অসহ্য চুলকানি ও অস্বস্তি?ভেজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন চেনার লক্ষণ ও প্রতিকার!

অসহ্য চুলকানি ও অস্বস্তি?ভেজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন চেনার  লক্ষণ ও  প্রতিকার!
ছবির ক্যাপশান, অসহ্য চুলকানি ও অস্বস্তি?ভেজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন চেনার লক্ষণ ও প্রতিকার!

যোনিপথে অস্বস্তিকর চুলকানি কিংবা জ্বালাপোড়া? যোনিপথের ইস্ট ইনফেকশন যেন এখন এক সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এর মূলে রয়েছে আপনার শরীরের ভেতরের এক অণুজীব নগরীর বিশৃঙ্খলা। অতিরিক্ত যত্নই অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর প্রজননতন্ত্রের ক্ষেত্রে এটি একদম ধ্রুব সত্য। আমরা অনেকেই ক্লিন থাকতে দামী সুগন্ধি ওয়াশ বা সাবান ব্যবহার করি, কিন্তু এই অতিরিক্ত যত্নই শরীরের প্রাকৃতিক ডিফেন্স সিস্টেম ধ্বংস করে দিচ্ছে না তো! ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া যখন তার ডিউটিতে শুরু করে গাফিলতি, ঠিক তখনই ক্যানডিডা নামক জেদি ইস্ট সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

আজকে আমরা আলোচনা করবো যোনিপথের পিএইচ (pH) ব্যালেন্সের বিজ্ঞান, যা জানলে আপনি আর কখনোই ভুল প্রসাধনী হাতে নেবেন না!

কেন এবং কীভাবে ঘটে এই আক্রমণ?
ইস্ট ইনফেকশন কেবল একটি উপরিভাগের সমস্যা নয়, এর সাথে শরীরের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়া জড়িত।

১. হরমোনের প্রভাব: গর্ভাবস্থায় বা পিরিয়ডের আগে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে গেলে যোনিপথে বাড়তি গ্লাইকোজেন (এক ধরনের চিনি) জমা হয়। এই বাড়তি চিনিই ইস্টের জন্য উপকারী হিসেবে কাজ করে।

২. অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি শরীরের উপকারী ল্যাকটোব্যাসিলাসকেও মেরে ফেলে। ফলে ইস্ট দমনের আর কেউ থাকে না।

৩. ডায়াবেটিস: যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত, তাদের শরীরের তরল পদার্থে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, যা ইস্টের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৪. ইমিউন সিস্টেম: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ইস্ট শরীরের প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে ফেলে।

লক্ষণ দেখে চেনার উপায়:
সব চুলকানিই ইস্ট ইনফেকশন নয়। এর বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য হলো:

☞ স্রাবের প্রকৃতি: ছানা কাটা দুধ বা দইয়ের মতো ঘন ও সাদা স্রাব।

☞ গন্ধ: তীব্র পচা গন্ধ থাকে না, তবে সামান্য টক গন্ধ থাকতে পারে।

☞ জ্বালাপোড়া: যোনিপথের চামড়ায় ছোট ফাটল  দেখা দেওয়া এবং প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালা করা।

☞ লালচে ভাব: আক্রান্ত স্থান অস্বাভাবিক লাল হয়ে যাওয়া এবং ঘর্ষণজনিত ব্যথা।

প্রতিকারের প্রাকৃতিক পদ্ধতি:
১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন : ইস্ট চিনি খেয়ে বেঁচে থাকে, তাই ডায়েট থেকে চিনি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট (ময়দা, সাদা চাল) কমিয়ে দিন।
দিনে অন্তত এক বাটি টক দই খান। এর জীবন্ত ল্যাকটোব্যাসিলাস শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ফেরাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া  রসুনের অ্যালিসিন এবং নারকেল তেলের লরিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে।

২. পরিচ্ছন্নতার সঠিক বিজ্ঞান: যোনিপথের ভেতর পানি বা সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
মলত্যাগের পর সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে (Front to Back) পরিষ্কার করুন। উল্টোটা করলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যোনিপথে প্রবেশ করতে পারে। ভেজা বা ঘামাক্ত অবস্থায় থাকা ইস্টের বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ। তাই গোসলের পর দ্রুত জায়গাটি শুকিয়ে ফেলুন।

৩. পোশাক নির্বাচন:
সিন্থেটিক বা সিল্কের বদলে সবসময় ১০০% সুতি  অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরা ভালো যাতে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
☞ যদি বছরে ৪ বারের বেশি ইনফেকশন হয়।

☞ যদি আপনি গর্ভবতী হন।

☞ ওষুধের ব্যবহারের ৩ দিনের মধ্যেও কোনো উন্নতি না হলে।

☞ যদি জ্বরের সাথে পেটে ব্যথা অনুভূত হয়।

ইস্ট ইনফেকশন কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার একটি সংকেত। সঠিক পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা এবং সচেতনতাই পারে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে।


সম্পর্কিত নিউজ