জানুন বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও দানবীয় ফুলের কথা!

জানুন বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও দানবীয় ফুলের কথা!
ছবির ক্যাপশান, জানুন বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় ও দানবীয় ফুলের কথা!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

গভীর রেইনফরেস্টের স্যাঁতসেঁতে মাটিতে পড়ে আছে বিশালাকার এক মাংসল পিণ্ড, রঙ রক্তের মতো লাল। এটি কোনো এলিয়েন নয়, বরং পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল র‍্যাফ্লেসিয়া। এর সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো, একটি উদ্ভিদের যা যা থাকা দরকার অর্থাৎ কাণ্ড, পাতা বা শিকড়! এর তার কিছুই নেই! এটি কেবল অন্য গাছের ওপর পরজীবী হিসেবে বেঁচে থাকে এবং যখন ফোটে, তখন তার আকার হয় একটি বড় টায়ারের সমান।

র‍্যাফ্লেসিয়া আর্নল্ডি যখন পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়, তখন এর ব্যাস হয় প্রায় ৩ ফুট বা ১ মিটার পর্যন্ত। একটি পূর্ণাঙ্গ ফুলের ওজন হতে পারে ৭ থেকে ১১ কেজি পর্যন্ত, যা একটি ২-৩ বছরের সুস্থ মানব শিশুর ওজনের সমান! এর পাপড়িগুলো প্রায় আধা ইঞ্চি পুরু হয়ে থাকে।

কেন একে মৃতদেহ ফুলবলা হয়?
সুন্দর নাম থাকলেও এই ফুলের গন্ধ অত্যন্ত বাজে রকমের হয়ে থাকে। একে স্থানীয়ভাবে কর্পস ফ্লাওয়ার বা মৃতদেহ ফুল বলে। ফুলটি থেকে পচা মাংসের মতো তীব্র বাজে দুর্গন্ধ বের হয়। এই গন্ধের মাধ্যমে সে মাংসাশী মাছি এবং পোকাদের আকর্ষণ করে, যারা পরাগায়ণে সাহায্য করে।

সাধারণ গাছ যেভাবে সালোকসংশ্লেষণ করে নিজের খাবার তৈরি করে, র‍্যাফ্লেসিয়া তা করে না। এর কোনো সবুজ পাতা, কাণ্ড বা শিকড় নেই। এটি মূলত এক ধরণের আঙুর লতার ভেতরে বাস করে এবং সেই লতা থেকেই সব পুষ্টি শুষে নেয়। বছরের বেশিরভাগ সময় এটি লতার ভেতরে অদৃশ্য অবস্থাতে থাকে, কেবল ফুল ফোটার সময় বাইরে বেরিয়ে আসে।

এই ফুলটি ফোটা দেখতে পাওয়া অত্যন্ত ভাগ্যের ব্যাপারই বটে। একটি কুঁড়ি থেকে ফুল ফুটতে সময় লাগে প্রায় ৯-১০ মাস। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় ফুলটি ফুটে থাকার পর মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন জীবিত থাকে। এরপর এটি দ্রুত পচে কালো পিণ্ডের মতো হয়ে যায়।

বন উজাড় হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে র‍্যাফ্লেসিয়া এখন বিলুপ্তপ্রায় একটি  উদ্ভিদ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রেইনফরেস্ট ছাড়া এটি পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। বনের বাস্তুসংস্থানে পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রণে এবং জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইন্দোনেশিয়ায় এই ফুলটি একটি জাতীয় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত এবং এটি দেখার জন্য প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক সেখানে ভিড় করেন।


সম্পর্কিত নিউজ