্য শক্ত থাকতে হবে। এতে কোশারির টেক্সচার ভালো হয়।

৩. চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে সামান্য তেল গরম করে চাল হালকা নেড়ে নিন। এরপর পানি ও লবণ দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে ভাত রান্না করুন। ভাত ঝরঝরে হওয়া জরুরি।

৪. পাস্তা লবণযুক্ত পানিতে সিদ্ধ করুন। অতিরিক্ত নরম করা যাবে না। সিদ্ধ হলে পানি ঝরিয়ে রাখুন।

৫. প্যানে অলিভ অয়েল গরম করুন। এতে রসুন কুচি দিয়ে হালকা ভাজুন। তারপর টমেটো পিউরি, জিরা গুঁড়ো, মরিচ গুঁড়ো, লবণ দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।১০–১৫ মিনিট পরে এতে সামান্য ভিনেগার যোগ করুন। এতে সসে হালকা টক স্বাদ তৈরি হবে, যা কোশারির বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

পরিবেশন :
কোশারি সাধারণত স্তর করে পরিবেশন করা হয়।

প্রথমে প্লেটে ভাত দিন। তার ওপর মসুর ডাল ছড়িয়ে দিন।এরপর পাস্তা দিন। তার ওপর সেদ্ধ ছোলা ছড়িয়ে দিন। উপরে টমেটো সস ঢালুন। সবশেষে খাস্তা ভাজা পেঁয়াজ ছড়িয়ে দিন। যারা ঝাল পছন্দ করেন তারা আলাদা মরিচ রসুনের সসও যোগ করতে পারেন।

পুষ্টিগুণ:
কোশারি একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্য আঁশ, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি। এ কারণে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।

আজ মিশরের বড় শহরগুলোতে কোশারির জন্য আলাদা রেস্টুরেন্ট রয়েছে। রাস্তার ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় খাবারের দোকান সবখানেই এটি পাওয়া যায়।

কোশারি এমন একটি খাবার, যা দেখলে মনে হতে পারে এলোমেলো উপাদানের স্তূপ। কিন্তু একবার চামচ দিয়ে মিশিয়ে মুখে তুললেই বোঝা যায়, এটি কতটা সুস্বাদু। 


সম্পর্কিত নিউজ