{{ news.section.title }}
কেন খোলস পাল্টায় সাপ? জানুন প্রকৃতির অদ্ভুত ও রহস্যময় এই কাহিনি!
ঝোপঝাড় বা পুরনো দেয়ালের কোণায় কখনো কখনো লম্বা, রুপালি রঙের এক স্বচ্ছ আবরণ দেখা যায়। প্রথম দেখলে মনে হতে পারে কোনো সাপের মৃতদেহ। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় সেটি কেবল একটি শূন্য খোলস। সাপটি মারা যায়নি, বরং সে নিজের পুরনো সত্তাকে ঝেড়ে ফেলে নতুন এক রূপ নিয়ে বেরিয়ে গেছে। প্রকৃতির এই অদ্ভুত রূপান্তরকে বলা হয় একডাইসিস।
সাপের চামড়া খুব বেশি প্রসারিত হতে পারে না। ফলে সাপ যখন বড় হয়, তখন পুরোনো ত্বক শরীরের জন্য ছোট হয়ে যায়। মানুষের ত্বক ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় এবং নতুন কোষ তৈরি করে পুরোনো কোষ ঝরিয়ে দেয়। কিন্তু সাপের ক্ষেত্রে পুরো ত্বক একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই প্রসারিত হতে পারে। এই সীমা অতিক্রম করলে সাপ নতুন ত্বক তৈরি করে এবং পুরাতন ত্বক একসঙ্গে ফেলে দেয়। শিশু সাপের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ঘন ঘনই ঘটে। কারণ তাদের শরীর খুবই দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বয়স্ক সাপ তুলনামূলক কম ঘন ঘন চামড়া বদলায়।
জঙ্গলে বা প্রাকৃতিক পরিবেশে চলাফেরা করতে গিয়ে সাপের ত্বক প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাথর, কাঁটা বা মাটির সঙ্গে ঘর্ষণে ত্বকের উপরিভাগে ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে। চামড়া বদলানোর মাধ্যমে সাপ সেই ক্ষতিগ্রস্ত স্তরটি ফেলে দেয় এবং নতুন, সুস্থ ত্বক প্রকাশ পায়। এটি অনেকটা প্রকৃতির তৈরি স্বাভাবিক রিসেট প্রক্রিয়ার মতো।
সাপের শরীরে কখনো কখনো ক্ষুদ্র পরজীবী বা মাইট থাকতে পারে। এগুলো ত্বকের উপর বসবাস করে এবং সাপকে অস্বস্তি দেয়। চামড়া বদলানোর সময় পুরোনো ত্বকের সঙ্গে অনেক পরজীবীও ঝরে পড়ে। ফলে সাপ নতুন ত্বক নিয়ে আবার পরিষ্কার অবস্থায় ফিরে আসে।
সাপের ত্বক হলো স্তরযুক্ত। নিচের স্তরে নতুন কোষ তৈরি হতে থাকে। যখন নতুন স্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়, তখন পুরোনো স্তর ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যায়। এই সময় সাপের শরীর ও পুরোনো ত্বকের মাঝখানে তরল পদার্থ জমা হয়, যা পুরোনো চামড়াকে আলাদা করে দেয়। এর ফলে সাপ সহজে সেই চামড়া ছাড়তে পারে।
চামড়া বদলানোর আগে কী ঘটে?
চামড়া বদলানোর আগে সাপের শরীরে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। চোখ কিছুটা ঘোলা বা নীলচে দেখায় এবং শরীরের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। সাপ কিছুটা অলস বা কম সক্রিয় হয়ে পড়ে। চোখ ঘোলা দেখানোর কারণ হলো পুরোনো চোখের আবরণ আলগা হয়ে যাওয়া। সাপের চোখের ওপরও একটি স্বচ্ছ স্কেল থাকে, যা চামড়ার সঙ্গেই বদলে যায়।
চামড়া বদলানোর প্রক্রিয়া:
যখন সময় আসে, সাপ সাধারণত পাথর, গাছের ডাল বা খসখসে কোনো জিনিসে মাথা ঘষে। এতে পুরোনো চামড়ায় একটি ফাটল তৈরি হয়। এরপর সাপ ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং পুরোনো চামড়া উল্টে যেতে যেতে পুরো শরীর থেকে খুলে যায়। শেষে সেই চামড়া পুরোপুরি বেরিয়ে আসে,অনেকটা উল্টানো মোজার মতো।
কত ঘন ঘন সাপ চামড়া বদলায়?
এটি নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ে। যেমন- সাপের বয়স, প্রজাতি, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ইত্যাদি। সাধারণভাবে, ছোট সাপ বছরে ৬–১০ বার পর্যন্ত চামড়া বদলাতে পারে আর বড় সাপ বছরে ৩–৪ বার চামড়া বদলায়।
চামড়া বদলানোর সময় সাপ কেন লুকিয়ে থাকে?
এই সময় সাপের চোখ ঘোলা হয়ে যায় এবং দৃষ্টিশক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়। ফলে সে নিজেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় মনে করে। তাই অধিকাংশ সাপ এই সময় নিরাপদ কোনো জায়গায় লুকিয়ে থাকে।
সাপের যে খোলসটি আমরা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখি, সেটি আসলে তার জীবনের একটি পরিত্যক্ত অধ্যায়। তার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে নতুন ত্বক, নতুন শক্তি এবং নতুন অভিযোজনের সম্ভাবনা।