অ্যাটমিক হ্যাবিটস: ভাগ্য বদলাতে জেমস ক্লিয়ারের ১% ফর্মুলাটি জানেন কি!

অ্যাটমিক হ্যাবিটস: ভাগ্য বদলাতে জেমস ক্লিয়ারের ১% ফর্মুলাটি জানেন কি!
ছবির ক্যাপশান, অ্যাটমিক হ্যাবিটস: ভাগ্য বদলাতে জেমস ক্লিয়ারের ১% ফর্মুলাটি জানেন কি!

আপনি কি প্রতি বছর বড় কোনো লক্ষ্য ঠিক করেন এবং কয়েক সপ্তাহ পরই হাল ছেড়ে দেন? সমস্যাটি আপনার ইচ্ছাশক্তিতে নয়, হতে পারে আপনার পদ্ধতিতে! জেমস ক্লিয়ারের বিশ্বখ্যাত বই 'অ্যাটমিক হ্যাবিটস' জানাচ্ছে সাফল্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, এটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভ্যাসের ফল।

'অ্যাটমিক' শব্দটির দুটি অর্থ আছে। একদিকে এটি ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম কিছু বোঝায়, অন্যদিকে এটি প্রচণ্ড শক্তির উৎস। জেমস ক্লিয়ারের মতে, আমাদের অভ্যাসগুলোও ঠিক তেমন। ছোট ছোট অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি যখন চক্রবৃদ্ধি হারে কাজ করতে শুরু করে, তখন তা সময়ের ব্যবধানে অকল্পনীয় ফলাফল বয়ে আনে। বইটির মূল দর্শন হলো আপনার লক্ষ্যের চেয়ে আপনার সিস্টেম বা প্রক্রিয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

জেমস ক্লিয়ার তার বইটিতে একটি চমৎকার গাণিতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আপনি যদি প্রতিদিন কোনো কাজে মাত্র ১ শতাংশ উন্নতি করতে পারেন, তবে বছর শেষে আপনি সেই কাজে আগের চেয়ে প্রায় ৩৭ গুণ বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন। একে বলা হয় 'দ্য পাওয়ার অফ টাইনি গেইন্স'। বিপরীতে, প্রতিদিন ১ শতাংশ করে অবনতি হলে বছর শেষে আপনার দক্ষতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। সাফল্যের এই গ্রাফটি শুরুতে খুব ধীর মনে হলেও, একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা রকেটের গতিতে উপরে উঠতে থাকে।

আমরা সাধারণত ওজন কমানো বা বই লেখার মতো লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকি। কিন্তু বইটিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য কেবল দিক নির্দেশ করে, আর সিস্টেম আপনাকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। জেমস ক্লিয়ারের মতে, "আপনি আপনার লক্ষ্যের উচ্চতায় পৌঁছান না, বরং আপনার সিস্টেমের নিম্নতম স্তরে এসে স্থির হন।" অর্থাৎ, আপনার প্রতিদিনের রুটিন বা সিস্টেম যদি শক্তিশালী না হয়, তবে কেবল লক্ষ্য দিয়ে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব নয়।

 

বিজ্ঞানের ভাষায় প্রতিটি অভ্যাস চারটি ধাপের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। জেমস ক্লিয়ার এই লুপটিকে ব্যবহার করে অভ্যাস গড়া বা ভাঙার চারটি সহজ সূত্র দিয়েছেন:

১। সংকেত (Cue): যা আমাদের মস্তিষ্ককে কোনো কাজ শুরু করতে উদ্দীপনা দেয়। (সূত্র: একে দৃশ্যমান করুন)।

২। আকাঙ্ক্ষা (Craving): কাজটি করার পেছনের অনুপ্রেরণা। (সূত্র: একে আকর্ষণীয় করুন)।

৩। সাড়া (Response): মূল কাজটি সম্পাদন করা। (সূত্র: একে সহজ করুন)।

৪। পুরস্কার (Reward): কাজটি শেষে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়। (সূত্র: একে সন্তোষজনক করুন)।

অধিকাংশ মানুষ তাদের অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করে ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে। যেমন: আমি ধূমপান ছাড়তে চাই। কিন্তু লেখক বলছেন, প্রকৃত পরিবর্তন আসে যখন আপনি আপনার পরিচয় পরিবর্তন করেন। কেউ যখন বলে "আমি ধূমপান করি না" তার বদলে যদি বলে "আমি ধুমপায়ী নই", তখন তার মস্তিষ্ক সেই নতুন পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আচরণ করতে শুরু করে। আপনি যখন নিজেকে একজন লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করবেন, তখন প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা লেখা আপনার জন্য সহজ হয়ে যাবে।
 

বাস্তব জীবনে প্রয়োগের জন্য ৩টি কার্যকরী কৌশল :

 ১। হ্যাবিট স্ট্যাকিং: আপনার বর্তমান কোনো একটি দৃঢ় অভ্যাসের সাথে নতুন একটি অভ্যাস যোগ করুন। যেমন: সকালে কফি খাওয়ার পর আমি ২ মিনিট মেডিটেশন করব।

 ২। দুই মিনিটের নিয়ম: যেকোনো নতুন অভ্যাস শুরু করার সময় এমনভাবে ছোট করুন যাতে তা করতে মাত্র ২ মিনিট সময় লাগে। যেমন: "ব্যায়াম করা" এর বদলে "ব্যায়ামের পোশাক পরা" বা "৫ কি.মি. দৌড়ানো" এর বদলে "১ মিনিট হাঁটা"। 

শুরুটা সহজ হলে বিরক্তি আসে না।

 ৩। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে আপনার চারপাশকে এমনভাবে সাজান যাতে ভালো অভ্যাসটি করা সহজ হয়। পানি খাওয়ার অভ্যাস করতে চাইলে আপনার টেবিলের ওপর একটি পানির বোতল সবসময় দৃশ্যমান রাখুন।

আমরা অনেক সময় বড় পরিবর্তনের আশায় বসে থাকি, কিন্তু প্রকৃত বিপ্লব ঘটে ছোট ছোট পদক্ষেপের নিরবচ্ছিন্ন চর্চায়। জেমস ক্লিয়ারের এই সূত্রগুলো অনুসরণ করলে জীবনকে নতুনভাবে সাজানো পাশাপাশু তা হয়ে ওঠে অত্যন্ত আনন্দদায়ক একটি যাত্রা।


সম্পর্কিত নিউজ