ফেলে দেওয়া খোসা থেকেই মুখরোচক আচার! স্বাদ হবে একদম নস্টালজিক!

ফেলে দেওয়া খোসা থেকেই মুখরোচক আচার! স্বাদ হবে একদম নস্টালজিক!
ছবির ক্যাপশান, ফেলে দেওয়া খোসা থেকেই মুখরোচক আচার! স্বাদ হবে একদম নস্টালজিক!

বাজারে তরমুজের দাম যখন চওড়া, তখন তার অর্ধেকটাই ফেলে দেওয়ার মানেই কি অপচয় নয়! পুষ্টিবিদরা বলছেন, তরমুজের এই সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং সিট্রুলাইন নামক এক বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং পেশির ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। সাশ্রয়ী গৃহিণী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সচেতন সবার জন্যই এটি হতে পারে এক স্মার্ট ডায়েট অপশন। কীভাবে একদম সাধারণ এই খোসাকে পুষ্টিকর কোনো খাবারে রূপান্তর করবেন, জানুন সেই প্রো টিপস।

তরমুজের খোসায় মূলত থাকে পানি এবং সেলুলোজ। এর গঠন অনেকটা শসা বা কাঁচা পেঁপের মাঝামাঝি। তাই এটি মশলা শুষে নিতে এবং দীর্ঘক্ষণ মুচমুচে থাকতে সক্ষম।

প্রস্তুত প্রণালী :
কাটার কৌশল:
তরমুজের একদম বাইরের গাঢ় সবুজ শক্ত খোসাটি পিলার দিয়ে পাতলা করে ছিলে ফেলুন। ভেতরের লাল অংশটুকু খেয়ে ফেলার পর যে তুষার-শুভ্র শক্ত অংশটি অবশিষ্ট থাকে, সেটিই আমাদের মূল উপাদান। একে ছোট ছোট কিউব বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো লম্বা ফালি করে কাটুন।

ব্লাঞ্চিং (Blanching): 
ফুটন্ত পানিতে সামান্য লবণ ও এক চিমটি ফিটকিরি দিয়ে কাটা টুকরোগুলো ২-৩ মিনিট ফুটিয়ে নিন।ফিটকিরি মুচমুচে রাখতে সাহায্য করে। এরপর দ্রুত ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এতে খোসার ভেতরের এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয় এবং আচারের রঙ উজ্জ্বল থাকে।

মশলার মিশ্রণ:
এই আচারের মূল আকর্ষণই হলো এর ব্যালেন্সড ফ্লেভার অর্থাৎ টক, ঝাল এবং মিষ্টির একটি নিখুঁত মেলবন্ধন।

যা যা লাগবে-

⇨ তেল: খাঁটি সরিষার তেল, এটি প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে।

⇨ বাটা মশলা: হলুদ ও কালো সরিষার মিশ্রিত বাটা, আদা-রসুন বাটা এবং কাঁচা মরিচ ফালি।

⇨ গুঁড়া মশলা: কাশ্মীরি লাল মরিচ, ধনিয়া গুঁড়া, ভাজা জিরার গুঁড়া এবং সামান্য বিট লবণ।

⇨ আস্ত মশলা: পাঁচফোড়ন, মেথি দানা, শুকনা মরিচ এবং তেজপাতা।

রন্ধন প্রণালী: 
⇨ প্রথমেই কড়াইতে পর্যাপ্ত সরিষার তেল ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম করুন।

⇨ আঁচ কমিয়ে পাঁচফোড়ন ও শুকনা মরিচ দিন। ⇨ মশলা ফুটে উঠলে আদা-রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত কষান।

⇨ সরিষা বাটা ও সব গুঁড়া মশলা সামান্য সিরকা  দিয়ে গুলে তেলের ওপর দিন।

⇨ মশলা থেকে তেল আলাদা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

⇨ পানি ঝরানো তরমুজের খোসাগুলো মশলায় ছেড়ে দিন।

⇨ মাঝারি আঁচে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন।

⇨খেয়াল রাখবেন যেন খোসা একদম গলে না যায়, সামান্য  'ক্রাঞ্চ' থাকা জরুরি।

⇨ এবার এতে আখের গুড় বা চিনি যোগ করুন। গুড় দিলে আচারের রঙ কালচে লাল এবং সুন্দর আঠালো হয়। সাথে দিন সিরকা। সিরকা কেবল টক স্বাদই দেবে না, এটি আচারে ফাঙ্গাস পড়া রোধ করবে।

⇨ নামানোর ২ মিনিট আগে ভাজা পাঁচফোড়নের গুঁড়া এবং সামান্য গরম মশলা ছিটিয়ে দিন। এটি আচারের সুগন্ধকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

সংরক্ষণ :
আচার তৈরির সাথে সাথেই এর আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন কিউরিং।

আচার ঠাণ্ডা হলে পরিষ্কার কাঁচের বয়ামে ভরে ওপর দিয়ে আরও কিছুটা গরম করে ঠাণ্ডা করা সরিষার তেল ঢেলে দিন, যেন ডুবন্ত থাকে। এরপর পাতলা কাপড় দিয়ে মুখটা বেঁধে ৩-৪ দিন কড়া রোদে দিন। এতে মশলা খোসার একদম কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাবে।

ভিনেগার এবং তেলের পরিমাণ সঠিক থাকলে এই আচার সাধারণ তাপমাত্রায় ৬ মাস এবং ফ্রিজে ১ বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।

কেন এটি খাবেন?
এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা রক্তনালীকে শিথিল করে এবং পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এটি লাল অংশের চেয়ে খোসায় বেশি থাকে। এটি আপনার রান্নাঘরের বর্জ্য কমিয়ে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করে।এছাড়া  আচারে ব্যবহৃত আদা, রসুন এবং পাঁচফোড়ন হজম শক্তি বাড়াতে কার্যকরী।

পরবর্তীবার তরমুজ আনলে খোসাটি ফেলে না দিয়ে এই রেসিপিটি ট্রাই করুন। এটি আপনার দুপুরের খাবারের স্বাদকে বদলে দেবে।


সম্পর্কিত নিউজ