{{ news.section.title }}
লার্নিং পিরামিড: স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর গোপন সূত্রটি কি আপনার জানা আছে!
সারারাত জেগে পড়লেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো লেকচার মন দিয়ে শুনলেন, অথচ দুদিন পরেই মনে হচ্ছে মাথায় একদম 'ব্ল্যাঙ্ক'! কিচ্ছুই মনে নেই! এমনটা কি আপনার সাথে প্রায়ই হয়? ভয় পাবেন না, আপনি একা নন! মনোবিজ্ঞানী হারমান ইবিংহাউসের সেই বিখ্যাত 'ফরগেটিং কার্ভ' বলছে, আমরা যা শিখি তার প্রায় ৯০ শতাংশই আমাদের মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলে। কিন্তু কেন এই ডিলিট অপারেশন? আজকের প্রতিবেদনটিতে আমরা ফাঁস করব সেই 'লার্নিং পিরামিড', যা ব্যবহার করলে আপনার পড়া তথ্য আর কখনোই মুছে যাবে না।
মস্তিষ্ক কি একটি ঝুড়ি নাকি ছাঁকনি!
অনেকেই মনে করেন মস্তিষ্ক একটি হার্ডড্রাইভের মতো যেখানে সব তথ্য জমা থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে মস্তিষ্ক একটি অত্যন্ত উন্নত ছাঁকনি। প্রতিদিন আমরা লক্ষ লক্ষ তথ্য গ্রহণ করি। যদি আমাদের মস্তিষ্ক সব মনে রাখত, তবে অতিরিক্ত তথ্যের চাপে আমরা পাগলই হয়ে যেতাম! তাই মস্তিষ্ক কেবল সেই তথ্যগুলোই স্থায়ী স্মৃতিতে পাঠায়, যেগুলো বারবার ব্যবহৃত হয় বা যেগুলোর সাথে আমাদের আবেগ জড়িয়ে থাকে। বাকি তথ্যগুলোকে সে অপ্রয়োজনীয় মনে করে এবং ডিলিট করে দেয়
আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রেনিং ল্যাবরেটরিজের গবেষণা অনুযায়ী, আমরা কোন পদ্ধতিতে তথ্য গ্রহণ করছি, তার ওপর ভিত্তি করে স্মৃতির স্থায়িত্ব নির্ধারিত হয়।
কেন আমরা ৯০% ভুলে যাই?
১. ইবিংহাউসের ফরগেটিং কার্ভ: ১৮৮৫ সালে মনোবিজ্ঞানী হারমান ইবিংহাউস আবিষ্কার করেন যে, মানুষ কোনো নতুন তথ্য শেখার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে ৪২% ভুলে যায়। ২৪ ঘণ্টা পার হতে হতে সেই হার গিয়ে দাঁড়ায় ৬৭% এবং এক মাস পর কেবল ১০-২০% তথ্য অবশিষ্ট থাকে। যদি তথ্যটি বারবার রিভিউ না করা হয়, তবে নিউরাল পাথওয়েগুলো দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যায়।
২. হিপোক্যাম্পাসের ফিল্টারিং: আমাদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশটি স্মৃতির গেটকিপার হিসেবে কাজ করে। ঘুমের সময় এটি নির্ধারণ করে কোন তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি আবর্জনা। আমরা যখন নিষ্ক্রিয়ভাবে কিছু পড়ি, হিপোক্যাম্পাস তাকে গুরুত্ব দেয় না এবং ঘুমের মধ্যে সেই তথ্যের সিন্যাপটিক সংযোগগুলো ভেঙে ফেলে।
৩. মেমোরি ইন্টারফারেন্স: যখন আমরা পরপর অনেকগুলো নতুন বিষয় শিখি, তখন পুরনো তথ্য আর নতুন তথ্য একে অপরের সাথে মিশে যায়। একে বলা হয় ইন্টারফারেন্স। অতিরিক্ত তথ্যের চাপে মস্তিষ্ক কনফিউজড হয়ে পড়ে এবং ডেটা ওভাররাইট করে ফেলে।
স্মৃতিশক্তি অজেয় করার কৌশল:
আপনি যদি চান আপনার শেখা জিনিসের ৯০% মনে থাকুক, তবে নিচের ৩ টি পদ্ধতি ব্যবহার করুন:
☞ এক্টিভ রিকল (Active Recall): বই বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন। যা পড়লেন তা মনে করার চেষ্টা করুন। ব্রেইন যখন তথ্যটি খুঁজে বের করতে কষ্ট করে, তখন সেই স্মৃতি আরও মজবুত হয়।
☞ স্পেসড রিপিটেশন (Spaced Repetition): একই জিনিস প্রতিদিন না পড়ে একটি নির্দিষ্ট বিরতিতে পড়ুন। যেমন: আজ পড়ার পর ১ দিন পর, তারপর ৩ দিন পর, তারপর ৭ দিন পর এবং ১ মাস পর রিভিউ করুন। এতে ফরগেটিং কার্ভটি সোজা হয়ে যায় এবং তথ্যটি স্থায়ী স্মৃতিতে জমা হয়।
☞ অন্যকে শেখানো (The Feynman Technique): কোনো বিষয় শেখার পর সেটি এমনভাবে কাউকে বোঝান যেন সে এই বিষয়ে একদম নতুন। যদি কাউকে না পান, তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই বোঝান। এটি লার্নিং পিরামিডের সর্বোচ্চ ধাপ।
ভুলে যাওয়া কোনো ব্য এটি মস্তিষ্কের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু আপনি যদি লার্নিং পিরামিডের সূত্র মেনে সক্রিয় পদ্ধতিতে শিখতে পারেন, তবে আপনার মস্তিষ্ক তথ্যগুলোকে আর আবর্জনা মনে করবে না। সফল মানুষরা বেশি পড়েন না, বরং তারা যা পড়েন তা বারবার প্র্যাকটিস করেন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করেন।