ইফতারের আগে নাকি পরে? জানুন রমজানে ব্যায়ামের সঠিক সময় ও নিয়ম

ইফতারের আগে নাকি পরে? জানুন রমজানে ব্যায়ামের সঠিক সময় ও নিয়ম
ছবির ক্যাপশান, ইফতারের আগে নাকি পরে? জানুন রমজানে ব্যায়ামের সঠিক সময় ও নিয়ম

রমজানে ইবাদত আর সিয়াম সাধনার পাশাপাশি নিজের শরীরকে সচল রাখতে পারাটাও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। অনেকেই মনে করেন রোজা রেখে ব্যায়াম করলে শরীর হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু আসল রহস্যটা লুকিয়ে আছে সময় নির্বাচনের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল সময়ে ব্যায়াম করলে ডিহাইড্রেশন বা মাংসপেশির ক্ষয় হতে পারে। কিন্তু ইফতারের ঠিক আগে বা তার কয়েক ঘণ্টা পরে ব্যায়াম করলে তা মেদ কমাতে এবং স্ট্যামিনা বাড়াতে জাদুর মতো কাজ করে। আপনার শরীরের জন্য কোনটি সেরা সময় জানুন আজকের এই প্রতিবেদনটির মাধ্যমে।

ইফতারির পূর্বে :
অনেকে ইফতারের ১ ঘণ্টা বা ৩০ মিনিট আগে হালকা ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন। একে বলা হয় ফাস্টিং কার্ডিও।

সুবিধা: পেটে খাবার না থাকায় শরীর জমানো চর্বি পুড়িয়ে শক্তি তৈরি করে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ কার্যকর। ব্যায়াম শেষ করেই ইফতার করা যায় বলে পুষ্টির ঘাটতি দ্রুত পূরণ হয়।

অসুবিধা: সারাদিন পানি পান না করায় এই সময়ে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা একদম নিচে থাকায় মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: এই সময়ে কেবল হালকা স্ট্রেচিং, ২০ মিনিট হাঁটা বা ইয়োগা করা উচিত। ভারি ওজন তোলা বা দৌড়ানো একদমই উচিত নয়।

ইফতারির পর :
অধিকাংশ ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকের মতে, ইফতারের ২-৩ ঘণ্টা পর বা রাত ৯টা - ১০টা ৩০মি. এ ব্যায়াম করার সবচেয়ে আদর্শ সময়।

সুবিধা: ইফতারের খাবারে শরীর প্রয়োজনীয় শর্করা এবং পানি পায়, যা ব্যায়াম করার শক্তি যোগায়। এই সময়ে আপনি আপনার স্বাভাবিক রুটিন অনুযায়ী ভারি ব্যায়াম বা জিম করতে পারেন।

কেন এটি সেরা: এই সময়ে শরীরের মেটাবলিজম রেট বা বিপাক হার সচল থাকে এবং পেশি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট শরীরে মজুদ থাকে। ফলে ইনজুরির ঝুঁকি কমে।

সতর্কতা: ইফতারিতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা ভারি খাবার খেলে ব্যায়াম করতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ইফতারে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ২ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ব্যায়াম শুরু করা ভালো।

সেহরির আগে:
যারা রাতে দ্রুত ঘুমান এবং ভোরে উঠতে পারেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।

সুবিধা: সেহরির আগে ব্যায়াম করে এরপর সেহরি খেয়ে নিলে সারাদিনের জন্য শরীর চার্জড থাকে।

অসুবিধা: অনেকের জন্য এই সময়ে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা কষ্টকর হতে পারে এবং এতে অনেকসময় ঘুমের চক্র ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

রমজানে নিরাপদ ব্যায়ামের নিয়ম:
☞ তীব্রতা কমান। রমজানে আপনার সাধারণ ব্যায়ামের তীব্রতা ৩০% থেকে ৫০% কমিয়ে দিন। এটি শরীর ধরে রাখার সময়, রেকর্ড গড়ার নয়।

☞ হাইড্রেটেড থাকুন। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট, যেমন ডাবের পানি পান করুন যাতে ব্যায়ামের সময় শরীর শুকিয়ে না যায়।

☞ শরীরের সংকেত বুঝুন। ব্যায়ামের সময় যদি বুক ধড়ফড় করে, অত্যাধিক ঘাম হয় বা মাথা ঝিমঝিম করে, তবে সাথে সাথে ব্যায়াম বন্ধ করে দিন।

☞ পর্যাপ্ত ঘুমান। রমজানে ব্যায়াম করলে শরীরের রিকভারি'র জন্য অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য।

☞ সেহরি ও ইফতারে জটিল শর্করা, যেমন- লাল চাল, ওটস এবং উচ্চমানের প্রোটিন, যেমন- ডিম, মুরগির মাংস, ডাল ইত্যাদি রাখুন যা পেশি ক্ষয় রোধ করবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি ওজন কমাতে চান এবং শরীর খুব বেশি ক্লান্ত না থাকে, তবে ইফতারের ঠিক আগে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। আর যদি আপনি মাসল বা স্ট্যামিনা বজায় রাখতে চান, তবে ইফতারের ২-৩ ঘণ্টা পর ভারি ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এটাও মনে রাখবেন, রোজা রাখা অবস্থায় শরীরকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ঠিক নয়।


সম্পর্কিত নিউজ